গ্রেফতার হলেন রাবির বহিষ্কৃত ছাত্র আশিকুল্লাহ

প্রকাশিত: জুন ২৯, ২০২২; সময়: ১০:৫২ অপরাহ্ণ |

রাবি প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বিভাগের শিক্ষিকাকে শ্রেনীকক্ষে লাঞ্ছিতের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কারের পর গ্রেফতার হয়েছেন আশিক উল্লাহ নামে এক শিক্ষার্থী। বুধবার (২৯ জুন) বিকেলে প্রফেসর বেগম আসমা সিদ্দিকা বাদী হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আশিক উল্লাহর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

এরই প্রেক্ষীতে অভিযুক্ত আশিকুল্লাহকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার আলী তুহিন।

এরআগে, সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগের প্রফেসর বেগম আসমা সিদ্দিকাকে শ্রেনীকক্ষে লাঞ্ছিত করার করার অভিযোগ উঠে একই বিভাগের শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত একই বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী আশিক উল্লাহকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।

বহিষ্কারের নোটিশ থেকে জানানো হয়েছে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আশিক উল্লাহ দীর্ঘ দিন যাবত শিক্ষক,শিক্ষার্থীদের সাথে অশোভন আচরণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। বিভিন্ন সময় শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের হত্যার হুমকি দিয়েছে। আজ বুধবার শ্রেণী কক্ষে প্রফেসর বেগম আসমা সিদ্দিকাকে হেনস্তা করার ঘটনায় শিক্ষার্থীদের দাবি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি রক্ষার্থে শৃঙ্খলা কমিটি ও সিন্ডিকেট রিপোর্ট সাপেক্ষে তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হলো।

আইন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, আশিক উল্লাহ নামে ওই শিক্ষার্থী বিভিন্ন সময় বিভাগের মেয়েদের হেনস্তাসহ বিভাগের শিক্ষকদের নামেও কটাক্ষ করে তার নিজস্ব ‘আশিক নামা’ পেজ থেকে পোস্ট দিতো। আজ সকাল ১০টায় হঠাৎ ক্লাস চলাকালে আশিক উল্লাহ নামে ওই শিক্ষার্থী প্রবেশ করে এবং ক্লাসের দরজা বন্ধ করে শিক্ষিকাকে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করে। সেসময় তাকে মারধর করতেও উদ্বত হয়। এসময় সে শিক্ষিকা বের হওয়ার চেষ্টা করলে বাঁধা দেয় আশিক। এসময় ক্লাসে থাকা অন্যান্য শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে ক্লাস থেকে বের হন ওই শিক্ষক। কয়েক শিক্ষার্থী এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানালে তাদেরকেও হত্যার হুমকি দেয় বলে জানা গেছে। এ ঘটনার পর থেকে তাকে বহিষ্কারের দাবিসহ তিনদফা দাবিতে বিভাগের সামনে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা।

আইন বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. হাসিবুল আলম প্রধান বলেন, এ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অনেক আগেই আমরা কমপ্লেইন পেয়েছি। আমরা একাডেমিভাবেও ব্যবস্থা নিচ্ছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সাময়িক বহিষ্কারের আদেশ দেয়া হয়েছে এবং স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া চলছে।

প্রক্টর প্রফেসর আসাবুল হক জানান, এই শিক্ষার্থীর নামে অনেক অভিযোগ রয়েছে। আমরা চেয়ে ছিলাম ছেলেটি এখান থেকে পাশ করে বেরিয়ে যাক। কিন্তু সে এমন কাজ করতেছে সেটা অবশ্যই শাস্তিযোগ্য। পূর্বের এবং আজকের অভিযোগ ভিত্তিতে তার নামে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেই তদন্ত কমিটির রিপোর্ট শৃঙ্খলা কমিটিতে যাবে তারপর সিন্ডিকেটে তাকে স্থায়ী ভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। মাননীয় ভিসি স্যার ওই শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কারের আদেশ দিয়েছেন।

উপরে