ফিচারমতামত

দেশকে এগিয়ে নিতে পর্যটন খাতকে গুরুত্ব দিন

সবাই ভ্রমণ করতে চাইলেই কেন যেন, শুধু বিদেশের দিকে আগ্রহী হই কিন্তু এই করোনা কালে দেশের বাইরেতো যাওয়া যাবে না।
যারা পর্যটন নিয়ে কাজ করে তাই আমাদের এই সুযোগে দেশের পর্যটন নিয়ে কাজ করতে হবে।

ভিন্ন দেশীও নামীদামী বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান যেমন চিনের প্রাচীর, নীল নদ, ডিজনিল্যান্ড, আইফেল টাওয়ার, সিডনি, ক্যালিফোর্নিয়া, আগ্রা, লাস ভেগাস, সান সিটি, হাওয়াইই, মায়ামি এইগুলোও চেয়ে যে, আমাদের দেশের পর্যটনীয় স্থান কক্সবাজার এর মতো সোনালী টট্টরেখা, কুয়াকাটার মতো বিশাল সমুদ্র সৈকত, পার্বত্য চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, ময়নামতি, পাহাড়পুর, মাধবকুন্ড, জাফলং, সবুজের রাজ্যে সুন্দরবন ইত্যাদি ইত্যাদি উপস্থাপন করতে হবে।

অন্যের সফলতা আর নিজের ব্যর্থতা দেখে দুর্বল হয়ে পড়ি আমরা, আর তাই হয়তো ছুটে যায় ভিন্ন দেশে। কিন্তু এই দেশেও আছে ভ্রমণ প্রেমীদের জন্য দর্শনীয় স্থান। আমাদের যাবতীয় পুড়া কৃতি সমূহ এবং নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য স্থান গুলো পর্যটকদের সুবিধা খেয়াল রেখে ঢেলে সাজাতে হবে আরোও আকর্ষণীয় করে উপস্থাপন করতে হবে সবার সামনে। কিন্তু শুধু করোনা কালে নয় করতে হবে স্থায়ী ভাবে।

আমাদের দেশের কক্সবাজার, যেখানে পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত, যার তীর ঘেসা পাহাড়ের সাড়িতে বাহারি গাছের হরেক রকমের মেলা। কুয়াকাটাই স্বর্গীয় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মাঝে যেখানে দেখা যায় পৃথিবীর দুর্লভ দৃশ্য এককী টট্ট রেখাই সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত। সেখানে কেন মানুষ যাবে ফ্রেঞ্চ রিভিয়েরা বা ওয়াইকিকি ব্রিজে ?
তার কারণ হলো পর্যটকদের বিশেষ কিছু সুবিধা। আমি মনে করি, আমরা সবাই মিলে কাজ করলে আমরাও সেই সুবিধা দিতে পারবো।

আমাদের দেশ শুধু বন্যা ও খরার দেশ নয়। বরং এই দেশ চিম্বুক হিমছড়ির দেশ, এই দেশ রয়েল বেঙ্গল টাইগারের দেশ। বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে শোভাময় এক লীলাভূমি। এই দেশের প্রতিটি পরাতে পরাতে ছড়িয়ে আছে অপার সৌন্দর্যের সমাহার। সৌন্দর্যের বৈচিত্র্যতা বহুগুণ বাড়িয়েছে সবুজে শোভিত আমাদের পর্যটনের স্থান গুলো।

যেভাবে আমাদের দেশের মানুষেরা পর্যটন প্রেমী হচ্ছে তাতে আগামী দিন গুলোতে তারা নিজেদের দেশকে জানার জন্য হলেও ঘুরতে বের হবে।
তবে হে, আমরা যারা পর্যটন নিয়ে কাজ করি আমাদের করোনা পরিস্থিতি সব এলোমেলো করে দিয়েছে। সারাবিশ্বে স্থবির হয়ে পড়েছে পর্যটন। তাই বলে তো আর জীবন থেমে থাকবে না। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও সরকারি নির্দেশনা মেনে চলে পর্যটনখাত নিয়ে কাজ করে দেশ কে এগিয়ে নিতে হবে। বাংলাদেশে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রয়োজন শুধু প্রসার প্রচারণা ও সঠিক পরিকল্পনা।

রুকনুজ্জামান

লেখক-
রুকনুজ্জামান
টিকেট এক্সিকিউটিভ
নিবিড় ইন্টারন্যাশনাল ট্যুরস্ এন্ড ট্রাভেন্স্

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
You cannot copy content of this page
Close
Close