টপ নিউজ

পানির সঙ্গেই বসবাস

আবু সাঈদ সজল, হিজলা থেকে: গোলাভরা ধান, গোয়ালভরা গরু। পুকুরে মাছের খুনসুটি। বাজারে লোক সমাগম। এমনি একটি আদর্শ গ্রাম ডিক্রিরচর। বরিশালের হিজলা থানার মেমানিয়া ইউনিয়নের অন্তর্গত গ্রামটি। সব ঠিকঠাক চলছিল। কিন্তু গত বুধবার থেকে পানির সঙ্গেই বসবাস করছে এ গ্রামের মানুষ।

পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও পূর্ণিমার প্রভাবে হঠাৎ করেই পানি বেড়ে যায়।

স্রোতের সহিত দ্রুতগতিতে পানি বেড়ে ডুবে গেছে পুরো গ্রাম। পুকুরের মাছ, ফসলসহ ঘরবাড়ী হারিয়ে নিঃস্ব অনেকেই। জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ার নিন্মাঞ্চলের রাস্তা-ঘাট, হাট-বাজার, বাসা-বাড়ি, স্কুলে জোয়ারের পানি ঢুকে কৃত্রিম বন্যার সৃষ্টি হয়েছে।

একইসাথে পুকুর ও ঘেরের মাছসহ কয়েকশ’ হেক্টর ফসলি জমির বীজতলা তলিয়ে গেছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যোগাযোগব্যবস্থা। বাসা-বাড়ি, গ্যারেজ, দোকানে পানি ঢুকে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। রাস্তাঘাট তলিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েন এলাকাবাসী।

এছাড়া, মেঘনা নদীর পানি ১১৪ সেন্টিমিটার বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় প্রবল স্রোতে নদী ভাঙ্গনে ফসলি জমি, বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট বিলীন হয়ে গেছে।

মাথার উপরে শুধু আকাশটাই শূন্য নয় এ বয়সে রহিমা বেগমের যেন সব কিছুই শূন্যের ঘরে। মেঘনা নদীর পাড়ে বাড়ী হওয়ায় সাধের ঘরসহ ফসলী জমিসহ প্রকৃতি তার সব কিছু কেড়ে নিয়েছে। তার চোখ জুড়ে এখন পানি আর স্রোত। সব হারিয়ে চোখের জলও হারিয়ে গেছে। শুধু ফ্যাল ফ্যাল করে নির্বাক চাহনি। কে দিবে সাহায্য, সেই চাওয়াটাও যেন হারিয়ে গেছে। একদিকে করোনার প্রকোপ, অন্যদিকে ইউনিয়নের হাজার হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। লাখ লাখ টাকার মাছ পানিতে ভেসে গেছে। ব্যাপকভাবে ক্ষতি হয়েছে ফসলের।

শুধু রহিমাই নন এমন দু:সহ জীবনের গল্প এখন ডিক্রিরচরসহ তার পার্শ্ববর্তী মেঘনার কোল ঘেষে আবুপুর গ্রামের অনেক ঘরেই।

৭০ বছর বয়সী আব্দুর রহমান জানান, বন্যা সব ডুবে গেছে। কোথাও থাকার জায়গা নেই। অনেক কষ্টে দিন পার করছি।

আব্দুর রহমান আরও জানান, “আটানব্বই সালের পর এমন বন্যা আর দেখি নি, সব পানিতে ভাইসা গেছে”। একদিকে বন্যার পানিতে ডুবে আছি অন্যদিকে করোনায় ক্ষতি আমাদের গরীবের এখন উপায় কী? নদীতে অতিরিক্ত স্রোতের কাছে অসহায় জেলেরাও। পানি থেকে কবে মিলবে মুক্তি সেদিকে চেয়ে সবাই।

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
You cannot copy content of this page
Close
Close