ফিচার

নওগাঁয় মৎসচাষীদের স্বপ্ন ভাসছে বন্যার জলে


নওগাঁ প্রতিনিধিঃ নওগাঁ সদর উপজেলার দুবলহাটি ইউনিয়নের কালিপুর গ্রামের যুবক মাসুদ রানা (৩২)। অনেক স্বপ্ন বুকে নিয়ে এ বছর তিনি নিজের তিনটি পুকুরে প্রায় ৭ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন মাছের প্রকল্পে। একই গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক ৫টি পুকুর এবং একটি খালে প্রায় ১৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন। এই প্রকল্প নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল তাঁদের। সেই স্বপ্ন ফিকে করে দিয়েছে বন্যা। উজান থেকে নেমে আসা বন্যার পানিতে তাঁদের প্রকল্পের সব মাছ ভেসে গেছে। ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তাঁরা।
শুধু মাসুদ রানা এবং রাজ্জাকই নন, তাঁদের মতো আরও শত শত মৎস্যচাষীর স্বপ্ন ধুলিসাৎ করে দিয়েছে বন্যার পানি।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এবারের বন্যায় জেলায় ৩৭১ হেক্টর জলার মোট ৫৬৩টি খামারের ২৫ কোটি ৫ লাখ টাকার মৎস্যসম্পদের ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে আত্রাই উপজেলায়। এ উপজেলায় ৩০৭টি মৎস্য খামারের মাছ ভেসে গেছে। এছাড়া সদর উপজেলায় ১৩৫টি, মান্দায় ৭০টি এবং রাণীনগর উপজেলায় ৩২টি খামারের মৎস্যসম্পদের ক্ষতি হয়েছে।
বান্দাইখাড়া এলাকায় স্লাইসগেট দিয়ে আত্রাই নদের পানি হাঁসাইগাড়ী খালে ঢুকে এবং ভারী বর্ষণের কারণে উজান থেকে নেমে আসা বন্যার পানিতে গত এক সপ্তাহ ধরে সদর উপজেলার গুটারবিল, বিল মনছুর ও দিঘলীর বিলের পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইতোমধ্যে বন্যার পানিতে সদর উপজেলার হাঁসাইগাড়ী, বলিহার, শিকারপুর ও দুবলহাটি এলাকার শতাধিক খামারের মৎস্যসম্পদ ভেসে গেছে। এতে পুঁজি হারিয়ে পথে বসেছেন অর্ধশতাধিক খামারি।
সদর উপজেলার কালিপুর গ্রামের বাসিন্দা মৎস্যচাষী আশরাফুল আলী মন্ডল বলেন, ‘বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে এবং আবাদি জমি বন্ধক রেখে এ বছর ৫টি পুকুরে মাছের প্রকল্পে ১০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছিলাম। দুই মাস আগে পুকুরগুলোতে পোনা ছেড়েছিলাম। এসব পুকুরে ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকার মাছ বিক্রির আশা ছিল। আর কিছু দিন হলেই মাছগুলো বিক্রির উপযুক্ত হতো। কিন্তু এক সপ্তাহ আগে বন্যার পানিতে সবকটি পুকুর তলিয়ে সব মাছ ভেসে গেছে।’
আত্রাই উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা পলাশ চন্দ্র দেবনাথ জানান, জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে আত্রাই নদের বাঁধ ভেঙে উপজেলার হাটকালুপাড়া, মিরাট, সাহাগোলা ও বিশা ইউনিয়নের ২৮৫ হেক্টর জলার ৩০৭টি খামারের মাছ ভেসে গেছে। এতে ক্ষতির পরিমান প্রায় ১২ কোটি টাকা।
ভারপ্রাপ্ত জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘বন্যায় জেলায় মৎস্য সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। নদ-নদীর পানি কমলেও নওগাঁর সদর উপজেলার নিন্মাঞ্চল এলাকায় বিল মনসুর, গুটারবিল ও দিঘলীর বিলের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এতে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন মৎস্য খামার তলিয়ে যাওয়ার তথ্য আসছে। প্রতি উপজেলা থেকে তথ্য নিয়ে ক্ষতির একটা পরিমান নির্ধারণ করা হয়েছে। বন্যায় ২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন মাছের ক্ষতির হয়েছে। টাকার অংকে ক্ষতির পরিমান ২৫ কোটি ৫ লাখ টাকা।’
তিনি আরও বলেন, মৎস্যচাষীদের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার জন্য ক্ষতিগ্রস্থদের প্রণোদনা দেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ে চাহিদা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে তা ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে বিতরণ করা হবে।#

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
You cannot copy content of this page
Close
Close