দেশজুড়েপাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়শিক্ষা

ইউএনও ওয়াহিদা খানমের হামলাকারীদের বিচার চায় রাবি শিক্ষার্থীরা

আবু সাঈদ সজল, রাবি: দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সাবেক শিক্ষার্থী ওয়াহিদা খানমের বাসায় ঢুকে বর্বর হামলার ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু বিচার চেয়েছেন রাবি শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনার  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন তারা। এতে সংহতি প্রকাশ করে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সচেতন শিক্ষকরাও।

বিশ্ববিদ্যালয় সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মুশফিকা তাসলিম বলেন, ইউএনও ওয়াহিদা খানমকে জখমের সুষ্ঠু  বিচার যদি না হয় তবে বাংলাদেশের যেসব নারীরা সরকারি কর্মকর্তা হয়ে দেশের সেবায় নিয়োজিত হবার স্বপ্ন দেখেন তারা আশাহত হবেন। পরিবারের মানুষগুলো ভয় পাবেন মেয়েকে সেই আসনে বসতে দিতে। তাই এই জঘন্য কাজের সাথে লিপ্ত সন্ত্রাসী এবং এর মূল হোতাকে বের করে বিচারের আওতায় নিয়ে আসার দাবি করেন তিনি।

দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি চলছে দাবি করে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী মেহের আলী খান বলেন, দেশে একটি ঘটনারও সুষ্ঠু বিচার না হওয়ায় আজ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০০৩-০৪ সেশনের শিক্ষার্থী ইউএনও ওয়াহিদা আপুর ওপর বর্বরোচিত সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এঘটনায়

সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানাচ্ছি। এর সাথে বাংলাদেশে ঘটমান সকল বিচ্ছিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িত  সকল সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের আওতায় এনে উপযুক্ত বিচার করে সন্ত্রাসী, দূর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণের আবেদন জানাচ্ছি।

রাতের আধারে ওয়াহিদা খানমের উপর হামলাকে কাপুরুষ ও হিংস্র জানোয়ারের সামিল দাবি করে বিশ্ববিদ্যালয় ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের নাজমুস সাকিব বলেন, যেসব কাপুরুষ রাতের অন্ধকারে নির্মম ভাবে ওয়াহিদা আপুর ওপর হত্যাচেষ্টা চালিয়েছে তাদের অনতিবিলম্বে আইনের আওতায় আনতে হবে।এদেশ থেকে এমন হিংস্র জানোয়ারদের মূলউটপাতিত করে সুষ্ঠু বিচারের জোর দাবি জানান তিনি।

ইউএনও ওয়াহিদা খানমকে হত্যা চেষ্টায় যারা ছিলেন তাদের সুষ্ঠু বিচার চেয়ে ইসলামের ইতিহাস বিভাগের ২য় বর্ষের মোঃ স্বাধীন বিশ্বাস নয়ন বলেন, যে দেশের প্রধানমন্ত্রী একজন নারী, সংসদ এর স্পিকার একজন নারী, সে দেশের একজন নারী ইউএনও কিভাবে তার উপর হত্যার উদ্দেশ্য হামলা হয়! সুষ্ঠু বিচার চাই, করতে হবে।

দেশে নিরাপত্তাহীনতার সংস্কৃতি চলছে দাবি করে অর্থনীতি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মুমতা হেনা মীম বলেন, ইউএনও ওয়াহিদা খানমকে জখমের ঘটনা আসলে আমাদের দেশের নিরাপত্তাহীনতার চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে।এর আগেও এরকম অনেক ঘটনা ঘটেছে।এসব ঘটনা আমাদেরকে দেশের সেবায় নিয়োজিত হবার লক্ষ্যকে বিঘ্নিত করবে। তাই এ হত্যা চেষ্টার সঙ্গে জড়িত সব অপরাধীকে দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই, যেন পরবর্তীতে এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয় সেই প্রত্যাশা করেন তিনি।

এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না হয় সেদিকে সরকারের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করে রাবি শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী মাহফুজ ঢালী বলেন, এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে দ্রুত দোষীদের বিচারের আততায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে  হবে। বিভিন্ন সময়ই এমন ন্যাক্কারজনক  ঘটনা ঘটে ফলে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হয় তাই সরকারী দলকে তাদের ভাবমূর্তি রক্ষায় তৃণমূলের নেতাকর্মীদের উপর সঠিক নজরদারি করতে হবে এবং কঠোর শাস্তি বিধান করতে হবে।

ইউএনও ওয়াহিদা খানমের মতো ঘটনা বাংলাদেশে অহরহ ঘটতেছে দাবি করে বিশ্ববিদ্যালয় লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী জাকিরুল ইসলাম মিরাজ বলেন,ইউএনও ওয়াহিদা খানমকে দুর্বৃত্তরা রাতের আঁধারে সরকারী বাসভবনে গিয়ে যে নির্মমভাবে নির্যাতন করে আঘাতে আঘাতে মৃত্যুর কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া হলো  নিশ্চয়ই ঘটনাটি প্রমাণ করে সেখানে কোন নিরাপত্তা ছিল না।

তিনি বলেন, একজন ইউএনও একটি উপজেলার মুকুটহীন সম্রাটের মতো। উপজেলার প্রশাসনিক দায়িত্ব তাঁর হাতে। অথচ তিনিই আজ নিরাপত্তাহীন হামলার শিকার। ইউএনও ওয়াহিদা খানমের মতো ঘটনা বাংলাদেশে অহরহ ঘটতেছে। এভাবে চলতে থাকলে দেশে ব্যক্তি নিরাপত্তা রাষ্ট্র নিরাপত্তা হুমকির মুখে পরবে। স্বাধীনভাবে শান্তি মতো কেউ নিরাপত্তার সাথে বসবাস করতে পারবে না।

নিরাপত্তা জোরদার না করা হলে আজকের ইউএনও ওয়াহিদা বেগমের মতো ঘটনা থেকে কেউ রেহাই পাবে না। এঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে এসে প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানান তিনি।

এর আগে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে দুর্বৃত্তরা সরকারি আবাসিক ভবনে ঢুকে রাবির বাংলা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ও  ইউএনও ওয়াহিদা খানমকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপাতে শুরু করে। এ সময় চিৎকারে তার সঙ্গে থাকা বাবা ছুটে এসে মেয়েকে বাঁচানোর চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা তাকেও কুপিয়ে জখম করে। পরে অন্য কোয়ার্টারের বাসিন্দারা বিষয়টি টের পেয়ে পুলিশে খবর দেন।

এ সময় তাদের আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রংপুরে পাঠানো হয়। ইউএনও ওয়াহিদা খানমকে রংপুর ডক্টরস ক্লিনিকে আইসিইউতে ও তার বাবাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ওয়াহিদা খানমকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় পাঠানো হয়। বর্তমানে রাজধানীর আগারগাঁওস্থ নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন তিনি।

Tags

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
You cannot copy content of this page
Close
Close