এক্সক্লুসিভ নিউজজাতীয়

স্বামীকে চিনতে পারছেন ইউএনও ওয়াহিদা, তবে শঙ্কামুক্ত নন: ডা. বদরুল হক

দুর্বৃত্তের হামলার শিকার দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানমের শারীরিক অবস্থা এখন তুলনামূলকভাবে ভালো, তবে শঙ্কামুক্ত নন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।

আজ শুক্রবার রাত সাড়ে আটটার দিকে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস ও হাসপাতালের যুগ্ম পরিচালক অধ্যাপক ডা. বদরুল হক  বলেন, ‘ইউএনও ওয়াহিদা খানমের অবস্থা ভালো বলতে পারি, তবে কোনো অবস্থাতেই শঙ্কামুক্ত বলার সময় এখনো আসেনি। ভালো বলছি এ কারণে যে, অপারেশনের পর প্রত্যাশিত সময়ের আগেই তার জ্ঞান ফিরেছে। তিনি এখন তার স্বামীকে চিনতে পারছেন।’

‘তার স্বামী পীরগঞ্জের ইউএনও। আজ তার স্বামীকে আমরা একবার আইসিউতে ঢুকিয়েছিলাম। তখন তিনি স্বামীকে চিনতে পেরেছেন, তবে তিনি যে হাসপাতালে এই অবস্থায় আছেন, তা বুঝতে পারছেন না। তার ওপর যে হামলা হয়েছিল তাও তিনি মনে করতে পারছেন না। তিনি মনে করছেন, নিজের বাসাতেই আছেন’, যোগ করেন তিনি।

ওয়াহিদা খানমের অবস্থা তুলনামূলক ভালো বলার পরেও শঙ্কামুক্ত বলা যাচ্ছে না কেন?

প্রশ্নের উত্তরে ডা. বদরুল হক বলেন, ‘এ ধরনের আঘাতে মস্তিষ্কের ভেতরে যে রক্তক্ষরণ হয়, অপারেশন সফল হলেও সম্পূর্ণ রক্ত বের করে আনা যায় না, কিছু রক্ত থেকে যায়। সে কারণে যেকোনো সময় কিছু একটা ঘটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। ডাক্তার হিসেবে তাই আমরা এই পর্যায়টিকে শঙ্কামুক্ত বলতে পারি না।’

‘মস্তিষ্কের ভেতরে কিছু রক্ত থেকে গেলেও এর চিকিৎসা আছে, ওষুধ আছে, অন্যান্য সবকিছু ঠিক থাকলে তা পর্যায়ক্রমে নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। তবে এখন পর্যন্ত যে পরিস্থিতি, রোগী নিজে আমাদের বেশ আশাবাদী করে তুলেছেন। আমরা গতরাতে অপারেশনের পর যতটা আশাবাদী ছিলাম, এখন তার চেয়ে আরও বেশি আশাবাদী। আশা করছি যে, সবকিছু ভালোর দিকেই যাচ্ছে।’

গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে ইউএনও ওয়াহিদা খানমের সরকারি বাসভবনে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে দুর্বৃত্তরা। গুরুতর অবস্থায় তাকে রংপুরে একটি ক্লিনিকের আইসিইউতে রাখা হয়। অবস্থার অবনতি হলে গতকাল জরুরি ভিত্তিতে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে ঢাকায় আনা হয়। পরে গতকাল রাতে রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস ও হাসপাতালে সফলভাবে তার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়।

Tags

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
You cannot copy content of this page
Close
Close