অন্যান্যসাক্ষাৎকার

এক নারী উদ্যোক্তার পথচলার গল্প

 

দেশে আজ যোগ্যদের জন্য হাজারো চাকুরির সুযোগ, আবার অন্যদিকে হাজারো বেকারের আর্তনাদ। চাকুরি নেই, বেকার সেই দুঃখে দিন কাটায় তার পরিবারসহ সমাজ। কিন্তু অন্যের অধীনে চাকুরি না করে আমরা নিজেরাই কি কিছু করতে পারি না! হ্যাঁ, পারি। আজ আমাদের চারপাশে আমরা অনেক উদ্যোক্তা দেখতে পাচ্ছি। যদিও তাদের পোহাতে হয় নানামুখী সমালোচনা। তবুও এটা আমাদের আগামীর বাংলাদেশের জন্য শুভসংকেত। আজ আপনাদের সামনে উপস্থাপন করছি তেমনি এক নারী উদ্যোক্তা, চারুকুটির স্বত্বাধিকারী মেঘলা ভৌমিকের কথা-

স্বপ্ন ছিলো নারী বলে বাঁকা চোখে তাকানো মানুষগুলোর চোখে সফলতার এক গল্প ছুঁড়ে দিব। সেই থেকেই পথচলাটা শুরু। তারপর এক এক করেই ছোট ছোট কাজ শুরু করা। হাতে আঁকা পেইন্টিং দিয়ে পথ চলাটা শুরু। তারপর দেশে ও বিদেশে আর্ট গুলো ছড়ালো। বিভিন্ন মানুষের প্রশংসা আর কাছের মানুষদের অনুপ্রেরণায় “চারুকুটির” নামের পেইজের মধ্য দিয়ে নতুন যাত্রা শুরু হয়।

তারপরে আস্তে আস্তে বিভিন্ন অনলাইন গ্ৰুপে মানুষের করা পোস্ট দেখে আমিও পোস্ট করা শুরু করি। মানুষের আমার এই হাতে করা কাজ গ্রহণ দেখে মনের ভেতর খুব ভালো লাগতো। তারপর এবার দূর্গা পুজাকে কেন্দ্র করে শাড়ীতে দেবী দূর্গার ত্রিশূল, ত্রিনয়ন ও শিউলী ফুলের কাজ সহ বিভিন্ন ডিজাইন দিয়ে শাড়ীর ডিজাইনে উৎসবের নতুনত্ব দিতে পেরেছি।মানুষরাও শিউলী ফুলের পাড়ে ও আঁচলের শাড়ী খুব ভালোভাবে গ্রহন করেছে।

ইতিমধ্যেই উই (women and e-commerce forum) গ্ৰুপ থেকে এক সপ্তাহে প্রায় ৬০টার মত শাড়ী অর্ডার করেছে এবং তাদের কাছে সেগুলো পৌছানোর ব্যবস্থা করছি।

মানুষের এ ভালোবাসা আর প্রশংসা আমায় আগামীতে আরো ভালো কাজ করার অনুপ্রেরণা দেয়। আর এসবের জন্য আমার মা ও বোনের সাপোর্ট ছিল সবচেয়ে বেশি।

সমাজে নারী বলে তাচ্ছিল্য করা মানুষগুলোও আজ তাকিয়ে চোখ বড় করে হাসিমুখে যখন নারী উদ্যোক্তার সম্মানে তাকায় তখন নারী বলে নিজেকে গর্ব হয়।

সামনে দূর্গা পূজা, সবাইকে শারদীয় শুভেচ্ছা এবং দেবী দূর্গার নারী শক্তি যেন নারীর প্রতি সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে শেখায়,সে শুভকামনা সবার জন্য।

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
You cannot copy content of this page
Close
Close