পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়শিক্ষা

ইউজিসির গনশুনানি বাতিল চেয়ে রাবিতে গণস্বাক্ষর

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ভিসির দুর্নীতি

আবু সাঈদ সজল, রাবি: বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হড্যাকান্ডের পরই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) উপাচার্য অধ্যাপক এম আবদুস সোবহানের ‘জয় হিন্দ’ স্লোগান এবং উপ-উপাচার্য চৌধুরী মোহাম্মাদ জাকারিয়ার নিয়োগ দুর্নীতির ‘ফোনালাপ’ ফাঁসের ঘটনায় শুরু হয় বর্তমান প্রশাসনের অপসারণের দাবিতে আন্দোলন। এসময় প্রশাসনকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করে লাল কার্ড প্রদর্শন, গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করে আন্দোলনকারী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের একাংশ। এতে অংশ নেয় প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলোও।

পরে এবছরের ৪ জানুয়ারিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সোবহান ও উপ-উপাচার্য  অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়ার বিরুদ্ধে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও নিয়োগ বাণিজ্যসহ ১৭টি বিষয়ে ৩০০ পৃষ্ঠার একটি অভিযোগ ইউজিসির নিকট দাখিল করেন দুর্নীতি বিরোধী শিক্ষক সমাজের একাংশ। সেই অভিযোগ আমলে নিয়ে আগামী ১৭ এবং ১৯ সেপ্টেম্বর রাবি ভিসির সম্মতিতেই উন্মুক্ত শুনানির আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয়  মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।

ইউজিসি সূত্রে জানা গেছে, রাবি উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান এবং উপ-উপাচার্য চৌধুরী মো. জাকারিয়ার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে দাখিলকৃত প্রাপ্ত অভিযোগ ও কমিশনে প্রাপ্ত অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও নিয়োগ বানিজ্যের তদন্তের স্বার্থে কমিশন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।

পরবর্তীতে রাবি উপাচার্য নিজেই গত ১২ জুলাই শুনানিটি ভার্চুয়ালি না করে উন্মুক্ত আয়োজন করতে অনুরোধ করেন।

পরে গত ১৫ সেপ্টেম্বর ইউজিসির গঠিত তদন্ত কমিটিতে ব্যত্যয় ঘটেছে দাবি করে নিজ অবস্থান থেকে সরে এসে শুনানিতে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নেন উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান। শেষ পর্যন্ত তিনি শুনানিতে অংশ নেননি।

এদিকে অসুস্থতার কারন দেখিয়ে শুনানিতে অংশ নেননি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়া।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ইউজিসির শুনানির আয়োজন করার ইখতিয়ার, ভিসির শুনানিতে অংশগ্রহন করা, না করার যৌক্তিকতা নিয়ে শুরু হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। চলছে আন্দোলনও।

তবে, শুরু থেকে বর্তমান প্রশাসনকে দুর্নীতিবাজ দাবি করে অপসারণের আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল সংগঠনগুলোকে তৎপর দেখা গেছে। তারা মানববন্ধন, গণস্বাক্ষর কর্মসূচিসহ লাল কার্ড দেখিয়ে প্রশাসনকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে বর্তমান প্রশাসনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। গত ২১ সেপ্টেম্বর বিকেল থেকে সপ্তাহব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিয় গ্রন্থাগারের পেছনে ইউজিসির গনশুনানি বন্ধ ও পক্ষপাতহীন তদন্ত কমিটির দাবিতে গণস্বাক্ষর কর্মসূচির আয়োজন করে তারা।

এবিষয়ে রাবি ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মাহাফুজ আলামিন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশ অনুযায়ী উপাচার্য এম আব্দুস সোবহান স্যারের ওপর কেবল আচার্য্য মহোদয় ব্যবস্থা নিতে পারেন। উপাচার্য স্যারকে ইউজিসির উন্মুক্তশুনানিতে ডাকার কোনো ইখতিয়ার নেই। তাই আমরা লক্ষ্য করছি সোবহান স্যারকে বিব্রত ও সম্মানহানি করতে এ অভিযোগ দায়ের, পক্ষাপাতিত্ব তদন্ত কমিটি গঠন ও শুনানির আয়োজন করা হয়েছে। আমরা এই কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানাচ্ছি। সেই সাথে মিথ্যা অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

অন্যদিকে গনশুনানির বিপক্ষে আন্দোলনকে অযৌক্তিক দাবি করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাব্বত হোসেন মিলন বলেন, দুর্নীতিতে অভিযুক্তদের পক্ষে অংশ নেয়া তদন্ত কাজকে বাধাগ্রস্থ করা ছাড়া কিছুই নয়।

তিনি বলেন, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান দুই কর্তাব্যক্তির ওপর দুর্নীতির অভিযোগ। সেক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের গন্ডিতে এর ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব নয়। তাই শিক্ষামন্ত্রনালয় ইউজিসিকে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছে। রাবি উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য স্যার যদি নির্দোষ হন তার শুনানিতে যেতে আপত্তি কিসের? শুনানিতে অংশ না নেয়াই বুঝা যাচ্ছে তারা দুর্নীতিতে জড়িত। ৭৩ এর অ্যাক্ট যদি ভিসির গনশুনানির ক্ষেত্রে অবমাননা হয়। তাহলে বর্তমান প্রশাসনই তো রাকসু নির্বাচন না দিয়ে এই অ্যাক্ট অমান্য করছেন।

Tags

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
You cannot copy content of this page
Close
Close