প্রবল বর্ষণে রামপালে মৎস্য সেক্টরে ব্যাপক ক্ষতি,  পানিবন্দি হয়ে দূর্বীসহ জীবন কাটছে হাজার হাজার মানুষ

প্রকাশিত: ৭:৫৪ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১, ২০২১

প্রবল বর্ষণে রামপালে মৎস্য সেক্টরে ব্যাপক ক্ষতি,  পানিবন্দি হয়ে দূর্বীসহ জীবন কাটছে হাজার হাজার মানুষ

রামপাল (বাগেরহাট) প্রতিনিধি:
রামপালে প্রবল বর্ষণ ও ঝড়ো হাওয়ায় প্রায় ১৫হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। হাজার হাজার বসত বাড়ী তলিয়ে গেছে পানিতে। ৩হাজার ২শত ৩৭টি মৎস্য ঘের ও ৩৫৪২টি ভেসে গেছে বর্ষার পানিতে । অবকাঠামো খাতে ও হয়েছে ব্যাপক ক্ষতি। সব মিলিয়ে মোট ক্ষতি হয়েছে ৩কোটি ৮০লক্ষ ৫০হাজার টাকার। তবে এবার ক্ষতির শীর্ষে রয়েছে মৎস্য সেক্টর। শুধু মাত্র মৎস্য সেক্টরেই ক্ষতি হয়েছে ৩কোটি ৭১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকার-যা মোট ক্ষতির প্রায় ৯৬ শতাংশ। সরকারী পরিসংখ্যনে ক্ষতির এ তথ্য তুলে ধরা হলে ও প্রকৃত ক্ষতি আরো অনেক বেশী বলে দাবী স্থানীয়দের। এ বছর বার বার প্রকৃতির এমন নিষ্ঠুর আঘাতে ক্ষুদ্র ও প্রান্তি মৎস্য চাষীরা বিপর্যস্ত হলে ও মৎস্য সেক্টরে তেমন কোন সরকারী সহায়তা আসেনি। রামপাল উপজেলার এ সব ক্ষুদ্র মৎস্য চাষীরা মৎস্য মৌসুমের শুরতে স্বল্প লাভে ব্যাংক থেকে সহায়তার দাবী জানিয়েছেন সরকারের কাছে । সরকারের সহায়তা না পেলে উপজেলার এ সকল ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষীরা সুদে কারবারী বা বিভিন্ন এনজিও’র জালে আটকে যেতে পারে বলে স্থানীয়রা মনে করেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে যে, প্রবল বর্ষণ ও ঝড়ো হাওয়ায় রামপালের ১০টি ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নই কমবেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এবার সবচেয়ে ক্ষতি হয়েছে উপজেলার উজলকুড় ইউনিয়নে। প্রবল বর্ষনে হাজার হাজার পরিবারের বসত ঘর ও রান্নার জায়গা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ফলে রান্না করার মত পরিবশে না থাকায় খেয়ে না খেয়ে চরম কষ্টে দিনাতিপাত করছে সাধারন মানুষ। এছাড়া প্রবল বর্ষণে সবচেয়ে ক্ষতি হয়েছে মৎস্য সেক্টর। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক মৎস্য চাষীরা এ বছর বার বার প্রাকৃতিক দূর্যোগের সম্মুখীন হওয়ায় তারা চরম হতাশার মধ্যে পড়েছে। মৌসুমের শুরুতে মৎস্যচাষীরা মৎস্য খামারে বাগদা ও গলদা রেনু পোনা ছেড়ে যখন কেবল ঘের গুছিয়ে নিচ্ছিল, ঠিক সেই সময়ই ঘূর্নিঝড় ইায়াসের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্চ¦াসে রামপালের অধিকাংশ মৎস্য ঘের পানিতে ভেসে যায়। তখন ইয়াসের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হয়ে ২৭৮১ টি মৎস্য ঘের ভেসে যায়। এতে ক্ষতি হয়েছিল ৫কোটি ২৪ লক্ষ ৩৪ হাজার টাকার।

এরপর আবার যখন এনজিও বা সমিতি বা অন্য কারো কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে চাষীরা মৎস্য ঘেরে বাগদা ও গলদা রেনু ছেড়ে নতুন করে বাচার স্বপ্ন শুরু করে, তখন মৎস্য ঘেরে আঘাত হানে ভাইরাস। ভাইরাসের আঘাত শেষ হতে না হতেই আঘাত হানে প্রবল বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়া। নিমিষে ভেসে যায় উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ৩২৩৭টি মৎস্য ঘের যার মোট আয়তন ১০৩২ হেক্টর। সাথে ভেসে যায় ৩৫৪২টি পুকুর যার মোট আয়তন ৯৩২ হেক্টর। এ খাতে মোট ক্ষতি হয়েছে ৩কোটি ৭১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকার। পানি বন্দী হয়ে রয়েছে ৩৬৫০টি পরিবারের ১৪হাজার ৪০০ মানুষ। ৩টি বাড়ী সম্পূর্ন ক্ষতি গ্রস্ত হয়েছে এবং ১২টি বাড়ী আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অসংখ্য বসতবাড়ী ও পানিতে ডুবে গেছে। অধিকাংশ মানুষের রান্না করে খাওয়ারও অবস্থা নেই। এছাড়া অনেক গাছ ও উপড়ে পড়েছে। সব মিলিয়ে অবকাঠামো খাতে আনুমানিক ক্ষতি হয়েছে ৮ লক্ষ ৮০হাজার টাকার।

উপজেলার এ দূর্যোগকালীন সময়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে রামপাল উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ কবির হোসেন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার কোন মানুষ না খেয়ে থাকবে না। কারো খাবারের প্রয়োজন হলে ৩৩৩ নম্বরে ফোন করলেই তাদের বাড়ী খাবার পেীছে দেয়া হবে। তিনি আরো বলেন যে, উপজেলা প্রশাসন সব সময় সাধারন মানুষের পাশে রয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোজ খবর নিচ্ছে। জনগনের সমস্যা জানতে পারলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগীতা করার চেষ্টা করা হবে। ইতোমধ্যে ৩৩৩ থেকে ফোন পেয়ে ৭৮টি পরিবারের মধ্যে খাদ্য সহায়তা পেীছে দেয়া হয়েছে।

প্রবল বর্ষন, ঝড় , বন্যা বা যে কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ যাই ঘটুক না কেন, এর প্রথম শিকার হয় উপজেলার মৎস্য চাষীরা। কারন রামপালের অধিকাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে মৎস্য চাষের সাথে সম্পৃক্ত। মৎস্য চাষের উপর নির্ভর করেই এ এলাকার অধিকাংশ মানুষের ভবিষ্যৎ স্বপ্ন রচিত হয়। কিন্তু এ ক্ষেত্র বারবার ক্ষতি গ্রস্ত হলে এলাকার সাধারন মানুষের জীবনে কষ্টের সীমা থাকেনা। বাধ্য হয়ে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষীদের সুদে করবারী বা এনজিও’র উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে হয়। বারবার মৎস্য ক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হলে ও এ খাতে প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র চাষীদের মাছ চাষে সরকারী ভাবে তেমন কোন সহায়তা দেয়া হয় না। সরকার মৎস্য রপ্তানীকারকদের প্রনোদনা দিলে ও প্রান্তিক চাষীদের প্রনোদনা ব্যবস্থা রাখেনি। স্থানীয়দের মৎস্য চাষীদের দাবী, রপ্তানী কারকদের পাশাপাশি প্রকৃত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক মৎস্য চাষীদের প্রনোদনা দেয়ার উদ্যোগ গ্রহন করা প্রয়োজন। অথবা মৌসুমের শুরুতে যদি তাদের স্বল্প লাভে ব্যাংক থেকে মৎস্য ঘেরের আকার অনুযায়ী ঋণ দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়, তাহলে তারা এনজিও বা সুদে কারবারীদের চড়া সুদ থেকে রক্ষা পেতে পারে। নতুবা বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে মৎস্য চাষীরা বাচার তাগিদে এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশা বেচে নিতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে মৎস্য চাষ- যা রপ্তানী আয়ে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।

ফেসবুকে আমরা

পুরাতন সব সংবাদ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

এই মাত্র পাওয়া