নাগেশ্বরীতে আমন চাষে ব্যস্ত কৃষকরা

প্রকাশিত: ১২:১৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১, ২০২১

নাগেশ্বরীতে আমন চাষে ব্যস্ত কৃষকরা

 

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার প্রন্তিক কৃষকরা আমন চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় শুকিয়ে যাওয়া জমি নিয়ে বিপাকে অনেক কৃষক। এতে করে আমন চাষ ব্যহত হচ্ছে তাদের। জমিতে পানি না থাকায় অনেকে নিচু জমি, খাল ও পুকুরের পানি কিংবা সেচযন্ত্রের মাধ্যমে জমিতে পানি দিয়ে জমি প্রস্তুত করছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, প্রাথমিকভাবে কৃষকরা আমনের জমিতে আইল বাঁধা ও কেটে জমিকে আমন চাষের উপযোগী করে তুলছেন। যে জমিতে পাট চাষ করছেন, সেগুলোর পাট কেটে আমন চাষের জন্য প্রস্তুত করছেন। সেই লক্ষ্যে আমনের চারা রোপন করা নিয়ে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছে কৃষকরা।

অপরদিকে উপজেলার, চরাঞ্চলের অনেক বন্যা কবলিত এলাকায় বন্যা আশঙ্কায় এখনও শুরু হয়নি আমনের চারা রোপন। তাদের অনেকে এখনও বীজতলা তৈরি করছেন। আবার কেউ কেউ আমন চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করতে ব্যস্ত রয়েছেন।

কৃষি অফিস সূত্র জানায়, চলতি বছর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভায় ২৪ হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এছাড়াও এবারের আমন চাষের জন্য ১২’শ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি হয়েছে। এ বছর উচ্চ ফলনশীল ব্রি-৫২, উপসি, হাইব্রিড, ছিয়াঁশি, সাঁতাশি-সহ বিভিন্ন জাতের ধানের চারা রোপন করছেন কৃষকরা।

এদিকে উপজেলার ১ হাজার ২’শ জন কৃষককে কৃষি প্রণোদনা দিয়েছেন কৃষি বিভাগ। এদের মধ্যে ৪’শ কৃষককে ৫ কেজি করে উপসি জাতের ধানের বীজ এবং ১০ কেজি করে ডিএপি সার ও ১০ কেজি করে এমওপি সার দেয়া হয়েছে। এছাড়াও ৮’শ কৃষককে ২ কেজি করে হাইব্রিড জাতের ধানের বীজ, ২০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি করে এমওপি সার দেয়া হয়েছে।

কৃষকরা জানান, উপজেলায় বন্যা আশঙ্কায় আগাম আমনের চারা রোপন করা হয়েছে। অপরদিকে অনাবৃষ্টির কারণে জমি শুকিয়ে আমনের চারা রোপনে বিপাকে পড়েছেন অনেকে। পরে সেচযন্ত্রেমর মাধ্যমে জমিতে পানি দিয়ে জমি প্রস্তুত করে আমনের চারা রোপন করছেন কৃষকরা। ফসলের রোগবালাই থেকে রক্ষা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে খরচ পুষিয়ে লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা।

উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়নের স্থানীয় কৃষক আব্দুল হক জানান, তিনি এবার ৫ বিঘা জমিতে আমনের চারা রোপন করেছেন। বৃষ্টি হয়ে জমিতে পানি জমে যাওয়ায় তা প্রস্তুত করে আগাম চারা রোপন করেছেন।

নাগেশ্বরী পৌরসভার কয়েকজন কৃষক জানান, পোকামাকরের আক্রমণসহ অন্যান্য রোগবালাই দেখা না দিলে, এবং বন্যা, ক্ষরা, কিংবা অন্য কেনো দুর্যোগের শিকার না হলে ধানের ফলন ভালো হয়ে লাভবান হওয়া যাবে। বৃষ্টিপাত না হওয়ায় জমির পানি শুকিয়ে গেছে। তাই নিচু জায়গা থেকে পানি সেচে জমি প্রস্তুতির কাজ চলছে। বীজতলা থেকে ধানের চারাও উত্তোলন করা হয়েছে। এখন জমি প্রস্তুত সম্পন্ন হলেই চারা রোপন করা হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহরিয়ার হোসেন বলেন, স্থানীয় কৃষকদেরকে সরকারিভাবে কৃষি প্রণোদনা দেয়া হয়েছে। বন্যা কবিলিত এলাকা ছাড়া, প্রায় সব এলাকায় আমনের চারা রোপন করছেন কৃষকরা। কৃষি বিভাগ কৃষকদের পরামর্শ প্রদান ও যেকোনো দুর্যোগে তাদের পাশে থাকবে।

ফেসবুকে আমরা

পুরাতন সব সংবাদ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

এই মাত্র পাওয়া