আমাদের দায়িত্ব কতটুকু! শুধুই কি মুখে বলা?

প্রকাশিত: ৯:৫৪ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৫, ২০২১

আমাদের দায়িত্ব কতটুকু! শুধুই কি মুখে বলা?

শামসুন নাহার সায়মাঃ

গাছের সাথে মানুষের প্রাণের সম্পর্ক, এ যেনো এক সুতোয় ওতোপ্রোতো ভাবে জুড়ে যাওয়া দুই বন্ধু। কিন্তু দুঃখজনক হলেও এটাই সত্যি বন্ধুর ছলে এই মানুষই, মানুষের প্রতি তীব্র বিশ্বাসে আবদ্ধ গাছের সর্বনাশের অন্যতম কারণ ।

উদারমনা এই বৃক্ষ বন্ধু আমাদের উজাড় করে দিচ্ছে নিজেকে, জীবনের শেষ অস্তিত্ব টুকু দিয়ে মানুষের উপকার করে যাওয়াই যেন তার কাজ ও ধর্ম।।ওদিকে গাছ থেকে তার অক্সিজেন,ফল,পাতা,খাদ্য,জ্বালানি , ঔষুধ সহ নানা ভাবে গাছকে নিংড়ে নিয়েও মানুষের গাছের প্রতি ঠিক গাছের মত ভালোবাসা তৈরী হলো না।

বনভূমি উজাড় করেই যেন আজ নাম লিখাতে চায় সভ্যতার উন্মাদ উন্নয়নের ইতিহাসে। এরা ঠিক কেমন উন্নতি তা হয়তো এখনই পরিবেশের পরিবর্তন দেখে বুঝা যাচ্ছে। জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, একটি দেশের এক চতুর্থাংশ বনভূমি থাকা দরকার। যেখানে আমাদের আছে মাত্র ১৪ বা ১৫ শতাংশ। আমাদের প্রাণের ভান্ডার সুন্দরবন দিন দিন যেন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে,হারাচ্ছে তার গভীর সৌন্দর্য। ভাওয়ালের শাল-গজারীর বন ধ্বংসের পথে।

মধুপুর আর সিলেটের বনের অবস্থাও ভালো নয়। পাবর্ত্য জেলাগুলোর বনের অবস্থা কারও অজানা নয়। র্নিবিচারে বৃক্ষ নিধনের ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে পাহাড়ধস ও নদী ভাঙনের ঘটনা, ধ্বংস হচ্ছে বসতবাড়ি, প্রাণ হারাচ্ছে মানুষ। এভাবে বাংলাদেশ হারাতে বসেছে তার চিরচেনা রূপ। এদিকে গাছ লাগানো নিয়ে নানা কর্মসূচি পালন হলেও গাছের পরিমান টা যেন স্থবির হয়ে আছে তার জায়গায় বরং গাছ আরও কমে যাচ্ছে বলেই ধারনা করা হয়। কিন্তু কেন এই অবস্থা?

নার্সারির অভাব: বর্তমানে সব থেকে দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে গাছের নার্সারির সংকট। হ্যা,দেখা যায় সরকারি নার্সারিগুলোর পরিমাণ অনেক কম,সেই সাথে নার্সারি গুলো জেলা ভিত্তিক হওয়ায় দূরত্বের কথা ভেবে অনেকেই গাছ কেনার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।এমনকি গাছ সরবরাহ করতে গুনতে হচ্ছে অধিক টাকা,সেই সাথে পরিবহন সমস্যা ও দূরবর্তী অঞ্চলে গাছ আনা নেওয়ায় অনেক গাছ অচিরেই নস্ট হয়ে যাচ্ছে।

বেসরকারি বা ব্যক্তিগত মালিকানা থেকে গাছ কিনতে হলে দিতে হচ্ছে দ্বিগুণ টাকা,যা হয়তো গাছ লাগানোর ক্ষেত্রে মানুষকে অনুৎসাহিত করে তুলছে।

যত্নের অভাব: যত্বের অভাবে অনেক চারাগুলোর যেন মাথা তুলে আর দাড়ানোই হয় না।
সরকারি ও বেসরকারি নানা সময়ে আয়োজিত বৃক্ষরোপন কর্মসূচি গুলো পালন হলেও, দেখা যায় অনেক ক্ষেত্রেই এই গাছ গুলো রোপণ করা হয় না, আবার রোপণ করলেও সঠিক পরিচর্যার অভাবে অচিরেই গাছ গুলো ধ্বংস হয়ে যায়।

জনগনের অসহযোগি আচরণ : দেখা যায় বর্তমান সময়ের শিক্ষার্থীরা লকডাউনে বসে নানা রকম সেমিনারের মাধ্যমে জনগনকে সচেতন করার চেষ্টা করলেও জনগনের অসহযোগি আচরণ তাদের কর্মসূচিগুলোর প্রতি আগ্রহ কমিয়ে আনে।

এমনঅবস্থায়, নিজের, নিজের দেশের তথা পৃথিবীর বৃহত্তর স্বার্থে আমাদের এই বিষয় গুলো নিয়ে ভাবতে হবে, কাজ করতে হবে। মানুষকে আরও বেশি সচেতন হতে হবে।গাছ কাটার কুফল ও সুফল গুলো নিয়ে বেশি বেশি জানতে হবে।

এছাড়া সরকারি বন অধিদপ্তর, কৃষি উন্নয়নমূলক সংস্থার সহযোগিতা একান্ত আবশ্যক। চারা সংগ্রহ, মাটি পরীক্ষা, বীজ বপন, সার,ওষুধ,পরিচর্যার উপায় ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আরও বেশি মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে পারলে হয়তো এই সমস্যা কিছুটা কমে আসবে।

বৃক্ষরোপন কর্মসূচির পাশাপাশি নিয়মিত এগুলোর তদারকি ও পরিচর্যা হচ্ছে কিনা তার মনিটরিং করলে হয়তো এই সমস্যা দূর হতে পারে।পাশাপাশি জনগনকে সচেতন হতে হবে,সহযোগিতামূলক আচরণ করতে হবে,পারিবারিক ভাবে গাছ লাগানোর পজেটিভ দিক গুলো শিশুদের শিখাতে হবে। অযথা গাছ নস্ট না করা,শিশু ও কিশোরদের মধ্যে গাছ লাগানোর আগ্রহ জাগাতে হবে।

সর্বোপরি, বর্তমান সময়ে সরকার,জনগন ও শিক্ষার্থীদের হাত ধরে বৃক্ষরোপণ ও এর পরিচর্যা নিয়ে এগিয়ে গেলে হয়তো পৃথিবীটা আবার সবুজে হাসবে।

শিক্ষার্থী
নাজির আহমেদ কলেজ, বেরইল পলিতা, মাগুরা

ফেসবুকে আমরা

পুরাতন সব সংবাদ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০  
এই মাত্র পাওয়া