ডেঙ্গু কে প্রতিরোধ করুন

প্রকাশিত: ৮:২১ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২৮, ২০২১

ডেঙ্গু কে প্রতিরোধ করুন

 

লেখক:  শ্রাবণী

মহামারি করোনার প্রাদুর্ভাবের পর থেকে আমরা সবাই প্রায়ই ভুলতে বসেছিলাম ডেঙ্গু জ্বরের কথা।বর্তমান ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে দিন দিন।তাই আমাদের নিজেদের করোনার পাশাপাশি ডেঙ্গু জ্বর থেকেও নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে হবে। সচেতনতা পারে আমাদের ভয়ঙ্কর এই রোগ থেকে রক্ষা করতে।

ডেঙ্গু একটি ভাইরাস ঘটিত রোগ। এর ভাইরাসের জীবাণুর নাম ফ্লাভিভাইরাস। প্রতিবছর সারাবিশ্বে ১০ কোটির বেশি মানুষ ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত হয়। বাংলাদেশে প্রতিবছর লক্ষাধিক মানুষ ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত হয় এবং শতাধিক মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। চলুন আমরা এইবার এর লক্ষণগুলো জেনে নিই: সাধারণ স্ত্রী ডেঙ্গু মশায় কামড়ানোর ২ থেকে ৭ দিনের মধ্য জ্বর দেখা দেয়। প্রথমে শীত শীত ভাব হয়ে প্রচন্ড জ্বর দেখা দেয়। জ্বর ১০২° থেকে ১০৫°ফারেনহাইট এর হয়ে থাকে। বারবার এমন জ্বর আসে যা সহজে নামানো সম্ভব নয়। ব্যথা থাকে প্রবল ব্যথা যেটাকে হাড়ভাঙ্গা ব্যথা বলা হয়ে থাকে ।অনেকের ক্ষেত্রে বেশি ব্যথা না হলেও অল্প হলেও ব্যথা হয়ে থাকে শরীরে।

বমি বমি ভাব খাবারে অরুচি হতে পারে। মারাত্মক পর্যায়ে পৌছালে রক্তক্ষরণ হয়। অনেকের ক্ষেত্রে আরো অনেক রকম সমস্যা দেখা যায়। ডেঙ্গু জ্বর এর লক্ষণ দেখা দিলে সর্বপ্রথম আমাদের পরিক্ষা করার মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে।

৩দিনের বেশি কোনো ভাবেই দেরি করা যাবে না।যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। ডেঙ্গু জ্বর দেখা দিলে প্রতিকার করা প্রয়োজন নতুবা ভয়ঙ্কর রুপ ধারণ করতে পারে।

ডেঙ্গু জ্বর দেখা দিলে আমরা ঠিক কিভাবে প্রতিকার করতে পারি চলুন জেনে নিই। এসপিরিন জাতীয় ওষুধ সেবন থেকে বিরত থাকতে হবে। ব্যাথা ও জ্বর কমানোর জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ সেবন করতে হবে।(ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তি যদি হেপাটাইটিস থাকে তাহলে প্যারাসিটামল ওষুধ সেবন থেকে বিরত থাকতে হবে কারণ হেপাটাইটিস রোগটি যকৃত সংক্রান্ত এবং প্যারাসিটামল কিডনিতে নিষ্ক্রিয় না হয়ে লিভার বা যকৃতে নিষ্ক্রিয় হয়) প্রচুর পরিমানে তরল খাবার ও ফলের রস খাওয়াতে হবে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তিকে। মাথায় পানি দিতে হবে,শরীরের ঘাম মুছিয়ে দিতে হবে,সারা শরীরে ভেজা কাপড় দিয়ে মুছিয়ে /স্পঞ্জ করে দিতে হবে।

প্রতিকারের থেকে প্রতিরোধ উত্তম। চলুন আমরা দেখি কিভাবে আমরা ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধ করতে পারি। ডেঙ্গু মশা নিধন করার ব্যবস্থা করতে হবে।এই মশা ময়লা পানিতে জন্মায় না। সাধারণত এরা ফুলের টব,বাড়ির আশেপাশে পড়ে থাকা বিভিন্ন পাতিল, ডাবের খোসা, ড্রাম ইত্যাদিতে জমে থাকা পরিষ্কার পানি জন্ম নেয় তাই আমাদের উচিত এইসব জিনিস পত্রের দিক বিশেষ খেয়াল রাখা। যাতে পানি না জমে। বাসা ছেড়ে অন্য কোথায় কিছুদিনের জন্য বেড়াতে গেলে ফুলের টবগুলোতে যাতে পানি না জমতে পারে এইরকম ব্যবস্থা করে যেতে হবে এডিস/ডেঙ্গু মশা গড়ে একুশ দিন বাঁচে তাই লাভা ও পূর্ণাঙ্গ মশা নিধনের জন্য নিয়মিত পতঙ্গনাশক স্প্রে করতে হবে। এই মশা সাধারণত দিনের বেলায় কামড়ায় তাই আমাদের উচিত দিনের বেলায় খুব সচেতন থাকা ও সাবধানে চলাফেরা করা। চলুন আমরা নিজেরা সচেতন হই সাথে অন্যদেরকে সচেতন করি।

মহিলা কলেজ, ঝিনাইদহ।

ফেসবুকে আমরা

পুরাতন সব সংবাদ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০  
এই মাত্র পাওয়া