কালো শাড়ির সেই মেয়েটি

প্রকাশিত: ৩:০২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৬, ২০২১

কালো শাড়ির সেই মেয়েটি

নানজিবা ইবনাত মেধা
ঘড়িতে তখনো রাত সাড়ে বারোটা বাজছে।অপূর্ণা বারান্দার চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে আছে।চোখের দৃষ্টি বেলকনির বাহিরে নিবদ্ধ।বরষার সবুজ ধোয়া পানি তখন জানালার গ্রিল ছুঁয়ে ছুঁয়ে ছিটকে আসছে।
অপূর্ণার চোখেমুখেও এর ছিটেফোঁটা পড়ছে।তবে তাতে করে একটুও বিরক্তিবোধ করে না সে।বেশ ভালোই লাগে।

এভাবেই ২ বছর পার হয়েছে।এখনো অপেক্ষার প্রহর কাটেনি তার।বরষার স্লানমাখা দিনে রাতের নির্ঘুম প্রহরে বারান্দায় বসে এভাবেই অপেক্ষা করে অপূর্না।একটু পাশ ফিরতেই খেয়াল করলো কালো রঙের শাড়ির আচঁলটা ভিজে জবজবে হয়ে গেছে।কালো কাচেঁর চুড়িগুলো বৃষ্টিতে ভিজে পানির ফোটা গড়িয়ে পড়ছে।তখন তার দৃষ্টি গেলো বাহিরে।

ছাতার নিচে জবুথবু অবস্থায় দুজন মানুষ তার বাসার দিকেই ছুটে আসছে।মানুষগুলো অনেক দূরে থাকলেও তাদের কথাগুলো স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছে সে। মানুষগুলো তাকে নিয়েই কথা বলছে।

” তুই সত্যিই ওই বাসাতে যাওয়ার প্ল্যান করছিস?”
নীল শার্টে ভেজা ছেলেটা প্রশ্ন করলো।
“একদম ঢং ধরবি না।কি বৃষ্টি হচ্ছে দেখেছিস? এই বৃষ্টির মধ্যে অন্য কোথায় কিভাবে যাবি ওই বাড়ি ছাড়া?আর যাবিই বা কই?”

লাল রঙের টি শার্ট পড়া ছেলেটার চোখেমুখে স্পষ্ট বিরক্তির ছাপ ফুটে উঠলো।
” তাহলে তুই পুরো কাহিনি শুনিসনি।শুনলে তুই জীবনেও এই বাড়ির আশেপাশে আসতিস না।দেখ না কেমন শুনশান চারিপাশটা।

ছেলে দুটো হঠাৎ থেমে গেলো।অপূর্ণা তার কাজলে টানা চোখ দুটো দিয়ে দেখছে তাদের।হাতের চুড়ি গুলো শব্দ করে নড়ছে।

” কোন কাহিনির কথা বলছিস?”
লাল রঙের ছেলেটা জানতে চাইলো।
” আরে সেই ২ বছর আগের কাহিনি।”
সিড়ির দোরগোড়ায় পা দিতে গিয়ে থমকে গেল।গা কাঁপুনি দিয়ে উঠছে।
” দেখেছিস কিভাবে গা কাপুঁনি দিচ্ছে? কেমন ভুতুড়ে জায়গাটা।”

” আরে ধুত! তোর এসব কাপুঁনি বাদ দিয়ে কাহিনিটা বল”
ধমক খেয়ে বলতে শুরু করলো ছেলেটা। ” এই বাড়িতে একটা মেয়ে থাকত।কমবয়সী আর অনেক সুন্দরী ও মেধাবী।মেয়েটা তত মিশত না সবার সাথে। মাঝে মাঝে রাতে নাকি সবাই দেখত কালো চুড়ি, শাড়ি আর পায়েল পড়ে বর্ষার দিনে বেলকনি জুড়ে হাটত মেয়েটা। বসেও থাকত।কিভাবে কিভাবে জানি লোকে জানতে পারে মেয়েটা আসলে কালো জাদু করে।তাই এর থেকে বাচঁতে মেয়েটাকে ঘর সুদ্ধ পুড়িয়ে মারে।”

কথাটা বলে সামান্য থামল ছেলেটা।ততক্ষনে বেলকনিতে এসে বসেছে দুজনে।ছাতিটা মেলে দিয়েছে পানি ঝড়ে পরতে।
” আহহা থামলি কেন? বেশ লাগছে।বৃষ্টির দিন, পরিত্যাক্ত বাড়ি বেশ খাসা গল্প জমে উঠেছে।”
বন্ধুর আগ্রহ দেখে আবার বলা শুরু করলো।

” লোকজন বলে অভিশাপের বশে মেয়েটি এখনো এই বাড়িতে ঘুরে বেড়ায়।এখনও নাকি অনেকে দেখেছে বৃষ্টির রাতে কালো শাড়ি পড়ে বসে থাকে। কাচেঁর চুড়ি, পায়েলের আওয়াজ আজও শোনা যায়।কেউ এলেই মেরে ফেলে।
প্রতিশোধ এর লোভে আজও আত্মা বাড়ি ছাড়েনি।”

“নামকি মেয়েটির?”
আগ্রহ ঝরে পড়লো গলায়।
” অপূর্ণা।”
হঠাৎ খলখল হাসিতে চমকে তাকালো দুজনই।ভয়ে কাপঁতে শুরু করেছে ইতিমধ্যে।
সেই অবস্থায় তারা দেখতে পেলো কালো শাড়ি, কালো চুড়ি আর পায়েল পরিহিতা একটি মেয়ে এগিয়ে আসছে।
অপূর্ণা ঠোঁটে পৈশাচিক হাসি ফুটিয়ে আরো কাছে এগিয়ে আসতে লাগল।

চট্রগ্রাম বন্দর স্কুল এন্ড কলেজ

ফেসবুকে আমরা

পুরাতন সব সংবাদ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০  
এই মাত্র পাওয়া