ইন্টারনেটের ভালোকে গ্রহণ আর মন্দকে বর্জন করতে হবে

প্রকাশিত: ৯:১৯ পূর্বাহ্ণ , ডিসেম্বর ১১, ২০২০

একবিংশ শতাব্দীর তথ্যপ্রযুক্তির যুগে জীবনের আদ্যোপান্ত জুড়ে রয়েছে ইন্টারনেটের ছোঁয়া। ইন্টারনেট ছাড়া ব্যক্তিজীবন, সমাজজীবন বলতে গেলে পুরো পৃথিবী অচল। বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবনের মহা বিস্ময়কর উদ্ভাবন হলো ইন্টারনেট। ইন্টারনেটের ফলে সারা পৃথিবী এখন হাতের মুঠোয়। চাইলেই বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে যোগাযোগ করা যায় মুহূর্তেই। পুরো পৃথিবী এখন ছোট্ট একটি গ্রামের মতো হয়ে গেছে। যেখানে সারা পৃথিবীর মানুষ এক বৃক্ষের ছাঁয়ার নীচে বসবাস করছে। সুখে দুঃখে একে অপরের পাশে দাঁড়াচ্ছে ভার্চুয়ালি। যদিও বাস্তব জীবনের স্বাদ এই জগতে পুরোপুরি পাওয়া সম্ভব নয়। তবুও জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো ইন্টারনেট জগতে সম্পন্ন করা যায় স্বল্প সময়ে।

সুতরাং বলা যায়, ইন্টারনেট মানব জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা এগুলো যেমন প্রতিটি নাগরিকের অবশ্যই প্রয়োজন। তেমনিভাবে বর্তমান বিশ্বায়নের যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গেলে ইন্টারনেট সেবাও একজন নাগরিকের জন্য অপরিহার্য। ইন্টারনেট ছাড়া মানুষের জীবন লবণ বিহীন তরকারীর মত হয়ে গেছে, অর্থাৎ ইন্টারনেট ছাড়া জীবনের কোনো স্বাদ নেই। বর্তমান করোনা পরিস্থিতি আমাদেরকে তাই দেখিয়ে দিয়েছে।

ইন্টারনেটের যেমন শত শত ভাল দিক রয়েছে ঠিক তেমনিভাবে কিছু খারাপ দিক থাকাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। ইন্টারনেটের মাধ্যমে আপনি যেমন ভালোর সাথে আলোর পথে যেতে পারবেন, তেমনিভাবে মন্দের সাথে অন্ধকারের পথেও যেতে পারবেন। দায়িত্ব একান্তই ব্যাক্তির উপর। বর্তমান যে অনলাইন নির্ভর শিক্ষা কার্যক্রম চলছে তার ক্রেডিট একমাত্র ইন্টারনেটের। তাছাড়াও ডিজিটাল  ব্যাংকিং কার্যক্রম, ডিজিটাল মার্কেটিং, ই-কমার্স সবকিছুই এখন ইন্টারনেট নির্ভর।

মানুষের জীবন এখন পুরোপুরি ইন্টারনেটের উপর নির্ভরশীল। আমাদের দেশে ইন্টারনেট নির্ভর সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হলো ফেসবুক, যা আমরা সবাই জানি। এই ফেসবুককে কাজে লাগিয়ে দেশ ও জনগনের সেবা করছেন কেউ কেউ। আবার অনেকেই নিজের সৃজনশীল বুদ্ধিমত্তার প্রকাশ করছেন ফেসবুকে। অনেকেই উদ্যোক্তা হচ্ছেন ফেসবুককে প্রচারণার মাধ্যম বানিয়ে। বেকারমুক্ত হচ্ছে সমাজ। এগিয়ে যাচ্ছে প্রাণের বাংলাদেশ। এটি নিঃসন্দেহে দেশ ও জাতির জন্য মঙ্গলজনক।

ইন্টারনেটের ভালো দিক গুলোর বিবরণ দিয়ে শেষ করা যাবেনা। যদিও কিছু কিছু খারাপ দিক রয়েছে। কিছু কুচক্রী মহলের নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের কারণে পুরো ইন্টারনেট প্রযুক্তির উপর অপবাদের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া বিন্দু মাত্র সমীচীন নয়। ইন্টারনেট জগতে বর্তমানে সবচেয়ে জঘন্য কাজ হচ্ছে প্রোপাগান্ডা বা গুজব। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে একটা ভালো খবর যেমন খুব দ্রুত সময়ে পৃথিবীর আনাচে কানাচে ছড়িয়ে পড়ে তেমনিভাবে একটা খারাপ খবরও(গুজব) খুব দ্রুত সময়ে ছড়িয়ে পড়ে। গুজব রটিয়ে নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করার মতো ঘটনাও এদেশে কম নয়।

পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজে মানুষের মাথা লাগবে, ছেলে ধরা গুজব এসবই দেশে সাম্প্রতিক সময়ে ছড়িয়ে পড়া গুজব। এধরনের প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম মাধ্যম হলো ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠা ভুঁইফোড় অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলো। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে এধরনের ঘৃণ্য কাজ যারা করবে তাদেরকে কঠোর হস্তে দমনের লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। সাইবার ক্রাইম ইউনিটগুলো সক্রিয় হতে হবে অপরাধীকে খুঁজে বের করতে। সবচেয়ে বেশি জরুরি হচ্ছে ব্যক্তিকেন্দ্রিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা। ইন্টারনেটে কোনো খবর ছড়িয়ে পড়লে তার তথ্যসূত্র না খুঁজে শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীকে খুব সচেতনতার সাথে এ জগতে বিচরণ করতে হবে। কোনো প্রকার অনৈতিক কাজে জড়ানো যাবেনা ইন্টারনেটকে ব্যাবহার করে।

অনেকেই ইন্টারনেটকে বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে ব্যাবহার করে থাকেন। প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি সময় ব্যয় করে থাকেন। যা সময়, শ্রম, স্বাস্থ্য সবকিছুর উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। তাই ইন্টারনেট নিজের এবং কর্মের প্রয়োজনে যতটুকু ব্যাবহার করা প্রয়োজন ঠিক ততটুকুই ব্যাবহার করা উচিত। কারণ সময় এবং স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করেনা, সে নিজের গতিতে চলতে থাকে। আজকে আমি,আপনি সামান্য বিনোদনের জন্য নিজের যে গুরুত্বপূর্ণ সময় টুকু ব্যয় করছি তা আর কখনো ফিরে পাবো না। একুশ শতকে এসে ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা যেনো আমাদের ধ্বংসের কারণ না হয়। তাই ইন্টারনেটের যে নেতিবাচক সাইট রয়েছে সেগুলোতে প্রবেশ করা থেকে আমাদের বিরত থাকতে হবে। ইন্টারনেটে ভালো জিনিস পেলে তা গ্রহণ করতে হবে, মন্দ জিনিস চোখে পড়লে তা বর্জন করতে হবে।

লেখক: সাইফুল বিন শরীফ
শিক্ষার্থী: বাংলা বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া
সদস্য: বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়,কুষ্টিয়া।

দৈনিক আলোকিত ভোর/ মাহমুদ/শরীফ

প্রিয় পাঠক, আপনিও লিখতে পারেন আমাদের পোর্টালে। কোন ঘটনা, পারিপাশ্বিক অবস্থা, জনস্বার্থ, সমস্যা ও সম্ভাবনা, বিষয়-বৈচিত্র বা কারো সাফল্যের গল্প, কবিতা,উপন্যাস, ছবি, আঁকাআঁকি, মতামত, উপ-সম্পাদকীয়, দর্শনীয় স্থান, প্রিয় ব্যক্তিত্বকে নিয়ে ফিচার, হাসির, মজার কিংবা মন খারাপ করা যেকোনো অভিজ্ঞতা লিখে পাঠান সর্বোচ্চ ৩০০ শব্দের মধ্যে। পাঠাতে পারেন ছবিও। মনে রাখবেন দৈনিক আলোকিত ভোর.কম পোর্টালটি সকল শ্রেণী পেশার মানুষের জন‌্য উন্মুক্ত। তাছাড়া, স্বভাবতই আপনি নানান ঘটনার স্বাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন। কোন এলাকা, কোন দিন, কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই দেবেন। আপনার পাঠানো খবর অথবা লেখা মান সম্পন্ন এবং বস্তুনিষ্ঠ হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে। লেখা পাঠানোর ইমেইল- dailyalokitovor@gmail.com