‘আব্বা আমি এসপি হয়েছি, তুমি চলে গেলে’

প্রকাশিত: ৬:৩৮ অপরাহ্ণ , ডিসেম্বর ১১, ২০২০

মো. মাহফুজ্জামান আশরাফ: উচ্ছ্বাস নিয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে আনন্দের সাথে চিৎকার করে আব্বাকে জড়িয়ে ধরে কথাটি বলার খুব ইচ্ছে ছিল।

শিমুল এসপি হয়েছে শুনলে যার পরনাই খুশি হতেন।

ইচ্ছে ছিল এসপি হয়ে আব্বার পা ধরে সালাম করবো অনেক অনেক বার।

পা ধরেই বসে থাকতাম, এসপি’র র‍্যাংক পরে আব্বার সামনে এসে দাড়াবো, আর আব্বা দেখবে। কতই না ভালো লাগতো আব্বার।

মন খারাপ থাকতো আমার। মন খারাপ করো না। আল্লাহর উপর ভরসা করো বলে আমাকে কাছে নিয়ে কাঁপা কাঁপা হাতে মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেন। চোখে মুখে হাত দিয়ে আদর করতেন আর বলতেন, মন দিয়ে চাকরি করো বাবা আর ধৈর্য ধরো।

এই ধৈর্য ধরো কথাটা আব্বার মুখে বার বার হাজার বার শুনতাম। কিছু হলেই ধৈর্য ধরো বাবা…।

ধৈর্য ধরতে ধরতে আব্বা চলেই গেলেন। এক সংগ্রামী নেতা, সৎ ও সত্যবাদী, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারী, ন্যায় ও নীতিবান মানুষ আজ জানতে পারলো না, আমি জানাতে পারলাম না।

‘এসপি সাহেব’ বলে ঔদ্ধত্যকণ্ঠে রাজপথে নেতাকর্মীদের রক্ষার্থে হুংকার দিয়েছেন, প্রতিবাদ করেছেন এতটুকু ভয় পান না সেই ‘এসপি সাহেব’ আজ তার ছেলেই হলো; কিন্তু জেনে গেলেন না।

আমার জীবনটা আব্বা দিয়েই গড়া। আব্বা ভক্ত ছেলে আমি। আম্মা সব সময়ই বলতো, তোমার আব্বা তোমাকে একটু হলেও বেশি ভালোবাসে। আব্বাকে খুব খুব মিস করছি আজ ক্ষণে ক্ষণে বারে বারে।

আলহামদুলিল্লাহ। পরম করুণাময় অসীম দয়ালু মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের রহমতে আজ আমি এসপি হিসেবে পদোন্নতি পেলাম। শুকরিয়া, মহান আল্লাহর নিকট শুকরিয়া।

আমার সকল সিনিয়র স্যার, সিনিয়র ভাই, আত্মীয় স্বজন, বন্ধু, পরিচিত-অপরিচিত শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। আমি ধন্য, সবাই আমাকে এতটাই ভালবাসে। সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করেছে।

আমার প্রতি এত দরদ, মায়া, মমতা, অনুভূতি, সহানুভূতি দেখিয়েছে, যা আমাকে করেছে ঋণী। আমি মুগ্ধে বিমুগ্ধ হয়েছি। ক্ষুদ্র এ আমি, যেন অনেক অনেক ভালোবাসা আর দোয়া পেয়েছি।

সকলের ভালবাসা ও দোয়ায় মহান আল্লাহ আমাকে কবুল করেছেন এবং এই পদোন্নতির মর্যাদা দান করেছেন। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দেয়া এ মর্যাদা, এ সম্মান, এ নিয়ামত যেন সর্বদাই অক্ষুণ্ণ রাখতে পারি।

এবার বাবার কবরে গিয়ে চোখের জল মুছবো আর বলবো, ‘বাবা আমি এসপি হয়েছি’।

লেখক: সদ্য পুলিশ সুপার হিসেবে পদোন্নতিপ্রাপ্ত

প্রিয় পাঠক, আপনিও লিখতে পারেন আমাদের পোর্টালে। কোন ঘটনা, পারিপাশ্বিক অবস্থা, জনস্বার্থ, সমস্যা ও সম্ভাবনা, বিষয়-বৈচিত্র বা কারো সাফল্যের গল্প, কবিতা,উপন্যাস, ছবি, আঁকাআঁকি, মতামত, উপ-সম্পাদকীয়, দর্শনীয় স্থান, প্রিয় ব্যক্তিত্বকে নিয়ে ফিচার, হাসির, মজার কিংবা মন খারাপ করা যেকোনো অভিজ্ঞতা লিখে পাঠান সর্বোচ্চ ৩০০ শব্দের মধ্যে। পাঠাতে পারেন ছবিও। মনে রাখবেন দৈনিক আলোকিত ভোর.কম পোর্টালটি সকল শ্রেণী পেশার মানুষের জন‌্য উন্মুক্ত। তাছাড়া, স্বভাবতই আপনি নানান ঘটনার স্বাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন। কোন এলাকা, কোন দিন, কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই দেবেন। আপনার পাঠানো খবর অথবা লেখা মান সম্পন্ন এবং বস্তুনিষ্ঠ হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে। লেখা পাঠানোর ইমেইল- dailyalokitovor@gmail.com