হাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের ভাবনায় বিজয় দিবস

প্রকাশিত: ১০:৫১ অপরাহ্ণ , ডিসেম্বর ১৬, ২০২০

বাংলাদেশের মহান সন্তানদের বিনিময়ে আজকের যে বিজয়, তা শুধু একদিনের জন্য সীমাবদ্ধ ছিল না। এই বিজয় বার বার আসে। বিশ্ব দরবারে যখনই কোনো কৃতি সন্তান সুনাম অর্জন করে তখন আবারো বাংলাদেশের বিজয় হয়। আর এই সুযোগের বা সকল বৈষম্য থেকে বাংলাকে তুলে ধরার একমাত্র হাতিয়ার ছিল এদেশের বীর মুক্তিযোদ্ধারা। বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের হাসিতে লেগে আছে শহীদ বীরদের বিন্দু বিন্দু রক্তফোটা।

বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ এখন অনন্য উজ্জ্বলতার দেশ। আর প্রতিনিয়ত বিজয় লাভের মাধ্যমেই বাংলাদেশ এখন পরিচিত শ্বেতাঙ্গ কিংবা কৃষ্ণাঙ্গদের মাঝে। তরুণরা আজও লড়ে যাচ্ছে মুক্তির খোঁজে। এই মুক্তি দেশ স্বাধীনের মুক্তি নয়। এই মুক্তি আর্থ-সামাজিকতার মুক্তি। এই বিজয়ের দিবসে কতটা দৃঢ় এ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা? এসব নিয়েই হাবিপ্রবি শিক্ষার্থীর ভাবনা তুলে ধরেছেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়(হাবিপ্রবি)-এর শিক্ষার্থী- মো. হাবিবুর রহমান মুন্না

‘আর্থ-সামাজিক উন্নতি ছাড়া বিজয় সম্ভব নয়’


বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জনের পাঁচ দশক হতে যাচ্ছে গৌরব ও আত্মত্যাগের এই স্বাধীনতা অর্জন সম্ভব হয়েছে এ জাতির কিছু শ্রেষ্ঠ ও সাহসী সন্তানদের অবদানের বিনিময়ে। কিন্তু স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে রক্ষায় এখন মনোনিবেশ করা দরকার আমাদের। শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি সহ সকল ক্ষেত্রে যে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ধারা শুরু হয়েছে এটাকে বেগবান করে সামনের দিকে এগিয়ে নিলে তবেই রক্ষা হবে স্বাধীনতা।

বাঙালি জাতির মহান নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্ঠে সুর মিলিয়ে বলতে চাই যতদিন এদেশের নিম্নপেশার মানুষ যেমন কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ জনগণের অবস্থার পরিবর্তন সহ সামাজিক ও অর্থনৈতিক মুক্তি মিলবে না ততোদিন সোনার বাংলা অর্জন সম্ভব নয়। সেজন্য চাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশের জন্য কাজ করে যাওয়া। তবেই এ বিজয় হবে বাঙালির সর্বশ্রেষ্ঠ বিজয়। ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত স্বয়ংসম্পূর্ণ এক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি।

-কৃষিবিদ জাহিদ হাসান, এম.এস ইন জেনেটিক্স এন্ড প্ল্যান্ট ব্রিডিং, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, দিনাজপুর।

‘বিজয় দিবসের চেতনায় উজ্জীবিত হোক বাংলাদেশ’


একটি নারীর আকাঙ্ক্ষা, বিকাশ ও স্বপ্নপূরণের অভিপ্রায়কে একাত্তরে নিষ্পেষিত করে দিয়েছিল পাক-হানাদার আর রাজাকারগোষ্ঠী। অনেক নারীর গায়ে লাগানো হয়েছিল ধর্ষিতারও সিলমোহর। আজ ঊনপঞ্চাশ বছর পর সেই বিজয়ের কথা মনে পড়ে যেখানে স্বাধীনতার জন্য তিরিশ লক্ষ শহীদের রক্তের সাগর বয়েছিল; দুই লক্ষ মা বোন সম্ভ্রম হারিয়েছিল। এত আত্মত্যাগের পর, আজও সেই আর্তনাত শোনা যায়, “আমাকে ছেড়ে দাও, আমি তোমার মায়ের মতো”।

বন্ধ হয় নি এখনো স্বপ্ন পোড়ানোর দৃশ্য কিংবা দাবিয়ে দেওয়ার চিত্র। প্রতিনিয়ত নরপিশাচ দ্বারা জখম হচ্ছে হাজারো নারী। আমরা বিজয় অর্জন করেছি, স্বাধীনতা লাভ করেছি তবে নরপিশাচরূপী কিছু মানুষের থেকে আজও বিজয় লাভ করেনি নারীরা। আরো একটা বিজয় চাই; যেমন ন-মাস রক্ত বন্যার পর বিজয় এসেছিল নতুন সূর্যের হাত ধরে। এভাবে বিজয় আসুক প্রতি মুহূর্তে, সকল অসৎপথ ভেদ করে দেশের নবীনদের হাত ধরে।

-সুরাইয়া ইয়াসমিন মিতু, পরিসংখ্যান বিভাগ, ২০১৬-১৭, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, দিনাজপুর।

 ‘বিজয় হলো ঐক্যবদ্ধ জীবন প্রচেষ্টা’


একটি দেশ কোটি মানুষের স্বপ্ন। লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের এই বাংলাদেশ। বাংলাদেশের স্বাধীনতার রয়েছে সুদীর্ঘ রক্তঝরা ইতিহাস। এ স্বাধীনতা কুড়িয়ে পাওয়া একমুঠো ঝিনুকের মাঝে মুক্তো বা বদান্যতার উপহার নয়। এক সাগর রক্ত ও লাখো প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে এ স্বাধীনতা। ঐক্যবদ্ধ জীবন প্রচেষ্টা, মিলন-বিরহ, আশা-নিরাশার বাস্তব অনুভূতি সংবলিত এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী অপরাজেয় এ চেতনার সঙ্গে প্রতিনিয়ত নতুন করে পরিচিত হচ্ছে বর্তমান প্রজন্ম।

স্বাধীনতার ৪৯ বছর পরও মুক্তিযুদ্ধের বীর সন্তানরা আমাদের বর্তমান প্রজন্মের তরুণদের তারুণ্যের উৎস। তারাই আমাদের সাহস জোগায় সামনের দিকে এগিয়ে যেতে। তাদের অসামান্য অবদানই তরুণদের বিশ্বমানচিত্রে লাল সবুজের পতাকা তুলে ধরতে অনুপ্রাণিত করে। আমাদের স্বাধীনতা অর্জন হলেও দেশ থেকে দুর্নীতি, অনিয়ম, কুসংস্কারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর মতো শক্তি নেই। পৃথিবীর মানচিত্রে লাল সবুজের বাংলাদেশ হবে নবজাগরণের উদ্দীপ্ত বাংলাদেশ। জয় হবে তারুণ্যের। বিজয়ের মাসে বিজয়ের উল্লাসে তরুণদের হাতে প্রজ্জ্বলিত হোক তারুণ্যের জয়ধ্বনি।

-মো. সুমন সরকার, অর্থনীতি বিভাগ, ২০১৬-১৭, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, দিনাজপুর।

‘মুক্তির সেই মহেন্দ্রক্ষণ বারবার অনুপ্রেরণা জোগায়’


প্রতি বছর ডিসেম্বর মাসের ১৬ তারিখ আমাদের সকল বাঙালিদের স্মরণ করিয়ে দেয় স্বাধীনতা সংগ্রামে জীবন উৎসর্গকারী লাখো শহীদের কথা সেই সাথে পরাশক্তির থেকে নিজেদের মুক্তির সেই মহেন্দ্রক্ষণ, আমাদের বহু ত্যাগ আর আকাঙ্ক্ষিত বিজয়ের। তাই এই দিনটি আমাদের কাছে আনন্দের আবার একই সাথে বেদনারও। বিজয় দিবস স্বাধীনতার চেতনাকে ছড়িয়ে দিয়েছে কোটি কোটি বাঙালির প্রাণে। প্রতি বছর যখন এই দিনটি ঘুরে ফিরে আসে এই দিনটি আমাদের মনে বারবার প্রেরণা জোগায় অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবার।

আজ মনে পড়ে কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য ঠিকই বলেছেন- “সাবাস বাংলাদেশ! এ পৃথিবী- অবাক তাকিয়ে রয় জ্বলে-পুড়ে-মরে ছারখার তবু মাথা নোয়াবার নয়।” আমাদের মত তরুণ প্রজন্মের উচিত লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই বিজয়ের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে দেশবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা। এই বিজয় অর্জনের মাধ্যমে বাঙালি জাতি বিশ্বের দরবারে স্বতন্ত্র পরিচয় লাভ করেছে। বাঙালির জাতীয় জীবনে আনন্দের মধ্য দিয়েই জন্ম নেয় একটি স্বাধীন দেশ।

-মুশফিকা তাসনিম মালিহা, কৃষি অনুষদ, ২০১৬-১৭, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, দিনাজপুর।

আলোকিত ভোর/মুন্না/এসএস

প্রিয় পাঠক, আপনিও লিখতে পারেন আমাদের পোর্টালে। কোন ঘটনা, পারিপাশ্বিক অবস্থা, জনস্বার্থ, সমস্যা ও সম্ভাবনা, বিষয়-বৈচিত্র বা কারো সাফল্যের গল্প, কবিতা,উপন্যাস, ছবি, আঁকাআঁকি, মতামত, উপ-সম্পাদকীয়, দর্শনীয় স্থান, প্রিয় ব্যক্তিত্বকে নিয়ে ফিচার, হাসির, মজার কিংবা মন খারাপ করা যেকোনো অভিজ্ঞতা লিখে পাঠান সর্বোচ্চ ৩০০ শব্দের মধ্যে। পাঠাতে পারেন ছবিও। মনে রাখবেন দৈনিক আলোকিত ভোর.কম পোর্টালটি সকল শ্রেণী পেশার মানুষের জন‌্য উন্মুক্ত। তাছাড়া, স্বভাবতই আপনি নানান ঘটনার স্বাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন। কোন এলাকা, কোন দিন, কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই দেবেন। আপনার পাঠানো খবর অথবা লেখা মান সম্পন্ন এবং বস্তুনিষ্ঠ হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে। লেখা পাঠানোর ইমেইল- dailyalokitovor@gmail.com