জামাই-মেয়ে মিলে ভাতা আত্মসাৎ, মুক্তিযোদ্ধা বাবার ঠাঁই হলো ঝুপড়ি ঘরে

প্রকাশিত: ৬:০৬ অপরাহ্ণ , ডিসেম্বর ১৮, ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক: বীর মুক্তিযোদ্ধা আলতাফ হোসেন মৃধা ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার পুরাতন জেলখানা এলাকার বাসিন্দা ও অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্য।

যে বয়সে সুখে শান্তিতে থাকার কথা আর সে বয়সে কষ্টে দিন কাটছে। সারা জিবনের সঞ্চয় এবং চাকরির ভাতা কিছুই ভোগ করতে পারছে না এই বীর মুক্তিযোদ্ধা।

জানা যায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলতাফ হোসেন মৃধার ভাতা নিয়ে নয়-ছয় করছে তারই মেয়ে ও জামাই। তারা টাকা উত্তোলন করে নিজেদের কাজে ব্যবহার করায় বৃদ্ধ বয়সে ঝুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন আলতাফ হোসেন মৃধা ও তার স্ত্রী সাজেদা বেগম।

এসব ঘটনায় ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন তার ছেলে সফিউল বাশার মৃধা।

জানা যায়, স্ত্রী-চার সন্তান ও বাবা-মাকে নিয়ে উপজেলা সদরের জেলখানার পশ্চিম পাশের নিচু জমিতে একটি ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করছেন সফিউল বাশার মৃধা। সামান্য বৃষ্টিতেই ঘরে পানি ঢোকে। একটি চায়ের দোকান ছিল সফিউলের। করোনার কারণে সেটি বন্ধ হয়ে গেছে।

এখন অর্থাভাবে পরিবার নিয়ে নিদারুণ কষ্টে আছেন তিনি। সফিউলের একমাত্র বোন ছবি বেগমের স্বামী হুমায়ুন কবির উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি অবসরে আছেন। সফিউলের ঘরের সামনেই বিলাসবহুল তিনতলা ভবন নির্মাণ করেছেন তিনি।

সেখানেই স্বামী-ছেলেমেয়ে নিয়ে বসবাস করছেন ছবি বেগম। অথচ একবারের জন্য খোঁজ নেন না দরিদ্র ভাই ও অসুস্থ মা-বাবার।

সফিউল বাশার মৃধা বলেন, বাবার বয়স হয়েছে। ৫-৬ মাস আগে তার চোখে ছানি ধরা পড়ে। বার্ধক্যজনিত রোগের কারণে তিনি বিছানা ছেড়ে উঠতেই পারেন না। চোখের চিকিৎসা করাতে পারলে তিনি চলাফেরা করতে পারতেন। আমার মা-ও অসুস্থ।

তারও জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন। কিন্তু অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে পারছি না। সফিউল আরো বলেন, ছবি ও তার স্বামী আমাকে পাগল ও বোকা আখ্যা দিয়ে বাবার পেনশন ও মুক্তিযোদ্ধা ভাতার টাকা, রাজাপুরে প্রায় ১৩ শতাংশ জমি বিক্রির টাকা, রাজশাহীতে কিছু জমি বিক্রির টাকা, মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বাবার বিনা সুদে পাওয়া ঋণের দুই লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধা আলতাফ হোসেন মৃধা প্রতি মাসে পেনশনের সাড়ে ৭ হাজার টাকা ও মুক্তিযোদ্ধা ভাতা হিসেবে পান ১২ হাজার টাকা। সব টাকাই উত্তোলন করে মেয়ে ছবি বেগম ও জামাই হুমায়ুন। এর মধ্যে অসুস্থ বাবা-মায়ের খরচ হিসেবে দেন মাত্র ৫ হাজার টাকা।

যা দিয়ে ৮ সদস্যের সংসার চালাতেই কষ্ট হয়ে যায় সফিউলের। বাবার পেনশন ও মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ফিরে পাওয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সফিউল।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আলতাফ হোসেন মৃধার মেয়ে ছবি বেগম বলেন, আমার বাবার মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ও পেনশনের টাকা আমার স্বামী হুমায়ুন কবিরের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হলে তা তুলে বাবাকে দেয়া হয়। বাবা ও ভাইয়ের টাকা আত্মসাৎ করার কোনো ইচ্ছাই আমাদের নেই।

এ বিষয়ে রাজাপুরের ইউএনও মোক্তার হোসেন বলেন, মুক্তিযোদ্ধা আলতাফ হোসেন মৃধার পেনশন ও ভাতা আত্মসাতের বিষয়ে মেয়ে ও জামাইয়ের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধা আলতাফ হোসেন মৃধার সার্বিক সহযোগিতার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

আলোকিত ভোর/এসএস

প্রিয় পাঠক, আপনিও লিখতে পারেন আমাদের পোর্টালে। কোন ঘটনা, পারিপাশ্বিক অবস্থা, জনস্বার্থ, সমস্যা ও সম্ভাবনা, বিষয়-বৈচিত্র বা কারো সাফল্যের গল্প, কবিতা,উপন্যাস, ছবি, আঁকাআঁকি, মতামত, উপ-সম্পাদকীয়, দর্শনীয় স্থান, প্রিয় ব্যক্তিত্বকে নিয়ে ফিচার, হাসির, মজার কিংবা মন খারাপ করা যেকোনো অভিজ্ঞতা লিখে পাঠান সর্বোচ্চ ৩০০ শব্দের মধ্যে। পাঠাতে পারেন ছবিও। মনে রাখবেন দৈনিক আলোকিত ভোর.কম পোর্টালটি সকল শ্রেণী পেশার মানুষের জন‌্য উন্মুক্ত। তাছাড়া, স্বভাবতই আপনি নানান ঘটনার স্বাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন। কোন এলাকা, কোন দিন, কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই দেবেন। আপনার পাঠানো খবর অথবা লেখা মান সম্পন্ন এবং বস্তুনিষ্ঠ হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে। লেখা পাঠানোর ইমেইল- dailyalokitovor@gmail.com