শিক্ষা

প্রথম মডেল ইয়ুথ সার্ক সামিট সম্পন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক: বর্তমান বিশ্বকে ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য বসবাস উপযোগী করতে জাতিসংঘের মহা পরিকল্পনা টেকশই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি নামে পরিচিত। ২০৩০ সালের মধ্যে সারা বিশ্বের রাষ্ট্রসমূহ ১৭ টি লক্ষ্যমাত্রায় নিজ দেশের পরিকল্পিত টেকশই উন্নয়ন বাস্তবায়নে কাজ করছে। এলক্ষ্যে গত ৯ নভেম্বর শনিবার, রাজশাহীতে ইয়ুথ পার্লামেন্টের আয়োজনে টেকশই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে তরুণদের ভাবনা বিষয়ে মডেল সার্ক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উক্ত সম্মেলনে সহ-আয়োজক হিসেবে ছিলেন, ওয়ার্ল্ড হিউম্যানিটি কমিশন আন্তর্জাতিক, ফ্রান্সের হিউম্যানিস্ট ইকো-সিটিজেন্স, ইরাকের জামিন অরগানাইজেশান অব চিল্ড্রেন এন্ড ফ্যামিলি, ইন্টারন্যাশনাল ইয়ুথ সোসাইটি এবং নাইজেরিয়ার গ্লোবাস্ট্রম সেফটি ফাউন্ডেশন।

দক্ষিণ এশিয়ার ৮ টি দেশের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়ন,ভাতৃত্বমূলক সহযোগিতা, মুক্ত বাণিজ্য পরিচালনা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহ নানান স্বার্থ সম্পর্কিত কর্মকান্ড পরিচালনার উদ্দেশ্যে সার্ক গঠন করা হয়। আর এই সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে টেকশই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সমস্যা এবং সম্ভাবনা নিয়ে মডেল সার্ক সম্মেলনটি আয়োজন করা হয়। উক্ত সম্মেলনে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে।

৯ নভেম্বর বেলা ১২ টায় রাজশাহীর আউটব্যাক রেষ্টুরেন্টে সম্মেলন শুরু হয়। সার্কের নিয়মানুসারে, মালদ্বীপ এবারের চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়৷ মালদ্বীপ এবং বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে সম্মেলন শুরু হয়৷

এসময় উপস্থিত ছিলেন, ওয়ার্ল্ড হিউম্যানিটি কমিশন আন্তর্জাতিকের সাধারণ সম্পাদক শামীমা নাসরিন, ইয়ুথ পার্লামেন্টের সাধারণ সম্পাদক জনাব বিবেক মোর, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক জনাব মোঃ আতাউল গনী ওসমানী, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক নাজনীন সুলতানা এবং বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক উম্মে সালমা। ইয়ুথ পার্লামেন্টের সাধারণ সম্পাদক জনাব বিবেক মোর আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

সার্কের ৮ দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রীগণ নিজ দেশের টেকশই উন্নয়নে প্রস্তাবনা উপস্থাপন ও যৌক্তিকতা নিয়ে বক্তব্য রাখেন। পরবর্তী পর্বে সার্কের রাষ্ট্রপ্রধানগণ নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপনের মাধ্যমে বিভিন্ন পরিকল্পনা, করণীয় এবং নিজ দেশের চলমান পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরেন। এ ছাড়াও পয়েন্ট অব অর্ডারে বিভিন্ন দেশ নিজেদের প্রশ্ন উপস্থাপন করলে অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত চতুরতায় সার্ক নেতাগণ ব্যাখ্যা প্রদান করেন। প্রত্যেকটি দেশের মাননীয় রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রীগণ নিজ দেশের পক্ষে আনিত প্রস্তাবপত্রে স্বাক্ষর করে সমর্থন জানান।

২য় সম্মেলনের জন্য ভোটিং এর মাধ্যমে আফগানিস্তান চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়। এছাড়াও উক্ত সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তন ও নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, দারিদ্র্য ও কর্মসংস্থান এবং শিক্ষা নিয়ে আলোচনা হয়।

বিচারকদের বিচারে সেরা প্রস্তাবক রাষ্ট্র হিসেবে বিজয়ী হয়েছে, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা এবং যৌথভাবে ভারত ও পাকিস্তান। সেরা সার্ক নেতা নির্বাচিত হয়েছেন, মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি সরকার তানভীর আহমেদ তানিম, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মোঃ সোহানুর রহমান এবং যৌথভাবে শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি শাহরিয়ার মনন ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নিশাত আরা মিতু। সেরা সার্ক পররাষ্ট্র মন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন,
মালদ্বীপের মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী তাসনিয়া আফরিন তান্নি ,শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ,এন,এম মুশফিকুজ্জামান এবং যৌথভাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী আনিতা রানি ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ,কে হামজা মাহমুদ। ব্যালট ভোটিং এ ১১ ভোট পেয়ে সেরা প্রস্তাবক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এবং ০৯ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় সেরা প্রস্তাবক দেশ হিসেবে মালদ্বীপের প্রস্তাবনা গ্রহণ করা হয়।

অনুষ্ঠান শেষে সনদপত্র ও ক্রেস্ট প্রদানের মাধ্যমে ১ম সার্ক ইয়ুথ সামিট সমাপ্ত হয়।

Tags

এ জাতীয় আরো খবর

One Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
You cannot copy content of this page
Close
Close