টপ নিউজ

দেশে লবণ কেনার হিড়িক, কেন এই কৃত্রিম সংকট?

পেঁয়াজের সঙ্কট কাটতে না কাটতেই শুরু হয়েছে লবণকাণ্ড। বাস্তবে লবণের দাম না বাড়লেও লবণ নিয়ে মানুষের মাঝে চলছে নানা আলোচনা। লবণের দাম বাড়াতে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী গুজবের সুযোগ নিচ্ছেন।

লবণের কেজি ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে অপপ্রচার চালিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ লবণ শিল্পকে ধ্বংসের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। সোস্যাল মিডিয়ায় তৈরী হয়েছে গুজব আতঙ্ক।

লবণ গুজবে যে দোকানে ৭ দিনে বিক্রি হতো ১০০ কেজি, সেখানে একদিনেই ১০০ কেজি বিক্রি পার হয়ে গেছে। এমনকি লবন কিনতে দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা গেছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। শুধু শহরেই নয় প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও গুজবের প্রভাবে চলছে লবন কেনার হিড়িক।
এ বছর দেশে লবণের উৎপাদন গত ৫৮ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়েছে বলে ভাষ্য মিল মালিকদের। তাদের হিসেব মতে গত মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৮ লাখ মেট্রিক টন। বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ১৮ লাখ ২৪ হাজার মেট্রিক টন। লবণ উৎপাদন এবার বিগত ৫৮ বছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। গত মৌসুমের উদ্বৃত্ত প্রায় ৬ লাখ মেট্রিক টন লবণ দিয়ে আরও অন্তত দুই মাস চলবে।

তাছাড়া, শিল্প মন্ত্রণালয় বলছে, দেশে বর্তমানে সাড়ে ছয় লাখ মেট্রিক টনের বেশি ভোজ্যলবণ মজুত রয়েছে। এর মধ্যে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের লবণচাষিদের কাছে ৪ লাখ ৫ হাজার মেট্রিক টন এবং বিভিন্ন লবণ মিলের গুদামে ২ লাখ ৪৫ হাজার মেট্রিক টন লবণ মজুত রয়েছে। মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, দেশে প্রতি মাসে ভোজ্যলবণের চাহিদা কমবেশি এক লাখ মেট্রিক টন। অন্যদিকে, লবণের মজুত আছে সাড়ে ৬ লাখ মেট্রিক টন।

তাহলে কেন লবণ গুজব? কালের কন্ঠের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অপরিশোধিত লবণ পরিশোধনের পর খাবার উপযুক্ত ও বাজারজাত করতে কেজিতে সর্বোচ্চ ১ থেকে দেড় টাকা খরচ পড়বে। সে হিসেবে এক কেজি লবণের দাম হওয়ার কথা সাড়ে ৫ টাকার নিচে। কিন্তু বাজারে ভোক্তারা কিনছে প্রায় ৪০ টাকায়। লবণ চাষিদের অবহেলা, রাঘববোয়াল ও শিল্প কারখানার মালিকদের প্রতি কর্তৃপক্ষের ‘দরদি মনোভাব’-এর কারণে এমনটি হচ্ছে।


প্রশাসনের সঠিক ভাবে কোনো তদারকি না হওয়াটা অনেকাংশে দায়ী আজকের লবন-পেঁয়াজ কান্ডের জন্য। এজন্য সাধারণ মানুষকে হাসফাস খেতে হচ্ছে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস ক্রয়ে।


সম্পূর্ণ সিন্ডিকেটের বেড়াজালে আবদ্ধ হওয়ায় বাজারে শৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব হচ্ছেনা। এজন্যই বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে জিনিপত্রের দাম বাড়ানো হচ্ছে। এই সঙ্কটে সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুুখিন খেটে খাওয়া মানুষরা। দিনমজুর অর্থাৎ যারা প্রতিদিনের খাবার প্রতিদিন কিনে খায়, তাদের দুর্ভোগের শেষ নেই।

খেটে খাওয়া মানুষেরা কিভাবে এই বর্ধিত মূল্যের সাথে খাপ খেয়ে চলবে? দেখার মতো কেউ নাই। দ্রব্যের উর্ধ্বমূল্যে জনগনের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। সরকারের উচিৎ হবে বলিষ্ট পদক্ষেপে এখনি জিম্মিদের হাত থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করা। তাছাড়া দেশকে অস্থিতিশীল করার পায়তারাও নস্যাতের এখনি সময়। গুজব মুক্ত হোক সোনার বাংলা। ক্রয় ক্ষমতার মধ্য হোক নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য মূল্য।

আবু সাঈদ সজল
সম্পাদক
দৈনিক আলোকিত ভোর

Tags

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close