ডাবের পানির জন্য এমন অভিমান?

প্রকাশিত: ৩:০২ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৮, ২০২১

ডাবের পানির জন্য এমন অভিমান?

মো. আমানুল্লাহ আমানঃ ডাবের পানিকেই বলা হয় প্রাকৃতিক স্যালাইন। কী নেই এতে? পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও ফসফরাস তো রয়েছেই উচ্চমাত্রায়।

এছাড়া ডাবে খনিজ লবণ, ক্যালসিয়াম, রাইবোফ্লবিন, নিয়াসিন, থিয়ামিন ও পাইরিডোক্সিনের মতো উপকারী উপাদানও রয়েছে যথেষ্ট। দেশজুড়ে তরমুজ কাণ্ডে ডাবের পানিতেই ভরসা অনেকের। বর্তমানে উচ্চ তাপমাত্রার এ আবহাওয়ায় ইফতারির পর অন্তত এক চুমুক ডাবের পানির আকাক্সক্ষা তো থাকেই। তাই বলে এই পানির জন্য এমন অভিমান?

গবেষণা বলছে, মানুষের সুস্থ জীবন যাপনে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে ডাবের পানিতে থাকা রাইবোফ্লবিন, নিয়াসিন, থিয়ামিন ও পাইরিডোক্সিনের মতো উপকারী উপাদান সক্রিয়ভাবে কাজ করে। এসব উপদানের কারনে শরীরের ভেতরের শক্তি এতটা বৃদ্ধি পায় যে জীবাণুরা কোনোভাবেই ক্ষতি করার সুযোগ পায় না। এছাড়া ত্বক আর্দ্র রাখতে দৈনিক এক কাপ ডাবের পানিই যথেষ্ট। সমস্যা কমে আসে ব্রুণের।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায়, ডাবের পানিতে থাকা খনিজ লবণ দাঁতের ঔজ্জ্বল্য বাড়াতে এবং দাঁতের মাড়িকে মজবুত করতে বেশ কার্যকরী। যাদের দাঁতের মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়ে, তাদের জন্যও বেশ স্বস্তিদায়ক এ ফলের পানি। এছাড়া মাড়ি কালচে হওয়ার সমাধান রয়েছে ডাবের পানিতেই। রয়েছে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও সুখবর।

তবে এসব উপকারিতা ছাড়াও দেশজুড়ে প্রখর তাপমাত্রায় ডাবের পানি পান করতে চান নাÑ এমন কাউকেই হয়তো পাওয়া যাবে না। রেকর্ড তাপমাত্রায় নাভিশ^াস উঠেছে খেটে খাওয়া মানুষদের। আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, সোমবার (২৬শে) এপ্রিল ঢাকায় গত ২৬ বছরের রেকর্ড ভেঙে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪০.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আর ওইদিন রাজশাহীতে সর্বোচ্চ ৪১.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছিল। এই তীব্র তাপমাত্রা অব্যাহত থাকবে চলতি সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত। ফলে রমজানের দিনে রোজা করে আরো কষ্টে দিন পার হচ্ছে। আর তরমুজের দামে প্রশাসন লাগাম টানতে ভোক্তাদের চাহিদা অনুযায়ী পারছে না।

ফলে ডাবের পানি আর স্যালাইনের ওপর ভরসা সর্বসাধারণের। তাই বলে ডাবের পানির জন্য কলেজ ছাত্রীর এমন অভিমান?

বৃষ্টি আক্তার (ছদ্মনাম)। পড়ালেখা করছেন শিক্ষানগরী রাজশাহীর একটি বেসরকারী কলেজে। একবছর থেকে কলেজ বন্ধ থাকলেও থেমে নেই তার পড়ালেখা। প্রতিষ্ঠিত হয়ে জনগণের সেবা করার প্রত্যয় নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করে চলেছেন রমজানেও।

বাড়িতে সারাদিন অধ্যয়ন, অনলাইন ক্লাস, বাড়তি ইংরেজি চর্চা আর বিশ্রামের ফাঁকে কিছু সময় টিভি দেখে সময় কাটান বৃষ্টি। অসম্ভব মেধাবী এ কলেজ ছাত্রীর স্বপ্ন দেখছেন, চেষ্টা করছেন পূরণের। সদা ভদ্র নম্র স্বভাবের বৃষ্টির খাবার তালিকাটা একটু ভিন্ন। বন্ধু, শুভাকাক্সক্ষী ও আপনজনদের সাথে দুষ্টুমিও করতে পারেন বড্ড। বাড়তি জেঁদ তো রয়েছেই। তবে সেটা খুবই মজার।

বৃষ্টি অন্যদের চেয়ে লাজুক হলেও নিজের ভালোলাগার প্রতি বাড়তি গুরুত্ব দেন সর্বদা। আর এটাই তো উচিত। নিজে ভাল থাকলেই তো অন্যদের ভাল রাখা সম্ভব। নামাজ রোজাসহ অন্যান্য ইবাদতে তিনি বেশ মনোযোগী। তবে ভালো লাগার জিনিসটি থেকে যদি কেউ বঞ্চিত করে, তাহলে কী ছেড়ে দেবেন বৃষ্টি? না, কোনো ছাড় নয়। তেমনটিই হয়েছে। ইফতারির পর চেয়েছিলেন বাড়ির গাছের ডাবের পানি পান করতে। কিন্ত জুটে নি।

অনেকটা রসিকতার ছলেই অভিমান। কারন- সবটুকুই পান করেছেন বাবা, মা এবং ছোট বোন বর্ষা। অন্যসময় গাছের অর্ধেক ডাব বৃষ্টির ভাগে থাকলেও রমজানের এ গরমে ইফতার শেষে একটুও পানি পান নি বৃষ্টি। অভিমান করেছেন বড্ড। ফলে পরদিন ভেঙ্গেছেন রোজা। ভোররাতে মা-বাবা যখন সাহরি খাওয়ার জন্য ঘুম থেকে উঠতে ডাকছিলেন- তখন রাগে গরগর করছিলেন বৃষ্টি।

ঘুম ভাঙলেও শেষ পর্যন্ত উঠেন নি। পরদিন খেয়েছেন হিসেব করে মোট পাঁচবার। এটা তার নিয়মিত রুটিন। তিন বেলা খেয়ে থাকতে পারেন না। এদিকে ছোট বোন বর্ষার সাথেও বেশ দুষ্টুমি হয় বৃষ্টির। রাত ১১টার সময় ছোট বোন বলছিল, আপু! ঘুমাবা না? অনেক রাত হলো তো! বৃষ্টির সোজাসাপটা উত্তর, “আমি ডাবের পানি পাই নি। রাতে ১১টা বাজে তবুও আমাকে ডাবের পানি দিল না ”

কী অদ্ভুত না? তিনি এমনই। এরকম হতে থাকলে আরো রোজা ভঙ্গ করবেন বৃষ্টি। যদিও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে তা অপরাধ। স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে চলা বৃষ্টির জীবনে এমন অদ্ভুত ঘটনা ঘটলেও পড়ালেখা নিয়ে আপোষহীন। সর্বদা আত্মপ্রত্যয়ী এ কলেজ ছাত্রী থমকে যান নি কখনো।

এগিয়ে চলেছেন মা-বাবা ও সমাজের অসহায় ও অসুস্থ মানুষদের মুখে হাসি ফোটানোর লক্ষ্যে। পূরণ হোক স্বপ্ন, সর্বদা ভাল থাকুক দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীরা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে আবারো কলেজে ফিরে আসুক বৃষ্টিদের মতো স্বপ্নচারীরা।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

ফেসবুকে আমরা

পুরাতন সব সংবাদ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
এই মাত্র পাওয়া