টপ নিউজমতামত

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও তরুণ প্রজন্ম

সবুজ কুমার মহন্ত: আমরা এখন আধুনিক যুগে বাস করি।যা একসময় ছিল অকল্পনীয়, তা এখন হাতের মুঠোয়।বিদেশে বসে বাবা তার মেয়েকে দেখতে পাচ্ছে চোখের সামনে,সত্যি খুব বড় ধরনের অভাবনীয় পরিবর্তন এসেছে।কিন্তু ভালোর সাথে সাথে অপরপৃষ্ঠ ও দেখতে হবে।

এখন খেলার মাঠগুলোতে বিকেল হলে জমে না আর খেলার আসর,সবাই ব্যস্ত যান্ত্রিকতায়।হয়তো ল্যাপটপে গেমিং আর নয়তো ফেসবুকিং যা শরীরকে শারীরিক কসরত থেকে বঞ্চিত করছে তেমনি অতিরিক্ত সময় মোবাইলের রঙিন আলোয় থাকায় কমছে চোখের ক্ষমতা, হচ্ছে ঘুমের ব্যাঘাত। এখন তরুণদের ঘুম ভাঙছে মেসেঞ্জারের টুংটাং শব্দে।এমন সব তথ্যই জানান দিচ্ছে মার্কিন সাময়িকী গুলোতে।

আগস্ট ২০১৭ এর হিসাব অনুযায়ী সারাবিশ্বে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২০৪ কোটি ৭০ লাখ।আমেরিকায় প্রায় ৮৪ শতাংশ লোক ফেসবুক ব্যবহার করছে।১৩-১৭ বছর বয়সের কিশোরদের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ ব্যবহার করছে ফেসবুক।এই যখন অবস্থা,তখন বিকেল হলেই ক্যাম্পাসে যে গ্রুপ স্টাডি /গানের আড্ডা বসতো তাও দিনদিন কমেই চলেছে।

এক গবেষণায় দেখা গেছে,বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া প্রায় ৮৮ শতাংশ শিক্ষার্থী দিনে গড়ে ৪ ঘন্টার ও বেশি সময় ব্যয় করছে ফেসবুকে।এজন্যই হয়তো আসছে না সাফল্য, গবেষণায় আসছে না নতুন কিছু।আধুনিকতার ছোঁয়ায় তরুণদের উন্নতি যতটুকু হচ্ছে বাংলাদেশে তার থেকে পিছিয়ে পড়ার মাত্রাটাই একটু বেশি।

সারাদিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে থাকার ফলে মানুষের মেজাজ খিটখিটে হয় যার দরুন নষ্ট হচ্ছে সম্পর্কগুলি যার ফলশ্রুতিতে ঘটছে নানা ধরণের অপরাধ।আর অনেক মিথ্যা বানোয়াট তথ্য ও ছড়িয়ে পড়ে সহজেই এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যা বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত হবার পেছনে অন্যতম দায়ী কারণ।

সার্বিক দিক বিবেচনা করলে আমাদের তরুণ প্রজন্ম প্রায় আসক্ত ফেসবুক, ইউটিউব, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ,উইচ্যাট ইত্যাদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।এসবের নিয়ন্ত্রণ আনতে না পারলে হয়তো আসবে না উজ্জ্বল তরুণ প্রজন্ম,হবে না উন্নত আগামীর বাংলাদেশ।

লেখক: শিক্ষার্থী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ,
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

Tags

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close