জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতায় দৃষ্টিপাত জরুরি

প্রকাশিত: ১১:০৪ অপরাহ্ণ , ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২১

শিশির ইসলাম বাবুঃ ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক দল ভিন্ন ভিন্ন কৌশল গ্রহণ করেন তাঁদের দলকে শক্তিশালী করতে। নির্বাচনকে সামনে নিয়ে জাতীয় বাঘা বাঘা নেতাগণ বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেন এবং নিজেদেরকে জয়ী দেখতে বিভিন্ন ছক তৈরি করেন। কৌশল এবং ছকই তো নির্বাচনকে উৎসব মুখর করে তুলে। নির্বাচনে সাংসদ সদস্য প্রার্থী যে ফর্ম পুরন করেন সেখানে একটি ঘর আছে ‘শিক্ষাগত যোগ্যতা’। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হল জনপ্রতিনিধির জন্য কোন শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন হয় না।

সাবেক একজন সাংসদ সদস্য ‘শিক্ষাগত যোগ্যতা’ এর ঘরে লিখেছিলেন ‘স্বশিক্ষিত’। আমি সিউর স্কুল জীবন শেষ করতে ব্যর্থ হওয়া সাবেক এই সাংসদ নিশ্চয় জানেন না স্বশিক্ষিত আসলে কি? স্বশিক্ষিত লিখুক আর পিএচডি বা ক্লাস ফাইভ লিখুক, যেহেতু শিক্ষার মানদণ্ডের কারণে কোন পার্থক্য সৃষ্টি হয় না, তাই নির্বাচন কমিশন শিক্ষাগত যোগ্যতার উপর তেমন কোন প্রভাব দেখাতে পারেন না। কারণ বাংলাদেশের সংবিধান যেহেতু কোন সংসদ সদস্যের শিক্ষাগত যোগ্যতা জানতে চায় না সেখানে নির্বাচন কমিশনের কি বা করার আছে। নির্বাচন কমিশনকে সাংবিধানিক আইনের মাধ্যমে চলতে হয়।

বাংলাদেশে সাক্ষরতা হার প্রায় ৭২ দশমিক ৭৬। দেশের সকল অফিসে চাকুরির ক্ষেত্রে নূন্যতম শিক্ষাগত যোগ্যতা আছে কিন্তু যাঁদের দ্বারা দেশ পরিচালিত হবে তাঁদের জন্য কোন শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন নাই। সত্যিই হাস্যকর! যেই দেশে গন্ডমূর্খ থেকে যে কেউ সংসদ সদস্য, মন্ত্রী বা প্রধান মন্ত্রী হতে পারে, সেই দেশ পরিচালনায় ভারসাম্য থাকবে না, এটাই স্বাভাবিক। দেশে লক্ষ লক্ষ ব্যক্তি স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী। শিক্ষিত জনতার মধ্যে কি কোন যোগ্য নেতা নাই? যদি শিক্ষিত যোগ্য নেতা না থাকে তাহলে ছাত্র রাজনীতি কতটা ফলপ্রসূ হচ্ছে? আমি ব্যক্তিগত ভাবে যা বুঝি তাতে অনেক শিক্ষিত নেতা রাজনীতি থেকে দূরে সরে গেছেন বা বিভিন্ন কারণে রাজনীতি থেকে দূরে আছেন।

আমলাদের হাতে বন্ধী অনেক মন্ত্রী, এমন নিউজ একটু খুঁজলেই পাওয়া যায়। অনেক কারণ থাকতে পারে আবার ঘটনা সত্য নাও হতে পারে। তবে ঘটনা সত্য মনে করি কেন না, স্কুল জীবনেই ঝরে পরার পরও তিনি সংসদ ও মন্ত্রী হয়েছেন। যেহেতু সংসদ সদস্য হতে কোন শিক্ষাগত যোগ্যতা লাগে না। কিন্তু সচিব হতে শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন। তাই অশিক্ষিত মন্ত্রী শিক্ষিত আমলা থেকে একটু দূরে দূরে থাকবেন, এটাই স্বাভাবিক। অফিসে ফাইলে স্বাক্ষর করা ছাড়া আর কোন কাজ আছে বলে তো মনে হয় না। শিক্ষিত মন্ত্রী হলে কিন্তু ঠিকই আমলাকে নিজের ক্ষমতা বলে প্রভাবিত করতে পারতেন বা করতে চেষ্ঠা করতেন।

কেনিয়া নির্বাচন ২০১৭ এর আগে জনপ্রতিনিধিদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রীর সার্টিফিকেট দেখাতে বলা হয়েছে। উগান্ডার সংবিধানের ৮০ অনুচ্ছেদ (১) এর (গ) সংজ্ঞায়িত করে যে, একজন ব্যক্তি সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য যোগ্য কিনা, যদি সেই ব্যক্তি উন্নত স্তরের মান বা এর সমতুল্য সর্বনিম্ন আনুষ্ঠানিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন; ধারা ৮০ (১) এর (গ) সংসদীয় নির্বাচন আইন, ২০০৫ এর ধারা ৪ (১) এর (গ) দ্বারা কার্যকর হয়।

অনেক দেশ জনপ্রতিনিধির শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করে দিচ্ছে তাহলে আমরা কেন নয়? বাংলাদেশের অধিকাংশই জনগণ জনপ্রতিনিধিদের ক্ষেত্রে ন্যূনতম একাডেমিক যোগ্যতা নিশ্চয় সমর্থন করবেন। একজন শিক্ষিত সংসদ সদস্য বা একজন মন্ত্রী হওয়ার যোগ্য প্রতিনিধিরা আন্তর্জাতিক ভাষাতে যোগাযোগ করতে সক্ষম হবে, যা ইংরেজী। তাঁরা আন্তর্জাতিক উপায়ে দেশে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য তাঁদের যথাযথভাবে শিক্ষিত হওয়া উচিত। সংখ্যাগরিষ্ঠ দৃশ্য হবে যে ‘ সংসদ সদস্য জন্য নূন্যতম একাডেমিক যোগ্যতা হিসাবে স্নাতক রাখা উচিত। পাশাপাশি মন্ত্রীর নূন্যতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকোত্তর রাখা উচিৎ।

২০১৩ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইন ১৯৭৩ এর বরাত দিয়ে অনেকেই মনে করেন যে, সংসদ নির্বাচনে অশংগ্রহণের জন্য প্রার্থীর নূন্যতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণের কোন পরিকল্পনা নেই। ১৯৭৩ সালের অনেক আইন পরিবর্তন হয়েছে যুগের চাহিদা অনুসারে। ডিজিটাল বাংলাদেশের নেতৃত্ব নিশ্চয় কোন অশিক্ষিত ব্যক্তির হাতে থাকা সমুচিত হবে না। জনপ্রতিনিধি জন্য নূন্যতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করা এখন সময়ের দাবি।

লেখকঃ শিশির ইসলাম বাবু
সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ।

/আলোকিত ভোর

প্রিয় পাঠক, আপনিও লিখতে পারেন আমাদের পোর্টালে। কোন ঘটনা, পারিপাশ্বিক অবস্থা, জনস্বার্থ, সমস্যা ও সম্ভাবনা, বিষয়-বৈচিত্র বা কারো সাফল্যের গল্প, কবিতা,উপন্যাস, ছবি, আঁকাআঁকি, মতামত, উপ-সম্পাদকীয়, দর্শনীয় স্থান, প্রিয় ব্যক্তিত্বকে নিয়ে ফিচার, হাসির, মজার কিংবা মন খারাপ করা যেকোনো অভিজ্ঞতা লিখে পাঠান সর্বোচ্চ ৩০০ শব্দের মধ্যে। পাঠাতে পারেন ছবিও। মনে রাখবেন দৈনিক আলোকিত ভোর.কম পোর্টালটি সকল শ্রেণী পেশার মানুষের জন‌্য উন্মুক্ত। তাছাড়া, স্বভাবতই আপনি নানান ঘটনার স্বাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন। কোন এলাকা, কোন দিন, কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই দেবেন। আপনার পাঠানো খবর অথবা লেখা মান সম্পন্ন এবং বস্তুনিষ্ঠ হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে। লেখা পাঠানোর ইমেইল- dailyalokitovor@gmail.com