সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বনাম অসামাজিকতা

প্রকাশিত: ১০:২৮ অপরাহ্ণ , ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২১

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির কল্যাণে পুরো বিশ্ব আজ আমাদের হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। কল্পনাতীত বিষয়গুলোও হয়ে উঠেছে সহজেই কল্পনীয়।

কিন্তু এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো কতটা সামাজিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটিয়েছে, কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ায় সেটিই ভাবনার বিষয়। বলা হয়ে থাকে,”বিজ্ঞান মানুষকে দিয়েছে বেগ আর কেড়ে নিয়ে আবেগ”। আসলেই তাই। প্রকৃত প্রেম,ভালোবাসা,মানবিকতা আজ লুপ্তপ্রায়।

পারস্পরিক কুশলাদির বিনিময় ও আজ কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হাই,হেলো ইত্যাদি বাংলিশ শব্দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। বিশেষ করে আমাদের তরুণ সমাজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রতি একনিষ্ঠ মনোযোগ যেনো একপ্রকার ডিজিটাল আসক্তিতে পরিণত হয়েছে।

হাতে থাকা স্মার্ট ফোনটাই যেনো পুরো দুনিয়ায় পরিণত হয়েছে আমাদের। এতে করে সংক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে আমাদের সৃজনশীল চিন্তা ভাবনার জগত।

পরিতাপের বিষয় এই যে আজকাল রাস্তাঘাটে কেউ বিপদে পড়লে আমরা বিপদাপন্ন ব্যক্তিকে সহায়তা করার আগে কীভাবে সেটাকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিস্তৃত করা যায় সেই বিষয়ে উদ্ধিগ্ন হয়ে পড়ি।আমাদের মানবিকতা আজ বিপর্যস্ত। আমরা আত্নপ্রসার নয় বরং আত্মপ্রচারেই সুখ খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করছি প্রতিনিয়ত।

ঘুরতে বের হয়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য উপভোগ করার চেয়েও ছবি তুলে সেটা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রদর্শন করাটাই যেনো আসল কর্মে পরিণত হয়েছে।

এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর কল্যাণে দান সদকার মতো ধর্মভিত্তিক সামাজিক কর্মকান্ডগুলোও আজ লোকদেখানো ব্যাপারের তালিকাভুক্ত হয়েছে।

এছাড়া বর্তমানে বহুল ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেমন ফেইসবুক,হোয়াটসঅ্যাপ,ইন্সট্রাগ্রাম, টুইটার ইত্যাদি আমাদের ভার্চুয়ালি সম্পর্ক বিস্তৃতির নামে প্রকৃতপক্ষে বন্ধুত্বের পরিধিটাকে ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর করে তুলেছে।

বিভিন্ন ধরণের যন্ত্রাংশ নির্ভর খেলাধুলা বাদ দিয়ে খোলা আকাশের নিচে,সবুজ মাঠে খেলাধুলা করার প্রবণতা আজকালকার শিশু-কিশোরদের মধ্যে খুব কমই পরিলক্ষিত হয়।অথচ এই খেলার মাঠ ও এককালের ভ্রাতৃত্ব আর সামাজিকতা শেখার এক উল্লেখযোগ্য মাধ্যম বলে গণ্য হতো।

প্রযুক্তি আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক ব্যবহারসমূহ যেনো আমাদেরকে এক একটা যন্ত্রমানবে পরিণত করেছে। আর এভাবেই সামাজিক অবক্ষয়ের পাশাপাশি নৈতিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে আমাদের তরুণ প্রজন্মের। আমাদের সামাজিকতা আজ কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতেই সীমাবদ্ধ।

গবেষণায় দেখা গেছে যে,যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে খুব বেশি আসক্ত এবং বেশিরভাগ সময়ই এতে নিমগ্ন থাকে তারা তাদের চারপাশটাকে খুবই স্বল্প পরিসরে কল্পনা করে যা তাদের সামাজিকতার উপর বিরুপ প্রভাব ফেলে।

ফলে তাদের চিন্তা,আবেগ,মিথস্ক্রিয়া এবং আচরণ একটা সীমিত পরিসরের মধ্যে কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়ে। ফলে মানসিক বিকাশ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি স্বার্থপরতা,পরশ্রীকাতরতা প্রাত্যহিক আচরণের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে।

দিনের শুরু থেকে শেষ অবধি আমাদের মূল্যবান সময়ের বেশিরভাগটাই ব্যয় হচ্ছে এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর মাধ্যমে। এছাড়াও ছদ্মনাম ও ভুয়া তথ্য ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন অসামাজিক অনাচার ও পরিলক্ষিত হচ্ছে হরহামেশাই।

সব মিলিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো যেনো আজ সামাজিকতার তকমা নিয়ে অসামাজিক অনাচারের মত্ত হয়ে আছে। এই অবস্থার উত্তোরণ আবশ্যক। সর্বোপরি,সৃষ্টির সেরা জীবরুপে খ্যাত মানবের মাঝে পরিপূর্ণরুপে বিকশিত হোক বাস্তবমুখী চিন্তা,মানবতা আর সামাজিকতা।সামাজিকতার আদলে জয় হোক মানবিকতার।

লেখকঃ- রেহেনুমা সেহেলী কবির,
শিক্ষার্থী,বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়,গোপালগঞ্জ।

প্রিয় পাঠক, আপনিও লিখতে পারেন আমাদের পোর্টালে। কোন ঘটনা, পারিপাশ্বিক অবস্থা, জনস্বার্থ, সমস্যা ও সম্ভাবনা, বিষয়-বৈচিত্র বা কারো সাফল্যের গল্প, কবিতা,উপন্যাস, ছবি, আঁকাআঁকি, মতামত, উপ-সম্পাদকীয়, দর্শনীয় স্থান, প্রিয় ব্যক্তিত্বকে নিয়ে ফিচার, হাসির, মজার কিংবা মন খারাপ করা যেকোনো অভিজ্ঞতা লিখে পাঠান সর্বোচ্চ ৩০০ শব্দের মধ্যে। পাঠাতে পারেন ছবিও। মনে রাখবেন দৈনিক আলোকিত ভোর.কম পোর্টালটি সকল শ্রেণী পেশার মানুষের জন‌্য উন্মুক্ত। তাছাড়া, স্বভাবতই আপনি নানান ঘটনার স্বাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন। কোন এলাকা, কোন দিন, কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই দেবেন। আপনার পাঠানো খবর অথবা লেখা মান সম্পন্ন এবং বস্তুনিষ্ঠ হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে। লেখা পাঠানোর ইমেইল- dailyalokitovor@gmail.com