ভালোবাসার অপব্যাখ্যা

প্রকাশিত: ১:৩৫ অপরাহ্ণ , ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২১

সখি ভাবনা কাহারে বলে, সখি যাতনা কাহারে বলে, তোমরা যে বল দিবস রজনী ভালবাসা ভালবাসা, সখী ভালবাসা কারে কয়, সেকি কেবলি যাতনাময়, সেকি কেবলি চোখের জল, সেকি কেবলি দুঃখেরশ্বাস, লোকে তবে করে কি সুখের তরে এমন দুঃখের আশ। বলেছেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

১৪ ফেব্রুয়ারী বিশ্ব ভালবাসা দিবস। অনেকের মতে বিশ্ববেহায়া দিবস। আমাদের দেশে দিবসের যেমন অভাব নেই তেমন ঘটা করে পালনের পরদিন আর খোঁজ নেই এ দৃষ্টান্তও বিরল নয়। বিশ্ব ভালবাসা দিবসের জন্ম পাশ্চাত্য সভ্যতার গর্ভে। এই পাশ্চাত্য বিশ্ব আমাদের দেশে বহু নব নব সভ্যতা রপ্তানী যেমন করেছে অনুরূপ তেমন অসভ্যতা এসেছে।

বহু দৃষ্টান্ত আছে, কতটি বলব? পশ্চিমাদের সব কিছু বর্জন বা গ্রহণে আমি বিশ্বাসী নই। ভাল কিছু গ্রহণ করতে আমার আপত্তি নেই। আমরা অনেকেই ভারতীয় সাংস্কৃতির অন্ধ অনুসারী। এরা আবার কেউ কেউ ভারতীয়দের অদম্য দেশপ্রেমের অনুসারী নয়।

যাই হোক, ভালবাসা দিবসের একটা ইতিহাস আছে। তা আর উল্লেখ করবনা। ভালবাসার সৃষ্টি কবে? মানব সৃষ্টির সূচনা লগ্ন থেকেই। ভালবাসা কি কোন বস্তুগত বিষয়? তার কি কোন দৈহিক অবয়ব আছে? জবাব অতীব সহজ না। এটার উৎপাদক মানুষের অন্তর। আমার অভিমত নর-নারীর ভালবার জন্ম সেক্স থেকে।

অর্থাৎ, সেক্স গিয়ে ভর করে আত্মার উপরে। তবে আমার এই মত নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে। যারা আত্মার প্রেমে বিশ্বাসী দৈহিক নয়, তাদের মনে করিয়ে দেই, আত্মার অস্তিত্ব বৈজ্ঞানিক তত্ত্বে প্রমাণিত নয়। তাই আমার অভিমত হচ্ছে, আত্মার জীনন্ত প্রতীক হল দেহ। দেহ নেই তো আত্মাও নেই। আগেই বলছি, ভালবাসা দিবস বিজাতীয় সাংস্কৃতির অংশ। কেননা, দিবস ভিত্তিক ভালবাসার সাথে মানুষ সমম্পর্কহীন।

দিবস কেন্দ্রীক ভালবাসার সাথে সম্পর্ক থাকতে পারে ইতর শ্রেণীর কোন প্রাণীর। মানুষের জীবন প্রেমময়, ভালবাসাময়। আর এটা হতে হবে প্রতিদিন, প্রতিক্ষণ, প্রতিটা মুহূর্তের তরে। ভালবাসা বিহীন মানুষের জীবন অচল। পৃথিবী বেঁচে আছে ভালবাসাকে ভিত্তি করে। তাই এই দিবস ভিত্তিক ভালোবাসা চাইনা। তবে সেই ভালোবাসা হতে হবে অক্রিতিম, মর্যাদাপূর্ণ। দুনিয়াতে আজ খাঁটি ভালোবাসার খুব অভাব রয়েছে। যুগে যুগে খাঁটি প্রেমের যে দৃষ্টান্ত আছে ভালোবাসার আদর্শ তাই হোক।

এটা হোক সামগ্রিক ভালোবাসা। পৃথিবীময় ভালোবাসার অবস্থান বিশাল অংশ জুড়ে। স্বাভাবিক কারণে ভালোবাসা কেন্দ্রীক লেখাও হবে তদ্রূপ। মনীষীদের বাণী, বাস্তবতা, গল্প, উপন্যাস, কাব্য ও আমাদের অভিব্যক্তিও অনেক অনেক।

সুতরাং ভালোবাসা যেমন অন্তহীন। তার অভিব্যক্তিও অন্তহীন।

মূলত আমরা আসলে যেটাকে ভালোবাসা মনে করি তার বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় পুরোটাই মাকাল ফল উপরে উপরে খুবই লোভনীয়, কিন্তু উদ্দেশ্য থাকে অন্য কিছু।
মনের আকাঙ্খা মিটে যাওয়ার পর নতুন কাউকে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা হয়। আর কেনই বা এই সকল ভালোবাসার শেষ অংশ খারাপ হবে না, আপনার রব যে এই ভালোবাসা কে হালাল করে নি।

আপনি যখন আপনার ভালোবাসা অন্য কাউকে দিবেন, তখন যারা তা পাওয়ার যোগ্য তারা দৃষ্টির আড়াল হয়ে যাবে।
এটি কোন Theory না, এটি একটি সার্বজনীন Fact! সুতরাং শুধু দিবসকে ঘিরে ভালোবাসা আমাদের দ্বারা কখনোই কাম্য নয়, ভালোবাসুন সদা সব সময় একমাত্র প্রভু, ঈশ্বরের জন্য।

লেখক- ইমরান হাসান
শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।

প্রিয় পাঠক, আপনিও লিখতে পারেন আমাদের পোর্টালে। কোন ঘটনা, পারিপাশ্বিক অবস্থা, জনস্বার্থ, সমস্যা ও সম্ভাবনা, বিষয়-বৈচিত্র বা কারো সাফল্যের গল্প, কবিতা,উপন্যাস, ছবি, আঁকাআঁকি, মতামত, উপ-সম্পাদকীয়, দর্শনীয় স্থান, প্রিয় ব্যক্তিত্বকে নিয়ে ফিচার, হাসির, মজার কিংবা মন খারাপ করা যেকোনো অভিজ্ঞতা লিখে পাঠান সর্বোচ্চ ৩০০ শব্দের মধ্যে। পাঠাতে পারেন ছবিও। মনে রাখবেন দৈনিক আলোকিত ভোর.কম পোর্টালটি সকল শ্রেণী পেশার মানুষের জন‌্য উন্মুক্ত। তাছাড়া, স্বভাবতই আপনি নানান ঘটনার স্বাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন। কোন এলাকা, কোন দিন, কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই দেবেন। আপনার পাঠানো খবর অথবা লেখা মান সম্পন্ন এবং বস্তুনিষ্ঠ হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে। লেখা পাঠানোর ইমেইল- dailyalokitovor@gmail.com