ছাদকৃষি: সম্ভাবনার নয়া দিগন্ত

প্রকাশিত: ১২:০০ অপরাহ্ণ , ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২১

ছাদকৃষির ধারনা আমাদের দেশে নতুন হলেও করোনা কালে এর ব্যাপক বিস্তার লক্ষ্য করা গিয়েছে। বিশেষ করে শহর অঞ্চলের বাসিন্দারা তাদের বাসা-বাড়ির খোলা ছাদে মৌসুমি শাক- সবজি ও বিভিন্ন জাতের ফল চাষ করার দিকে আগ্রহী হচ্ছেন।

শুধু যে বাসা-বাড়ির ছাদে ছাদকৃষি বিস্তার লাভ করছে এমন টা নয় ,অনেক বানিজ্যিক ভবন,স্কুল – কলেজ ও হাসপাতালের ছাদেও ছাদকৃষি লক্ষ্য করা যায়। ছাদকৃষির প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে টাটকা ও ফরমালিন মুক্ত শাক-সবজি ও ফলমূল আহরণ।

আমাদের দেশে ছাদকৃষি নিয়ে আলাদা কোন নিয়ম বা আইনকানুন নেই। ছাদকৃষির জন্য আলাদা বরাদ্দ বা প্রনোদনাও নেই।

তাছাড়া ছাদকৃষি সম্পর্কে সবার জ্ঞানের বিস্তার ও কম আর তাই অনেকের ইচ্ছা থাকলেও তা বাস্তবায়িত করতে পারছেন না।তবে আমরা যদি সঠিক কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করতে পারি এবং পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে পারি তাহলে এটি হতে পারে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার।

ছাদকৃষির বিস্তারিত তথ্য,চাষ পদ্ধতি,পরিচর্যা, রোগ বালাই ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সকলকে অবহিত করতে পারলে তা সূদুরপ্রসারি ফল বয়ে আনবে।ছাদকৃষিতে খরচ নেই বললেই চলে।সঠিক ভাবে মাটি প্রস্তুত করতে পারলে এবং নিয়মিত পরিচর্যা করলে প্রায় সকল ধরনের মৌসুমি শাক- সবজি ফলানো সম্ভব।

শুধু তাই নয় যদি কেউ ছাদে শীম,টমেটো, লাউ,করলা সহ বিভিন্ন উচ্চ ফলনশীল জাতের আম,পেয়ারা,লিচু চাষ করে তাহলে তাকে আলাদা ভাবে বাজার থেকে এসব কিনতে হবে না।বাড়িতে ঘরোয়া উপাদান দিয়েই সার ও কীটনাশক প্রস্তুত করা যায়। সার ও কীটনাশক এর জন্য আলদা খরচ করার প্রয়োজন নেই।এক সমীক্ষায় দেখা যায় শুধুমাত্র ঢাকা শহরে ১৪ লক্ষ উন্মুক্ত ছাদ রয়েছে।

তাছাড়া আরেকটি গবেষণায় দেখা যায় ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের সব মানুষ শহরে বাস করবে। তাই ছাদকৃষির গুরুত্ব বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। আমরা যদি এসব ছাদকে ব্যাবহার করতে পারি তাহলে সারাবছর টাটকা ও বিষমুক্ত শাক-সবজি ও ফলমূল পেতে পারি। এতে একদিকে যেমন পুষ্টির চাহিদা পুরন হবে তেমনি অর্থনৈতিক ভাবেও লাভবান হওয়া যাবে।

এছাড়া শহর অঞ্চলে সবুজের সমারোহ ঘটবে,প্রাণের সঞ্চার ঘটবে এবং ছাদগুলো অক্সিজেন ব্যাংক হিসেবে কাজ করবে।

লেখক- আবু ওবায়েদ ফাহাদুজ্জামান
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়,ময়মনসিংহ।

প্রিয় পাঠক, আপনিও লিখতে পারেন আমাদের পোর্টালে। কোন ঘটনা, পারিপাশ্বিক অবস্থা, জনস্বার্থ, সমস্যা ও সম্ভাবনা, বিষয়-বৈচিত্র বা কারো সাফল্যের গল্প, কবিতা,উপন্যাস, ছবি, আঁকাআঁকি, মতামত, উপ-সম্পাদকীয়, দর্শনীয় স্থান, প্রিয় ব্যক্তিত্বকে নিয়ে ফিচার, হাসির, মজার কিংবা মন খারাপ করা যেকোনো অভিজ্ঞতা লিখে পাঠান সর্বোচ্চ ৩০০ শব্দের মধ্যে। পাঠাতে পারেন ছবিও। মনে রাখবেন দৈনিক আলোকিত ভোর.কম পোর্টালটি সকল শ্রেণী পেশার মানুষের জন‌্য উন্মুক্ত। তাছাড়া, স্বভাবতই আপনি নানান ঘটনার স্বাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন। কোন এলাকা, কোন দিন, কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই দেবেন। আপনার পাঠানো খবর অথবা লেখা মান সম্পন্ন এবং বস্তুনিষ্ঠ হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে। লেখা পাঠানোর ইমেইল- dailyalokitovor@gmail.com