চা পাতা দিয়ে তৈরি হচ্ছে সুস্বাদু ভর্তা-আচার !

প্রকাশিত: ১:২৯ অপরাহ্ণ , ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক: মূলত পানীয় তৈরির জন্যই চায়ের পাতা। কিন্তু কাঁচা পাতা সরাসরি খাওয়া যায়, তাও আবার ভর্তা বা আচার বানিয়ে। অনেকটাই অবাক করার মতো। অথচ যুগ যুগ ধরে চা বাগানের কর্মী, বিশেষ করে নারী শ্রমিকরা দুপুরের আহারের সঙ্গে এমনই মুখরোচক খাবার খান।

কাজের ব্যস্ততায় বাগানে থাকতে হলেও অনেকের মন চলে যায় ‘ঘুণ্টিঘরে’ (বিশ্রাম ঘর)। ক্ষুধা জানান দেয়, পেটপূর্তির আয়োজন না হলে বাকি কাজ যে কাঙ্ক্ষিত গতিতে শেষ হবে না।

ঠিক সে কারণেই একটু বিরতি চাই। দুপুরের খাবার খেতে হবে। তা অবশ্যই শেষ করতে হবে বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যেই। দরিদ্র শ্রমিকদের কপালে দামি খাবার জোটে না কোনোদিনই। তবে তারা যেটি খেয়ে থাকেন তা অনেকের কাছেই অজানা। অবিশ্বাস্যও বটে।

জিরোনোর ঘরে বসে মিলে মিশে তৈরি করা হয় ‘পাতিচখা’। হাতে সময় মাত্র ত্রিশ মিনিট। সেই ব্রিটিশ আমল থেকেই নারী শ্রমিকরা তৈরি করেন চা-পাতার চাটনি। তাদের কাছে ‘পাতিচখা’ নামে পরিচিত।

সাধারণ চোখে দেখলে মনে হবে, চায়ের পাতা কচলে সহায়ক উপাদান মিশিয়ে নিলেই হয়। কিন্তু শুধু তা নয়, রীতি মেনে বানাতে হয় খাবারটি। শ্রমিকদের মধ্যে যিনি বয়স্ক এবং জাত-পাতে বড় অবস্থানে, তিনি তৈরি করেন আচার।

শ্রমিকদের মধ্যে কেউ নিয়ে আসেন- চাল ভাজা, কেউ আলু পোড়া, কেউ বা আবার পেয়াঁজ, রসুন, মরিচ। সময়ের সাথে তাদের খাদ্য উপাদানেও কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। হাল আমলের চিপস অথবা চানাচুর যুক্ত হয়েছে।

এক নারী শ্রমিক বলেন, ‘মুড়ি, চানাচুর, টমেটো, আলু দিয়ে ভর্তা বানিয়ে সবাই মিলে খায়। সকলের কাছে খুবই উপাদেয় দুপুরের খাবার। তাদের মধ্যে যারা একটু স্বচ্ছল- তারা ঘর থেকে নিয়ে আসা আটার রুটির সাথে চাটনি মেখে সেরে নেন আহার পর্ব।

খাবার নিয়ে শ্রমিকদের এ সম্মিলিত আয়োজন ঘিরে বেশ আগ্রহ ও কৌতূহল রয়েছে কর্তৃপক্ষেরও। ঐতিহ্য দেখে অভিভূত তারাও
মৌলভীবাজার মাথিউরা চা-বাগানে সহ-ব্যবস্থাপক মো. বেলাল উদ্দিন বলেন, ‘আসলে এটা অনেক ভালো লাগে তারা চা পাতা দিয়ে বিভিন্ন রকম জিনিস বানিয়ে সবাই একসাথে বসে খায়।

মূলত এ ধরনের খাবারের রেসিপি তৈরি হয়েছে অনেকটা অর্থনৈতিক সংকটের কারণেই। স্বল্প খরচে শ্রমিকরা পেটভরা ও শক্তি সঞ্চয় দুটোই করতে পারেন এ পাতার তৈরি চাটনি থেকে। চা-বাগানে দৈনিক মজুরি বর্তমানে ১১৮ টাকা।

এ মজুরি পেতে বাগানভেদে ২০ থেকে ২৫ কেজি চা-পাতা তুলতে হয় নারী শ্রমিককে। বাড়তি পাতা তুললে যে পরিমাণ টাকা পাওয়ার কথা, তাও পান না বেশির ভাগ শ্রমিক।

তবে শুধু বাগানে পাতা তোলাই নয়, ঘরের কাজও করতে হয় এ নারীদেরই। সাত সকাল থেকে মধ্যরাত, বিরামহীন কাজের তুলনায় বাসায় কিংবা বাগানে সুষম খাবার জোটে না বললেই চলে। লাখো শ্রমিকের ক্ষুধা নিবারণ আর কর্মউদ্দীপনা ধরে রাখতে প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি ঐতিহ্যবাহী পাতিচখাই প্রধান।

দেশের উন্নয়নে অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হিসেবে নারী শ্রমিকরা কাজ করলেও তাদের ভাগ্যের নেই কোনো পরিবর্তন। যুগ যুগ ধরে এভাবেই কাটছে চা-শ্রমিকদের জীবন।

প্রিয় পাঠক, আপনিও লিখতে পারেন আমাদের পোর্টালে। কোন ঘটনা, পারিপাশ্বিক অবস্থা, জনস্বার্থ, সমস্যা ও সম্ভাবনা, বিষয়-বৈচিত্র বা কারো সাফল্যের গল্প, কবিতা,উপন্যাস, ছবি, আঁকাআঁকি, মতামত, উপ-সম্পাদকীয়, দর্শনীয় স্থান, প্রিয় ব্যক্তিত্বকে নিয়ে ফিচার, হাসির, মজার কিংবা মন খারাপ করা যেকোনো অভিজ্ঞতা লিখে পাঠান সর্বোচ্চ ৩০০ শব্দের মধ্যে। পাঠাতে পারেন ছবিও। মনে রাখবেন দৈনিক আলোকিত ভোর.কম পোর্টালটি সকল শ্রেণী পেশার মানুষের জন‌্য উন্মুক্ত। তাছাড়া, স্বভাবতই আপনি নানান ঘটনার স্বাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন। কোন এলাকা, কোন দিন, কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই দেবেন। আপনার পাঠানো খবর অথবা লেখা মান সম্পন্ন এবং বস্তুনিষ্ঠ হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে। লেখা পাঠানোর ইমেইল- dailyalokitovor@gmail.com