সনদসর্বস্ব শিক্ষাই বেকারত্ব নিরসনের অন্তরায়

প্রকাশিত: ৯:৫২ অপরাহ্ণ , ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২১

রেহেনুমা সেহেলী কবিরঃ “যে জাতি যত বেশি শিক্ষিত, সে জাতি তত বেশি উন্নত”-প্রচলিত এই প্রবাদকে সঙ্গে নিয়েই মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তীকালে ১৯৭২ সালে তৎকালীন খ্যাতনামা শিক্ষাবিদ ও বিজ্ঞানী ড. কুদরত-ই-খুদা কে প্রধান করে শিক্ষা কমিশন গঠন করার মধ্য দিয়ে সেই থেকে আজ অবধি বাংলাদেশের শিক্ষা ক্ষেত্রকে প্রাধান্য দিয়ে অগ্রযাত্রার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

এমনকি বর্তমান সরকারের শাসনামলেও বিভিন্ন মেয়াদে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিশেষ বিবৃতিতে জানা যায়, বর্তমান সরকারের তিন মেয়াদে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৩৩ হাজার ২১১ টি। তন্মধ্যে বিগত সাত বছরে বেড়েছে ২৭হাজার ৫৩৭ টি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এই সাংখ্যিক মানোন্নয়ন নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।

এতদসত্ত্বেও আমাদের সমাজে বিদ্যমান বেকারত্ব সমস্যা যেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এই সাংখ্যিক মানের চেয়েও গুণগত মানের উপর গুরুত্বারোপ করার আবশ্যকতার জানান দিচ্ছে। উল্লেখ্য যে আমাদের বর্তমান শিক্ষা অনেকটাই সনদ সর্বস্ব বলে বিবেচ্য। আর এই সনদ সর্বস্ব শিক্ষাই শিক্ষিত বেকার তৈরির মূল হোতা। এছাড়া আমাদের সৃজনশীল শিক্ষা পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশে কতটা সফল তারই একটি বিরুপ চিত্র ধারণ করে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মুখস্থ নির্ভর বিজ্ঞান শিক্ষা।

যদিও বিজ্ঞান মানেই হচ্ছে পরীক্ষা-নীরিক্ষার মাধ্যমে বিশেষভাবে অর্জিত ব্যবহারিক জ্ঞান তবুও পরিতাপের বিষয় হচ্ছে বর্তমানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিলক্ষিত হয় এর উল্টো চিত্র। এমনকি বিভিন্ন সরকারি বিদ্যালয়গুলোতেও সরকার প্রদত্ত যথেষ্ট ব্যবহারিক শিক্ষা উপকরণ, ল্যাব ইত্যাদি থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীরা ব্যবহারিক শিক্ষা লাভের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

ফলে বাধ্য হয়েই বিজ্ঞান কিংবা তথ্য প্রযুক্তির মতো বিষয়গুলোও শিক্ষার্থীরা মুখস্থ করে নিচ্ছে। আর না বুঝে শুধু মুখস্থ নির্ভর জ্ঞানার্জন তাদের বিদ্যায়তনিক পরীক্ষা গুলোতে ভালো ফলাফল তথা সনদ প্রদানে সক্ষম হলেও তা শিক্ষার্থীর মেধা ও মননের বিকাশকে ব্যাহত করে চলছে অবিরত।এভাবে ব্যবহারিক নির্ভর বিষয়গুলো না বুঝেই রুপকথার গল্পের মতো করে পড়ে মুখস্থ করাটা মস্তিষ্কের উপর বিশাল চাপ সৃষ্টি করার পাশাপাশি নতুন ও উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনার জগতকে ক্রমশ সংকুচিত করে তুলছে।

আর এভাবেই মুখস্থ বিদ্যায় পারদর্শী, সনদ দারী জনগোষ্ঠীই প্রতিবছর শিক্ষিত বেকারের তালিকাভুক্ত হচ্ছে। কারণ সনদসর্বস্ব পড়াশোনা কভুও চাকরি পাওয়ার মাধ্যম হতে পারেনা কেননা চাকরিক্ষেত্রগুলো সর্বদা প্রতিভাবান, মননশীল, দক্ষতাসম্পন্ন প্রায়োগিক শিক্ষায় শিক্ষিতদের উপর গুরুত্বারোপ করে।

আর এইসব গুণাবলির অভাবই মূলত শিক্ষিত বেকার সমস্যার সৃষ্টি করে।কিন্তু এই সমস্যা নিরসন কারো একার কর্ম নয়। বরং এর জন্য প্রয়োজন প্রায়োগিক শিক্ষার্জন ও অর্জিত শিক্ষাকে প্রয়োগ করার যোগ্য শিক্ষার্থী তৈরিতে ব্যক্তিগত, সরকারি ও বেসরকারি নানামুখী প্রচেষ্টা। অন্যথায় এই মধ্যম আয়ের দেশটিতে শিক্ষিত বেকার সমস্যা একটি ধ্রুব সমস্যা হিসেবে বিরাজ করবে। যা কখনোই কারও কাম্য নয়।

লেখকঃ রেহেনুমা সেহেলী কবির
শিক্ষার্থী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ।

প্রিয় পাঠক, আপনিও লিখতে পারেন আমাদের পোর্টালে। কোন ঘটনা, পারিপাশ্বিক অবস্থা, জনস্বার্থ, সমস্যা ও সম্ভাবনা, বিষয়-বৈচিত্র বা কারো সাফল্যের গল্প, কবিতা,উপন্যাস, ছবি, আঁকাআঁকি, মতামত, উপ-সম্পাদকীয়, দর্শনীয় স্থান, প্রিয় ব্যক্তিত্বকে নিয়ে ফিচার, হাসির, মজার কিংবা মন খারাপ করা যেকোনো অভিজ্ঞতা লিখে পাঠান সর্বোচ্চ ৩০০ শব্দের মধ্যে। পাঠাতে পারেন ছবিও। মনে রাখবেন দৈনিক আলোকিত ভোর.কম পোর্টালটি সকল শ্রেণী পেশার মানুষের জন‌্য উন্মুক্ত। তাছাড়া, স্বভাবতই আপনি নানান ঘটনার স্বাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন। কোন এলাকা, কোন দিন, কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই দেবেন। আপনার পাঠানো খবর অথবা লেখা মান সম্পন্ন এবং বস্তুনিষ্ঠ হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে। লেখা পাঠানোর ইমেইল- dailyalokitovor@gmail.com