পাপুলের আসনে এমপি হতে ডজনখানেক মনোনয়নপ্রত্যাশীর দৌড়ঝাঁপ

প্রকাশিত: ১০:২৫ অপরাহ্ণ , ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২১

লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদরের একাংশ) আসনের আলোচিত সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল মানবপাচারসহ বিভিন্ন অপরাধে কুয়েতে সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার পর থেকেই তার আসনে সম্ভাব্য উপ-নির্বাচন নিয়ে আলোচনা চলছিল।

এই আলোচনা জোরেশোরে ওঠে আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী রাজনীতিকদের সক্রিয়তা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায়। সম্ভাব্য উপ-নির্বাচন ঘিরে এলাকায় যাওয়া-আসা শুরু করেন ডজনখানেক মনোনয়নপ্রত্যাশী।

সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন এই এমপির রায়ের কপি সরকার হাতে পেয়েছে এবং সংসদ পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে বলে জানানোর পর উপ-নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা স্ব স্ব দলীয় হাইকমান্ডেও যোগাযোগ শুরু করেন। দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন মনোনয়ন সংশ্লিষ্ট ফোরামে।

আগামীতে আমরা অপরাজনীতিমুক্ত, কালো টাকার মালিক ও জনবিচ্ছিন্ন কাউকে এমপি পদে দেখতে চাই না

সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমেদ খান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে পাপুলের সংসদ সদস্য পদ বাতিল করা হয়েছে, যার মধ্য দিয়ে তার সংসদীয় আসনটি শূন্য হয়ে যায়। ফলে এখন লক্ষ্মীপুর-২ আসনের বাসিন্দা ও রাজনীতিকরা আসনটির উপনির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন।

এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পাপুলের আসন শূন্য ও সম্ভাব্য উপ-নির্বাচন ঘিরে এরই মধ্যে এলাকায় যাওয়া-আসা শুরু করেছেন আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন দল ও এর বাইরের রাজনীতিকরা। এরা আসনটিতে এমপি হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। এরমধ্যে জনবিচ্ছিন্ন বলে পরিচিত একাধিক নেতাও রয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির অন্তত ডজনখানেক নেতার অনুসারী আগাম প্রচারণা শুরু করে দিয়েছেন। ‘প্রিয় নেতার’ রঙিন ছবিসহ পোস্টার বানিয়ে তারা লক্ষ্মীপুর-২ আসনের জনগণকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন।

এদের মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়ন, আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য হারুনুর রশিদ, জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক এহসানুল কবির জগলুল, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ আলী খোকন,

বর্তমান কমিটির উপ-পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক সামছুল ইসলাম পাটওয়ারী, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, রায়পুর উপজেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক হারুনের রশীদের পক্ষে দলের নেতাকর্মী এবং সমর্থকরা আলাদা ও বিক্ষিপ্তভাবে প্রচার চালাচ্ছেন। ফেসবুক স্ট্যাটাসের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় সাঁটানো হয়েছে ওই নেতাদের পোস্টার-ফেস্টুনও।

অন্যদিকে, বিএনপি নেতাকর্মীরা সাবেক সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়ার পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন। যদিও এ সংখ্যা নগণ্য। গেল নির্বাচনেও তিনি এ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। খায়ের ভূঁইয়া বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি।

এছাড়া জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক এম আর মাসুদ ও নোয়াখালী জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক বোরহান উদ্দিন মিঠুও এই আসনের এমপি হতে চান।

এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এমপি পদ শূন্য ও উপ-নির্বাচনকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগের কয়েকজন মনোনয়নপ্রত্যাশী এলাকায় আসা-যাওয়া বাড়িয়ে দিয়েছেন। যদিও করোনাকালে এলাকায় তাদের সরব উপস্থিতি দেখা যায়নি।

এ আসনে সম্ভাব্য উপ-নির্বাচনকে সামনে রেখে পৌরসভা ও ইউনিয়নগুলোতে সম্প্রতি কিছু কম্বল দেয়া হয়। মনোনয়নপ্রত্যাশীরা জেলা ও উপজেলার শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও যোগাযোগ রক্ষা করে যাচ্ছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে রায়পুর উপজেলার তিনজন ইউপি চেয়ারম্যান জানান, এ আসনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টিসহ কয়েকটি দলের ডজনখানেক নেতা এমপি পদে উপনির্বাচনে প্রার্থী হতে অনুসারীদের দিয়ে প্রচারণা শুরু করেছেন।

এদের মধ্যে অনেকেই জনবিচ্ছিন্ন ও বিতর্কিত নেতা। নির্বাচন এলেই তাদেরকে এলাকায় দেখা যায়। এরপরে তাদের আর দেখা যায় না।

উপ-নির্বাচনে মনোনয়ন চাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে রায়পুরের সন্তান নোয়াখালী জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক বোরহান উদ্দিন মিঠু বলেন, ‘রায়পুরের জনগণ বরাবরই উন্নয়নবঞ্চিত। এখন উপ-নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। দল থেকে আমি মনোনয়ন চাইব।’

লক্ষ্মীপুর আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, ‘আগামীতে আমরা অপরাজনীতিমুক্ত, কালো টাকার মালিক ও জনবিচ্ছিন্ন কাউকে এমপি পদে দেখতে চাই না। পরীক্ষিত ও তৃণমূলে বসবাসকারী নেতা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাবেন বলে আমরা প্রত্যাশা করি।’

কেন্দ্রীয় যুবলীগের উপপরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক সামছুল ইসলাম পাটওয়ারী বলেন, ‘পাপুলের কারণে আমরা আন্তর্জাতিকভাবে লজ্জিত হয়েছি। এরকম লজ্জার কারণ আর আমরা হতে চাই না। এ আসনে আওয়ামী লীগের ত্যাগী ও যোগ্যদের মধ্য থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছি। যিনি নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করবেন।’

জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়ন বলেন, ‘এমপি পাপুলের অনুপস্থিতির কারণে প্রশাসনিক কার্যক্রম ও উন্নয়ন ব্যাহত হয়েছে। এখন উপ-নির্বাচনের বিষয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্র থেকে সিদ্ধান্ত আসা সময়ের ব্যাপার। আমাদের দলের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ আছে।’

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাটকীয়ভাবে কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল এমপি নির্বাচিত হন। রাজনীতির বাইরে থাকা ‘টাকার সাগর’ নামে খ্যাত এ ব্যক্তি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর ভর করে তখন স্বতন্ত্র এমপি হয়েছিলেন।

কুয়েতে পাপুলের বিরুদ্ধে ২০২০ সালের শুরুতে মানব ও মুদ্রা পাচারের অভিযোগ ওঠে। পরে ওই মামলায় পাপুল একই বছরের ছয় জুন কুয়েতে গ্রেফতার হন। গত ২৮ জানুয়ারি ওই দেশের ফৌজদারি আদালত পাপুলের চার বছর কারাদণ্ডাদেশ দেন। পাশাপাশি ৫৩ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়। তার স্ত্রী সেলিনা ইসলামও কুমিল্লার সংরক্ষিত আসনের (স্বতন্ত্র) এমপি।

প্রিয় পাঠক, আপনিও লিখতে পারেন আমাদের পোর্টালে। কোন ঘটনা, পারিপাশ্বিক অবস্থা, জনস্বার্থ, সমস্যা ও সম্ভাবনা, বিষয়-বৈচিত্র বা কারো সাফল্যের গল্প, কবিতা,উপন্যাস, ছবি, আঁকাআঁকি, মতামত, উপ-সম্পাদকীয়, দর্শনীয় স্থান, প্রিয় ব্যক্তিত্বকে নিয়ে ফিচার, হাসির, মজার কিংবা মন খারাপ করা যেকোনো অভিজ্ঞতা লিখে পাঠান সর্বোচ্চ ৩০০ শব্দের মধ্যে। পাঠাতে পারেন ছবিও। মনে রাখবেন দৈনিক আলোকিত ভোর.কম পোর্টালটি সকল শ্রেণী পেশার মানুষের জন‌্য উন্মুক্ত। তাছাড়া, স্বভাবতই আপনি নানান ঘটনার স্বাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন। কোন এলাকা, কোন দিন, কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই দেবেন। আপনার পাঠানো খবর অথবা লেখা মান সম্পন্ন এবং বস্তুনিষ্ঠ হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে। লেখা পাঠানোর ইমেইল- dailyalokitovor@gmail.com