এক্সক্লুসিভ নিউজজাতীয়

ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচনে ১৮ প্রার্থী অবৈধ, বেশিরভাগই ঋণখেলাপি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচন ২০২০ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর যাচাই-বাছাইয়ে ১৮ জন প্রার্থীকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) তাদের অবৈধ ঘোষণা করেন ডিএনসিসি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবুল কাসেম। এর মধ্যে জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী জি এম কামরুল ইসলামও রয়েছেন। তিনি উত্তর সিটির ভোটার না, এ যুক্তিতে তার মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। এছাড়া, বাকি যারা অবৈধ হয়েছেন তাদের বেশিরভাগই ঋণখেলাপি। নির্বাচন কমিশন সূত্রে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে আগারগাঁওয়ের জাতীয় স্থানীয় সরকার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে শুরু হয় প্রার্থীদের মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের কাজ। বিকাল পাঁচটার পর জানা যায়, মেয়র পদে একজন, সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে দু’জন এবং সাধারণ আসনের কাউন্সিলর পদে ১৫ জনকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন সাত জন। এরা হলেন— আওয়ামী লীগের আতিকুল ইসলাম, বিএনপির তাবিথ আউয়াল,জাতীয় পার্টির জিএম কামরুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শেখ মো. ফজলে বারী মাসউদ, পিডিপির শাহীন খান, এনপিপির মো. আনিসুর রহমান দেওয়ান ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির আহম্মেদ সাজেদুল হক। এদের মধ্যে শুধুমাত্র জিএম কামরুল ইসলামের মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করা হয়।

অবৈধ ঘোষণার কারণ হিসেবে রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল কাসেম বলেন, ‘জাতীয় পার্টির প্রার্থী জি এম কামরুল ইসলাম সিটি করপোরেশনের ভোটার নয় বলে নির্বাচন কমিশন তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করতে পারেনি।’

কামরুল ইসলামকে উদ্দেশ করে রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, ‘আপনার মনোনয়নপত্র আমরা দেখেছি। আপনি সিটি করপোরেশনের ভোটার নন। এটা আমরা অনেকবার দেখেছি। এ কারণে আপনার মনোনয়নপত্র আমরা গ্রহণ করতে পারছি না। আপনি চাইলে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কাছে আগামী তিন দিনের মধ্যে আপিল করতে পারেন।’

মনোনয়ন পত্র বাতিল হওয়ায় কামরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি প্রথমবারের মতো মেয়র পদে প্রার্থী হতে এসেছিলাম। এটা আমার জন্য খুব দুঃখজনক। আমি ডিওএইচএস এলাকায় থাকি বলে আমার মনোনয়ন বাতিল করা হলো।’ তিনি বলেন, ‘আমার যে ভোটার তালিকা আছে, সেখানে দুই নম্বর ওয়ার্ড এবং সিটি করপোরেশন দেখানো হয়েছে। সেহেতু আমি যোগ্য ভোটার হিসেবে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছি। এখন আমি আইনের সহায়তা নেবো। আমি অবশ্যই আইনের প্রক্রিয়ায় যাবো। আমি নির্বাচন করার জন্য এসেছি। সাধ্য মতো চেষ্টা করবো থাকতে।’

ঋণখেলাপিদের অবৈধ ঘোষণা

সকাল থেকে সরেজমিনে দেখা যায়, মনোনয়ন পত্রে ছোটখাটো ভুল, কিংবা স্বাক্ষর না থাকার কারণে বিশেষ ছাড় দিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। তবে ঋণখেলাপি কিংবা খেলাপি ঋণের জামানতকারী হলে তাদের ছাড় দেওয়া হয়নি। অবৈধ ঘোষিত কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে ১২ জন ঋণখেলাপি বলে জানা গেছে। আর বাকি তিন জন ছিলেন ঋণের জামানতকারী। ঋণখেলাপির মধ্যে সংরক্ষিত আসনের নারী কাউন্সিলর প্রার্থীও আছেন। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল কাসেম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের থেকে আমরা মনোনয়ন জমা দেওয়া প্রত্যেক প্রার্থীর সিআইবি রিপোর্ট পেয়েছি। এটা আপডেটেড রিপোর্ট, ১ জানুয়ারি ২০২০ এর। এর মধ্যে যারা ঋণখেলাপি এবং বিল খেলাপি তাদেরই আমরা অবৈধ বলে ঘোষণা করেছি।’

অবৈধ ঘোষণাকারীদের মধ্যে ৫২ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী মির্জা মোহাম্মদ ইলিয়াস বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি রিপোর্ট অনুযায়ী একজন ঋণখেলাপি। তাই তার মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু মির্জা ইলিয়াস রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানান যে, তার ঋণ শোধ করা আছে এবং সে বিষয়ে ব্যাংকের একটি চিঠিও তার সঙ্গে আছে।

রিটার্নিং কর্মকর্তা তখন মোহাম্মদ ইলিয়াসকে বলেন, ‘আমি বাংলাদেশ ব্যাংকের রিপোর্ট দেখবো। সেখানে গত ১ জানুয়ারি পর্যন্ত আপনাকে ঋণখেলাপি উল্লেখ করা আছে। হয়তো আপনি শোধ করে থাকতে পারেন, কিন্তু আপনার ব্যাংক সেই তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংককে দেয়নি, যে কারণে সেখানে আপডেট করা নেই। আপনি আপনার ব্যাংকের সঙ্গে কথা বলুন। আপনার কাছে তিন দিন সময় আছে, এর বিরুদ্ধে আপিল করার। আমার হাতের রিপোর্ট অনুযায়ী আমি আপনাকে বৈধ ঘোষণা করতে পারি না।’

অবৈধ ঘোষণা করা বেশিরভাগই ঋণখেলাপি এমনটি জানিয়ে আবুল কাসেম বলেন, ‘বাংলাদেশের ব্যাংকের সিআইবি রিপোর্ট অনুযায়ী যারা ঋণ খেলাপি, তাদের মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া, ছোটখাটো ভুল-ত্রুটি ছাড় দেওয়া হয়েছে। দেখা গেছে, সার্টিফিকেটের জায়গায় অনেকেই মার্কশিট জমা দিয়েছেন। মার্কশিট যার আছে তার অবশ্যই সার্টিফিকেট আছে। হয়তো খুঁজে পাননি, এজন্য মার্কশিট দিয়েছেন। সেটাও আমরা বৈধ হিসেবে বিবেচনা করেছি।’

ছাড় দেওয়া হয়েছে ক্রেডিট কার্ডের লোন

মনোনয়ন জমা দেওয়া প্রার্থীদের অনেকের ক্রেডিট কার্ডের তথ্য নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেখানে যাদের নাম এসেছে তাদের প্রত্যেককে এই ইস্যুতে ছাড় দিয়ে বৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এক্ষেত্রে কেন ছাড় দেওয়া হয়েছে, জানতে চাইলে আবুল কাসেম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ক্রেডিট কার্ড না ধরার কারণ হলো— অনেক সময় ব্যাংক প্রার্থীকে জানায় না। যদি ব্যাংক দেখাতো যে, প্রার্থীকে নোটিশ দেওয়ার পরও ঋণ শোধ করেনি,তাহলে আমরা বাতিল করতাম।’

উল্লেখ্য, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন মেয়র পদে সাত জন, সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর পদে ৮৯ জন এবং সাধারণ আসনের কাউন্সিলর পদে ৩৭৪ জন। এর মধ্যে মেয়র প্রার্থী বৈধ হয়েছেন ছয় জন, সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর ৮৭ জন এবং সাধারণ আসনের কাউন্সিলর পদে ৩৫৯ জন। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ৯ জানুয়ারি এবং প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ১০ জানুয়ারি।

Tags

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
You cannot copy content of this page
Close
Close