গল্প-উপন্যাসসাহিত্যাঙ্গন

ছোট গল্প: – ‍নিশাচর

পর্ব-১.
ঘড়িতে সময় রাত একটা পঁয়তাল্লিশ। শিশির তার রুম থেকে খুব সাবধানে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামলো। অতি সন্তপর্ণে গেটটি খুলে গলির রাস্তাধরে এগিয়ে চললো। গন্তব্য লাল্টু মিয়ার চায়ের দোকান। দোকানটি শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত। শিশিরের বাসা থেকে শহরের দূরত্ব খানিকটা দূরে। পায়ে হেঁটে যেতে মিনিট পনেরো মত সময় লাগে।

শিশির এরই মধ্যে মেইন রোডে এসে পোঁছেছে। কৃষ্ণপক্ষের আলো আঁধারে জড়িয়ে আছে পুরো শহরটা। কোন রিকশা বা অটো চোখে পড়লোনা। পুরো রাস্তা শুনসান নীরবতায় আচ্ছন্ন হয়ে আছে। হাতে গোনা কযেকটি ডিসপেনসারি ছাড়া সব দোকান বন্ধ হয়ে গেছে অনেক আগে। লম্বা রাস্তার দু’ধারে ল্যাম্প পোস্টের আলো মিটমিট করে জ্বলছে। শিশির খুব উৎসাহ নিয়ে হেঁটে চলেছে লাল্টু মিয়ার দোকানের উদ্দেশ্যে।

পর্ব-২.
মাঝরাতে এমন একা একা পিচ ঢালা রাস্তায় হাঁটার সময় মনের মধ্যে অন্যরকম একটা অনুভূতির সৃষ্টি হয়। যারা রাতে হাঁটে তারাই শুধুমাত্র উপলব্ধি করতে পারবে। চারপাশে নিস্তব্ধতায় নিজের পায়ের শব্দ ছাড়া কিছু শোনা যাচ্ছেনা। মাঝে মাঝে দুই একটি মালবাহী ট্রাক শোঁ শোঁ শব্দ করে আসা যাওয়া করছে। অনেক দূর থেকে হেডলাইটের আলো শিশিরের চোখে এসে লাগছে। এক পর্যায়ে বিকট হর্ন বাজিয়ে পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছে ট্রাক গুলো।

কিছুদূর যাওয়ার পর গাড়ির শোঁ শোঁ শব্দ রাতের অন্ধকারের মধ্যে মিলিয়ে গেলো। পর মুহূর্তে নিস্তব্ধতা গ্রাস করলো পুরো শহরকে। সঙ্গে সঙ্গেই ভূতুড়েভাব নেমে আসলো। শিশিরের বুক ধুকধুক করে উঠলো। এর আগেও অবশ্য সে বেশ কয়েক বার কাউকে কিছু না জানিয়ে মধ্য রাতে লাল্টু মিয়ার দোকানে এসেছে। তবে আজ কেন জানি তার একটু ভয়ভয় করছে। সে হাঁটার গতি বাড়িয়ে দিলো।

পর্ব-৩.
লাল্টু মিয়ার দোকানে ডাবল হিটের দুধ চা আর বেশ চড়া ঝাল দিয়ে ডিম রুটি ভাজি খেতে মূলত তার এতটা পথ আসা। শিশিরের মামা জনাব রিপনসাহেব তাকে এই নেশাটা ধরিয়েছে। দুই বছর আগে এমনই এক মধ্য রাতে মামার সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভর্তিযুদ্ধ শেষ করে ফেরার পথে লাল্টুমিয়ার দোকান থেকে ডিম রুটি আর চা খেয়েছিলো। তখন থেকে শুরু। সেদিন ঢাকাতে পড়ার নেশা হাত ছাড়া হলেও ডিম রুটি আর ডাবলহিটের চা খাওয়ার নেশা মোটেও সে হাতছাড়া করেনি।মানুষ কোন নেশায় পড়লে সহজে তা ছাড়তে পারেনা।

শিশির ও তার ব্যতিক্রমী নয়। শুধু যে খাবারের প্রতি নেশা তা কিন্তু না। রাতের এই পরিবেশ তাকে প্রবলভাবে আকৃষ্ট করে। তাইসুযোগ পেলে সে রাতে বাড়ি থেকে বের হয়। নিশাচরের মত রাতে শহরে রাস্তায় হাঁটে। তার যেন নির্দিষ্ট কোন গন্তব্য নেই,অবিশ্রান্ত পথ চলা। ল্যাম্প পোস্টের আলোয় নিজের যে ছায়া পড়ে সেইতার একমাত্র সঙ্গী। তবে সে সঙ্গী ক্ষণিকের কিছু সময় পর অন্ধকার তাকে গ্রাস করে। শিশিরের মুখের কোনায় সুক্ষ্ম হাসির রেখা ফুটে উঠলো তবে তা সুখের নয় বিষাদের।

লেখক তুহিন হোসাইন, (শিক্ষার্থী), ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।

পর্ব-৪. আসছে………………..

Tags

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close