টপ নিউজমতামত

‘সড়ক দুর্ঘটনার ভয়াবহতা থেকে নিষ্পত্তি প্রয়োজন’

প্রতিদিন দেশের কোথাও না কোথাও সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। এভাবে একের পর এক প্রাণ হারাচ্ছে বহু মানুষ । এদের মধ্যে যারা বেঁচে থাকে তাদের অধিকাংশ লোককে পঙ্গুত্ব নিয়ে থাকতে হয়। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউট (এআরআই) ১৯৯৮ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তথ্যের বিশ্লেষণে বলছে, ৯০ শতাংশ সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে কোনো না কোনোভাবে চালক দায়ী।

জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে ৪ হাজার ২১৯টি। এর আগের বছর সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৩১৭। অর্থাৎ এক বছরে দুর্ঘটনা কমেছে ৯৮টি। সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা কমে যাওয়ার পরও প্রাণহানি বাড়ার পেছনে মূল কারণ ছোট যানবাহন দাবি করছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়।

আমি মনে করি সড়ক দুর্ঘটনার জন্য শুধু চালকরাই যে দায়ী তা নয়, যাত্রী, পথচারী, ফুটপাত, স্কুল এবং অনেক সময় দেখা যায় বাচ্চারাও দৌড়ে রাস্তা পার হয়। অনেকেই আবার মুঠোফোন হাতে নিয়ে গাড়ি চালান।এতে করে দুর্ঘটনা ঘটে যায় যেকনো মূহুর্তে সুতরাং কমবেশি আমরা সবাই এর জন্য সমানভাবে দায়ী ।

তাছাড়াও পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যাবে যে, মালিকরা অতিরিক্ত আয় এবং ব্যাংক ঋণ দ্রুত পরিশোধ করার তাড়নায় চালকদের ওপর যে চাপ দেয়, তারাও অতিরিক্ত বেতনের আশায় চাপ নিয়ে গাড়ি চালায়। তখনই যাত্রীর নিরাপত্তার বিষয়টি গৌণ হয়ে যায়।

সড়ক ব্যবস্থাপনায় রাস্তাঘাটে যদি শৃঙ্খলা ফিরে না আসে, সংগঠিত যান-ব্যবস্থা যদি না থাকে, তাহলে মালিকদের মধ্যে যে প্রতিযোগিতা, চালকদের মধ্যে যে প্রতিযোগিতা, সড়কে ধীর গতিতে চলা যে যানবাহন আছে, তার কারণে ওভারটেকিং বাড়ে। যারা বেপরোয়া ভাবে গাড়ি চালাচ্ছে তারা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ফেলছে।হাজার হাজার গাড়ি চলছে লাইসেন্স ও ফিটনেসবিহীন আর এভাবেই সৃষ্টি হয় ভয়াবহ দুর্ঘটনা।

সড়ক দুর্ঘটনায় বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩তম।এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম।এর প্রতিকার নিয়ে সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক বলেন-“সড়ক দুর্ঘটনা রোধে বিদ্যমান আইনের প্রয়োগ জরুরি এবং আইনের কিছুটা সংস্কারও দরকার।”

সচেতনতা যদি না বাড়ে তাহলে শুধু আইন দিয়ে কোন লাভ হবেনা। তাই সচেতনতা ও আইন দুটোরই প্রয়োজন রয়েছে।

তদুপরি, আমরা সাধারণ পথযাত্রী এবং জনগন স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে চাই, ঝুকিপূর্ণ নয়। আমরা ত্রুটি পুর্ণ রাস্তার মেরামত এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নতি, মহাসড়ক,জেলা-উপজেলা পর্যায়ের রাস্তা গুলোতে বিশেষ ব্যবস্থা ( ওভারব্রিজ, পর্যাপ্ত লাইটিং) কামনা করছি। আমাদের সবার উচিত সাবধানতা অবলম্বন করা এবং গাড়ি চালকের উচিত ট্রাফিক আইন মানা, গাড়ি চালানোর সময় ফোনে কথা না বলা এবং সতর্কতা অবলম্বন করা। ফলে সড়ক দুর্ঘটনা কমে আসবে এবং সড়ক দুর্ঘটনা নামক আক্রান্ত ব্যাধি দূর হবে।

রুহুল আমিন
শিক্ষার্থী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

Tags

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close