পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়শিক্ষাসাক্ষাৎকার

‘ক্লিন ইমেজধারীরা কমিটিতে অগ্রাধিকার পাবে’-রুনু

রাবি ছাত্রলীগের হল সম্মেলন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) মোট ১৭টি আবাসিক হল রয়েছে। সব গুলো হল নিয়ে আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ছাত্রলীগের হল সম্মেলন। দীর্ঘ চার বছর পর হলে আসবে নতুন নেতৃত্ব। সম্মেলনকে ঘিরে ক্যাম্পাসে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। ইতোমধ্যে পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে ব্যানার-ফেস্টুনে ছেঁয়ে গেছে।

পদ-প্রত্যাশীরা চালাচ্ছেন প্রচার-প্রচারণা। বিশ্ববিদ্যালয়ের টুকিটাকি চত্বরে নেতাকর্মীদের ভীড়। হল সম্মেলনের প্রস্তুতি ও সার্বিক বিষয় নিয়ে দৈনিক আলোকিত ভোরের সাথে কথা বলেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু। সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক-সাঈদ সজল।

হল সম্মেলনকে সামনে রেখে আপনাদের প্রস্তুতি কেমন?
ফয়সাল আহমেদ রুনু: রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ে মোট ১৭টি আবাসিক হল রয়েছে। সবগুলো হলের সম্মেলন একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। হল সম্মেলন কে ঘিরে প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে। সম্মেলনের উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়, প্রধান অতিথি থাকবেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন, প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য, বিশেষ অতিথি থাকবেন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ডা. আনিকা ফারিয়া জামান অর্ণা, বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি খালেদ হাসান নয়ন ও সহ-সম্পাদক শরিফুল ইসলাম সাদ্দাম। আমাদের সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত থাকবেন। এর আগে মনে হয় না কোন হল সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের দুই কা-ারী একসাথে উপস্থিত ছিলেন। সে জায়গা থেকে অনেক ভালো একটা সম্মেলন হতে চলেছে। সবগুলো হলে আমরা নতুন নেতৃত্ব দিতে পারবো বলে আশা রাখছি।

হল সম্মেলনকে কেন্দ্র করে প্রার্থীদের প্রস্তুতি কেমন বলে মনে করছেন?
ফয়সাল আহমেদ রুনু: আপনারা ইতোমধ্যে লক্ষ্য করেছেন হল সম্মেলনকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ, উদ্দীপনা কাজ করছে। তাছাড়া ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। পদ-প্রার্থীরা আবেদন ফরম সংগ্রহ করছে, চালাচ্ছেন তাদের প্রচারণা।
বিশ^বিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের হল সম্মেলনকে সফল করতে কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করছে?
ফয়সাল আহমেদ রুনু: আমরা রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয় ছাত্রলীগ ইতোমধ্যে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে হল সম্মেলের স্থান নির্বাচনের ব্যাপারে কথা বলেছি। আমরা শেখ রাসেল চত্বরেকে সম্মেলনের স্থান হিসেবে নির্বাচন করেছি। এছাড়াও আমরা প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় কথা বলেছি। যেহেতু কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নেতারা উপস্থিত থাকবেন সেহেতু বেশ জন-সমাগম হবে তাই আইন শৃঙ্খলার ব্যাপারেও কথা হয়েছে। এই আয়োজনের মাধ্যমে রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয় ছাত্রলীগ প্রমাণ করে দিবে তারা একটি সুসংগঠিত ও সুশৃঙ্খল ইউনিট।

বিভিন্ন সময় হলে সিট বাণিজ্য নিয়ে কথা হয়। নতুন কমিটিতে যারা আসবে তাদের কাছে কি প্রত্যাশা?
ফয়সাল আহমেদ রুনু: আমি ও আমার সভাপতি বিশ^বিদ্যালয় ছাত্রলীগের দায়িত্ব নেওয়ার পরে এরকম দুই-একটা সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি। আমরা শক্ত হাতে সেগুলো দমন করেছি। আমরা হল প্রশাসন, হল ছাত্রলীগের নেতৃত্ববৃন্দের সাথে কথা বলে এগুলো দূর করেছি। তারপরও যদি এরকম অভিযোগ আসে তাহলে ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে। আশা করছি নতুন নেতৃত্বে যারা আসবে তাদের কাছে প্রত্যাশা এব্যাপারে সতর্ক হবে। আর হল কমিটিতে ক্লিন ইমেজধারীদের বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। আমরা এমন নেতৃত্ব উপহার দিবো যাতে হল ছাত্রলীগ আরও সুসংগঠিত হবে এবং ছাত্রলীগের নেতৃত্বকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে সে প্রত্যাশা সকলের কাছে।

আমরা জানতে পেরেছি হল সম্মেলনের আবেদন ফি এক হাজার টাকা করে ধার্য করা হয়েছে। একটু বেশি বলে মনে করছেন অনেক নেতাকর্মীরা। সে সম্পর্কে আপনার মতামত কি?
ফয়সাল আহমেদ রুনু: আমার যতদূর মনে পড়ে, ২০১৫ সালে রানা ভাই ও বিপ্লব ভাইয়ের সময় হল সম্মেলনের ফি ছিল এক হাজার টাকা। সে জায়গা থেকে এক হাজার টাকা বেশি না। যতদূর মনে পড়ে, আমাদের ছাত্রলীগের সম্মেলনের সময় তিন হাজার টাকা দিয়ে আবেদন ফরম কিনেছিলাম। সে জায়গা থেকে হলের সম্মেলনের আবেদন ফি এক হাজার টাকা খুব বেশি না। আমি ও আমার সভাপতি দুজনে মিলে এটা ঠিক করেছি। তারপরও যদি কারো কোন ব্যক্তিগত সমস্যা থাকে সেটা আমরা বিবেচনায় নিয়ে দেখবো। এটা শুধুমাত্র হল সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থীদের আবেদন ফি।

কতজন প্রার্থী এই পর্যন্ত আবেদন করেছে?
ফয়সাল আহমেদ রুনু: সঠিক সংখ্যা আমি বলতে পারবো না। আমাদের যে দপ্তর সম্পাদক আছেন তিনি বলতে পারবেন। তবে তুলনামূলকভাবে অনেক আবেদন জমা পড়েছে। এখনও সময় আছে আমার মনে হয় আরও বেশি আবেদন পড়বে বাকি দিনে। কোন প্রার্থী সম্পর্কে কারো জানার থাকলে আমরা বলবো।

কেমন নেতৃত্ব আসবে বলে আশা করছেন?
ফয়সাল আহমেদ রুনু: ইতোমধ্যে আমরা ঘোষণা করেছি যারা দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির সাথে যুক্ত, দলের জন্য পরিশ্রম, ত্যাগ আছে তারাই নেতৃত্বে আসবে। সৎ, যোগ্য, পরিশ্রমী ও ক্লিন ইমেজধারী হল কমিটিতে অগ্রাধিকার পাবে। যারা সংগঠনের জন্য কাজ করেছে, বিভিন্ন সময় সংগঠনে অবদান রেখেছেন আমরা চাই আগামীর নেতৃত্বে তারাই আসুক। পাশাপাশি দলের ছত্রছায়ায় থেকে যারা বিভিন্ন সময় অনৈতিক কর্মকা-ের সাথে জড়িয়ে সংগঠনকে কলুষিত করেছে তারা কখনও নেতৃত্বে আসতে পারবে না।

আলোকিত ভোর: এতক্ষণ সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
ফয়সাল আহমেদ রুনু: আপনাকেও ধন্যবাদ।

Tags

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
You cannot copy content of this page
Close
Close