ক্রিকেটখেলাধুলা

ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস খেলে আহত লিটন!

স্পোর্টস ডেস্ক: ব্যাট হাতে ছিলেন স্বচ্ছন্দে। তবে শরীরটা ফিট ছিল না! সময় গড়ানোর সঙ্গে পা বেশ ভোগাচ্ছিল। রান নিতে খোঁড়াচ্ছিলেন। ওয়েসলি মাধেভেরেকে বিশাল ছক্কা হাঁকানোর পর আর পারলেন না লিটন দাস। ফিজিওর সঙ্গে মাঠ ছাড়লেন তিনি। এর আগে ছাড়িয়ে গেছেন ওয়ানডেতে নিজের আগের সেরা ইনিংস।

আগের ওভারেই ডোনাল্ড তিরিপানোকে ৩টি চার মারেন লিটন। একবার হেলমেটে বল লাগলেও থমকে যাননি। কিন্তু মাধেভেরেকে ছক্কা মারার পর মাঠ ছাড়তেই হয় তাকে। রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে সাজঘরে ফেরত আসেন তিনি। এসময় তার রান ছিল ১০৫ বলে ১২৬। সেই পথে ১৩ চার ও ২ ছক্কা মারেন লিটন। ওয়ানডেতে তার আগের সেরা ভারতের বিপক্ষে ১২১, এশিয়া কাপে।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৪৩ ওভার শেষে ৩ উইকেটে ২৪১ রান করেছে বাংলাদেশ। মোহাম্মদ মিঠুন ২০ রান নিয়ে ব্যাট করছেন। ১৮ রান নিয়ে তাকে সঙ্গ দিচ্ছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। এ ম্যাচ দিয়ে দীর্ঘ ৭ মাস পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। প্রত্যাবর্তনেই টসভাগ্যে জেতেন তিনি। রোববার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তাতে জিতে আগে ব্যাটিং নেন টাইগার অধিনায়ক।

তার সিদ্ধান্তকে যৌক্তিক প্রমাণ করেন দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও লিটন দাস। উড়ন্ত সূচনা এনে দেন তারা। ওপেনিংয়ে ৬০ রান তোলেন এ জুটি। ব্যক্তিগত ২৪ রানে উইসলি মাধেভেরের এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন তামিম। অবশ্য ব্যাটিংয়ে তেমন সাবলীল ছিলেন না তিনি। সর্বোপরি, রিভিউ নিলেও শেষরক্ষা হয়নি ড্যাশিং ওপেনারের। তবে শুরু থেকেই স্বচ্ছন্দে ছিলেন লিটন দাস। ছন্দময় ব্যাট করেন তিনি। ব্যাটে ছোটান স্ট্রোকের ফুলঝুরি। পথিমধ্যে ফিফটি তুলে নেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান। সেই যাত্রায় তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ক্রিজে নামার পর থেকেই জিম্বাবুয়ে বোলারদের শাসান তিনি। তেড়েফুড়ে খেলেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

কিন্তু বিধিবাম! আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্তের শিকার হয়ে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন শান্ত। তিনোতেন্দা মুতম্বোদজির বলে ফেরার আগে ২৯ রান করেন তিনি। পরে বল ট্র্যাকিংয়ে দেখা যায়, ইম্প্যাক্ট ছিল স্টাম্পের বাইরে। বলটি কোনোভাবেই স্টাম্পে লাগছিল না। রিভিউ ছিল না বলে এ সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেননি শান্ত। কারণ, আগেই তা নষ্ট করেন তামিম। তাতে ভাঙে ৮০ রানের জুটি।

তবে আস্থার সঙ্গে খেলে যান লিটন। ব্যাটে ছোটান রানের ফোয়ারা। ধীরে ধীরে সেঞ্চুরির পথে এগিয়ে যান তিনি। স্বাভাবিকভাবেই তিন অংকের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেন উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান। এটি তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় শতক। ২০১৮ সালে এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি করেন এ ব্যাটার। দুই বছর পর পেলেন আরেকটি। তিন অংক ছোঁয়ার পথে লিটনের ব্যাট থেকে আসে ১০ চার ও ১ ছক্কা।

এসময়ে তার সঙ্গে জোট বাঁধেন মুশফিকুর রহিম। দারুণ খেলেন তারা। তাতে দ্রুত ঘোরে বাংলাদেশের রানের চাকা। বড় স্কোরের পথে এগিয়ে যেতে থাকেন লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। তবে হঠাৎ ছন্দপতন। লিটনের সেঞ্চুরির পরই বিদায় নেন মুশফিক। ডোনাল্ড তিরিপানোর শিকার হওয়ার আগে তিনি করেন ১৯ রান। তবে কোনো বাউন্ডারি মারতে পারেননি একমাত্র টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকানো মিস্টার ডিপেন্ডেবল।

Tags

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close