পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়শিক্ষা

হঠাৎ করে বিভাগের নাম পরিবর্তন অসম্ভব- রাবি উপাচার্য

রাবি প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) পপুলেশন সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট বিভাগের নাম পরিবর্তনের সভা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান বলেছেন, একটি বিভাগের নাম হঠাৎ করে পরিবর্তন করা অসম্ভব। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিভাগ খোলার নির্দিষ্ট লক্ষ্য-উদ্দেশ্য থাকে । শিক্ষার্থীরা যে সমস্যাগুলোর সম্মুখীন হচ্ছেন, সেগুলো সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে কার্যকর পদক্ষেপ নিবে।

সিনেটে যুক্তি উপস্থাপনের সভার ছবি

সোমবার (২ মার্চ) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবনে পপুলেশন সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট বিভাগের নাম পরিবর্তনের যৌক্তিকতা যাচাই বাছাই এর সভায় তিনি একথা বলেন।

বৈঠকে বিভাগের নাম পরিবর্তনে সম্মত না হয়ে উপাচার্য শিক্ষার্থীদের কয়েকটি নির্দেশনা দেন। সেগুলো হলো- বিভাগের কারিকুলাম যুগোপযোগী করা, বিভাগের পরিচিতি বৃদ্ধির ব্যাপারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা, সাবেক শিক্ষার্থীদের নিয়ে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠন করা এবং বিভাগ ও অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সমন্বয়ে পিএসসি, জনপ্রশাসন মন্ত্রাণলয়সহ চাকরি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রসমূহে বিভাগের পরিচিতি বৃদ্ধিতে কাজ করা।

দীর্ঘ চার ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে বিভাগের নাম পরিবর্তন করে ‘ফলিত পরিসংখ্যান’ করার পক্ষে-বিপক্ষে বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নিজেদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। সভায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নাম পরিবর্তনের দাবি মেনে নেয়নি। সরকারি কর্ম কমিশনে (পিএসসি) বিভাগের কোড অন্তর্ভূক্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেছে প্রশাসন। তবে বিভাগের শিক্ষার্থীরা এতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

শিক্ষার্থীদের অনশনের ছবি

সভায় শিক্ষার্থীরা বলেন, বিভাগটি প্রতিষ্ঠার ২৪ বছর পরও ব্যাপকভাবে পরিচিতি লাভ করতে পারেনি। এর ফলে বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় বৈষম্যের শিকার হতে হয়। আবার স্বতন্ত্র কোড না থাকায় পিএসসি’র নিয়োগ পরীক্ষাগুলোতে বেশ সমস্যায় পড়তে হয়। কারণ দেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে এই নামের কোনো বিভাগ নেই। ফলে আমরা মূলত নামের কারণে বৈষম্যের শিকার হচ্ছি।

শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, বিভাগের কোন ব্র্যান্ডিং না থাকায় অনেকেই এ সম্পর্কে জানেন না। বিভাগের কারিকুলামও যুগোপযোগী নয়। এই সমস্যাগুলোর সমাধান করতে হবে। বিভাগের নামের বৈষম্যের শিকার হওয়ায় নাম পরিবর্তনের দাবি জানাচ্ছি। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে এটি সম্ভব নয়।

পরে বিভাগের শিক্ষকরা বিভাগের নাম পরিবর্তন না করার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। তারা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফলিত পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের সিলেবাসের সঙ্গে রাবির পপুলেশন সায়েন্সের মাত্র ২০ শতাংশ মিল রয়েছে। তাই বিভাগের নাম পরিবর্তনের কোন যৌক্তিকতা নেই।

সভা শেষে শিক্ষার্থীরা জানান, আজকের সভার সিদ্ধান্তে তারা সন্তুষ্ট নন। তারা সমস্যাগুলোর একটি যৌক্তিক সমাধান চাই। বিভাগের শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়া, প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এমএ বারী, কোষাধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান, ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক মলয় ভৌমিক, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকগণ।

প্রসঙ্গত, পিএসসি’তে বিষয় কোড অন্তর্ভুক্তের দাবি জানিয়ে গত ১৯ জানুয়ারি থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে মানববন্ধন, অবস্থান কর্মসূচিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে ওই বিভাগের শিক্ষার্থীরা। তবে বর্তমানে বিভাগের নাম পরিবর্তন করে ফলিত পরিসংখ্যান করার দাবিতে তিনদিন ধরে আমরণ অনশন শুরু করে। পরে ২ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় ভিসির আহ্বানে আলোচনায় বসার আশ্বাসে টানা তিন দিনের আমরণ অনশন স্থগিত করেন শিক্ষার্থীরা।

Tags

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close