টপ নিউজমতামত

৭ই মার্চের ভাষণ: এক অমর কাব্য

ফরাসি মনোবিজ্ঞানী ও দার্শনিক ‘ফ্রাঞ্জ ফ্যানোর’ “জগতের লাঞ্ছিত ভাগ্যহত” গ্রন্থে স্পষ্ট উল্লেখিত, ‘অধিকার আদায়ে সহিংসতা আবশ্যক। আর এর একমাত্র পথ নির্যাতিতের স্বতঃস্ফূর্ততা’ এবং এটি আসে নির্যাতিতদের নির্মোহ অংশগ্রহণ এবং সর্বোচ্চ ঝুঁকি গ্রহণের মানসিকতা থেকে’। সে হিসেবে এই প্রক্রিয়ায় সাফল্য তখনই আসবে, ‘যখন কোনও যোগ্য নেতৃত্বে নির্যাতিতরা একাট্টা হবেন এবং বুঝবেন আঘাতের উৎকৃষ্ট সময়কে’।

অতীত-ইতিহাস জানে, একমাত্র ‘সময়ের’ যথার্থতা না বোঝায় হাজারো বিজয় পরাজয়ে এবং হাজারো পরাজয় জয়ে রূপান্তরিত হয়েছে। সে হিসেবে ১৯৪৭-১৯৭১, বাঙালির দীর্ঘ ২৩ বছরের শোষিত হওয়ার করুণ ইতিহাস নিরীক্ষণ করলে বোঝা যায়, মূলত এই সময়টায় এরা নিজেদের সংগ্রাম এবং যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করেছেন। আর ‘ফ্রাঞ্জ ফ্যানোর’ তত্ত্বমতে বলা যায়, বাঙালি ছিল সেই যথার্থ সময়ের অপেক্ষায়, কখন আঘাত হানবে পাকিস্তানিদের শোষণদুর্গে।

আর এই পুরো সংগ্রামের নেতৃত্বে ছিলেন বাঙালির প্রদীপ্ত প্রত্যয়ের প্রবাদপুরুষ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তবে এই সংগ্রাম এবং নেতৃত্বে প্রদানকালে তিনি বারবারই হয়েছিলেন জেল-জুলুমে জর্জরিত। তবে লক্ষণীয় বিষয়, সংস্কৃত নাট্যের ‘সূত্রধর’ চরিত্র যেমন নাটকের প্লট-কাঠামো বা ঘটনাচক্র সম্পর্কে ইঙ্গিত প্রদানে দর্শককে নেতৃত্ব দেন এবং নাটকের কায়দা-কানুন অনুসারে সরে যান; জেল-জুলুমের কারণে বাঙালির জীবনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবস্থাও ছিল ঠিক তেমনি।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ সেই ঐতিহাসিক ভাষণ দিচ্ছেন। (ফাইল ফটো)

সংগ্রাম-সংকট সম্পর্কে ইঙ্গিত এবং তা থেকে উত্তরণের পথনির্দেশ করে শোষণের নিয়ম অনুযায়ী প্রতিবার হয়েছেন জেলবন্দি। তবে মুক্তি-সংগ্রামের এই পুরো পরিক্রমণেই তিনি ছিলেন বাঙালির ‘দ্রোহের উত্তাপ এবং মস্তিষ্কের প্রগাঢ় সাহস’ হয়ে। ধারাবাহিক ‘দিকনির্দেশনা’য় নিয়ে গেছেন বাঙালিকে মুক্তির পথে। অনেকের মাঝে যার একটি হলো তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে দেওয়া ৭ই মার্চের ভাষণ।

ঐতিহাসিক প্রগাঢ়ত্ব অনুভবে যাকে বিশ্ব ঐতিহ্যের ধারক এবং নিরীক্ষণকর্ম পরিচালনাকারী ইউনেস্কো ২০১৯ সালে ‘ওয়ার্ল্ড ডকুমেন্টারি হেরিটেজ’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। যদিও এই ‘স্বীকৃতি স্বস্তি’ ঔপনিবেশিক চিন্তার ফলাফল। তাছাড়া বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ যেভাবে বিশ্বব্যবস্থায় বুক চিতিয়ে এগোচ্ছে তাতে এই দেশের স্ট্যান্ডার্ডই আগামী বিশ্বের ‘মানদণ্ড পরিমাপক’ হবে।

তবে এটাও সত্য, ইউনেস্কোর এই দালিলিক স্বীকৃতিকে বিশ্ব বাঙালি সম্মান জানায়। নিজেদের কর্মযোগ্যতা পরীক্ষণে এখন বাঙালি হয়ে উঠছেন প্রবল আত্মবিশ্বাসী।

তবে পঞ্জিকায় থাকা ১২ মাসের মাঝে ৭১-এর মার্চের একটা আলাদা গুরুত্ব আছে। কারণ, এ মাসেই রচিত হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা ওড়ানোর স্পর্ধা। বঙ্গবন্ধু দিয়েছিলেন সেই ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ‘প্রেম-দ্রোহ-স্পর্ধার’ ঝাঁঝালো সুর। আর তাতে প্রতিধ্বনিত হয়েছিল বাঙালির মুক্তি অর্জনের ইস্পাতকঠিন প্রতিজ্ঞা।

যদিও এই তল্লাটের কেউ কেউ আজও ৭ই মার্চের সেই ভাষণ এবং মহাসমাবেশের গূঢ়ার্থ খুঁজতে এবং বুঝতে খাবি খান। তবে এটা বিশেষ দোষের কিছু নয়। কারণ, বঙ্গবন্ধুর যে দর্শনচিন্তা এবং প্রজ্ঞা, তার উচ্চতা মাপজোখ করার মতো ‘যোগ্য জনম’ আজও হয়তো এখানটায় হয়ে উঠেনি। তবু স্পর্ধার অনুরণনে একে বিশ্লেষণ করলে দাঁড়ায়-

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে চরম মুহূর্তগুলোতেও সংগঠিত থাকার আহ্বান এবং
পশ্চিম পাকিস্তান কর্তৃক হত্যা-গুমে নেতৃত্বশূন্য হয়ে গেলেও স্বাধীনতা অর্জনের জন্য স্পষ্ট দিকনির্দেশনা।
এককথায়, একটি জাতি-রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটানোর জন্যে যা যা প্রয়োজন ছিল তার সব দিকনির্দেশনাই ছিল সেই ভাষণে। সরাসরি ভাষণ সম্পর্কে বয়ান করলে দাঁড়ায়,

‘সামরিক বাহিনীর সব লোককে ব্যারাকে ফেরত যেতে হবে। হত্যার তদন্ত করতে হবে। আর জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে’।
এর মাধ্যমে শেখ মুজিব বুঝিয়েছেন, তাঁর লড়াই গণতন্ত্রের তাগিদে মানুষের জন্য। এবং স্বৈরশাসন থেকে উদ্ধারের আগ পর্যন্ত এ লড়াই চলবে। পাশাপাশি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা প্রদানের বিকল্প নেই।

‘প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল। তোমাদের যার যা কিছু আছে তা নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে এবং জীবনের তরে রাস্তাঘাট যা যা আছে সবকিছু- আমি যদি হুকুম দেবার নাও পাড়ি, তোমরা বন্ধ করে দেবে’।

অর্থাৎ, পাকিস্তানিরা যে তাঁকে যেকোনও সময় গ্রেফতার করে গুম করতে পারেন সেই ধারণা তার ছিল। আর এ কারণেই প্রয়োজনে বাঙালি যেন নেতৃত্ব দেওয়ার সাহস রাখেন সেই নির্দেশনা দিয়েছেন। এর পাশাপাশি শত্রুর কাছ থেকে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনার লড়াইয়ে টিকে থাকার পন্থাও দিয়ে গিয়েছিলেন।

‘শোনেন মনে রাখবেন, শত্রু বাহিনী ঢুকেছে, নিজেদের মধ্যে আত্মকলহ সৃষ্টি করবে, লুটতরাজ করবে। এই বাংলায় হিন্দু মুসলমান, বাঙালি-নন বাঙালি, যারা আছে তারা তোমাদের ভাই, তাদের রক্ষার দায়িত্ব আপনাদের উপরে, আমাদের যেন বদনাম না হয়।’

এই আহ্বান বাঙালির হাজার বছরের সম্প্রীতির সংস্কৃতিকে মনে করিয়ে দেয়। মনে পড়ে যায় বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের গান—‘গ্রামের নওজোয়ান, হিন্দু-মুসলমান মিলিয়া বাউলা গান আর মুর্শিদি গাইতাম, আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম’। আর এই সম্প্রীতি এবং সম্মানবোধ বাঙালি মুক্তিযুদ্ধের শেষমুহূর্ত পর্যন্ত ধরে রেখেছিল।

‘মনে রাখবেন রেডিও টেলিভিশনের কর্মচারীরা, যদি রেডিওতে আমাদের কথা না শোনেন, তাহলে কোনও বাঙালি রেডিও স্টেশনে যাবেন না। যদি টেলিভিশন আমাদের নিউজ না দেয়, কোনও বাঙালি টেলিভিশনে যাবেন না’।

সেদিনের প্রতিবাদী আচরণেই ধ্বনিত হয়েছিল, আক্রমণ নয়, ওদের প্রতি সামান্য অসহযোগিতাই যথেষ্ট ছিল শেখ মুজিবের সঙ্গে বাঙালির সম্পর্ককে বোঝাতে।

‘…কিন্তু যদি এই দেশের মানুষকে খতম করার চেষ্টা করা হয়, বাঙালি বুঝেশুনে কাজ করবেন।’

‘মনে রাখবা, রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেবো। এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশআল্লাহ।’

এ প্রসঙ্গ নিয়ে বলার আগে উপমহাদেশের অসামান্য দেশপ্রেমিক বাঙালি বীর ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা ও আজাদ হিন্দ ফৌজের সর্বাধিনায়ক নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর একটি বিখ্যাত উক্তি প্রকাশ জরুরি। তিনি বলেছিলেন, ‘তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেবো’। অর্থাৎ, এক পক্ষ রক্ত দিলে তিনি আরেক পক্ষ থেকে স্বাধীনতা এনে দেবেন। তিনি জনতার কাছে রক্ত চেয়েছেন স্বাধীনতা আনার জন্য। আর এখানেই বঙ্গবন্ধুর মুনশিয়ানা। তিনি সুভাষচন্দ্রের মতো রক্ত চাননি।

বরং প্রাচীন থিবির নগরীর রাজা ঈদিপাসের মতো জনগণের সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছেন। থিবির জনগণকে আপন অনুভবে রাজা ঈদিপাস যেমন ‘হে আমার সন্তানেরা’ সম্বোধন করেছিলেন, বঙ্গবন্ধু তাঁর জনগণকে সম্বোধন করেছেন,‘ভাইয়েরা আমার’। এরপর সেই রাজা যেমন জনগণের দুর্দশা মোচনে নির্দেশনা এবং চেষ্টারত ছিলেন, বঙ্গবন্ধুও তেমনি তাঁর জনগণকে সমস্যা থেকে রক্ষায় ৭ই মার্চের ভাষণে নির্দেশনা এবং মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করে গেছেন।

পাশাপাশি নিজেকে জনগণের সঙ্গে এক সত্তার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বলেছেন, ‘রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেবো’, যা তাঁকে জনতার ‘হৃদয় মসনদে’ বসিয়েছে আরও প্রতাপের সঙ্গে। যেখানে জনগণ দেখেছেন ‘তাদের জন্য, তাদের হয়ে, তাদের নেতা’ রক্ত দিতেও প্রস্তুত। আর এতেই আরও আবেগ, বিশ্বাস ও নির্ভরতা তৈরি হয় জনতার মাঝে।

‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম’।

স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে নিউজ উইক ম্যাগাজিন বঙ্গবন্ধুকে পোয়েট অব পলিটিক্স খেতাবে আখ্যায়িত করেছেন। রাজনীতির কবির ৭ই মার্চের সেই ভাষণ আজও অনুরণিত হয় সর্বত্র। তবে একে খণ্ডনে আজও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, দার্শনিক ও চিন্তকরা বিস্মিত হন। কারণ, একটি সামরিক সরকারের বন্দুকের নলের মুখেও এত কৌশলে, নান্দনিকভাবে দিকনির্দেশনা ও স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়া যায় সেটা একমাত্র বঙ্গবন্ধুই দেখিয়ে গেছেন।

সেদিনের সেই ভাষণে ‘ভাষার’ ব্যবহারেও ‘বঙ্গবন্ধু’ ছিলেন অভূতপূর্ব। ভাষাবিজ্ঞানী থেকে শুরু করে ভাষাচর্চাকারী, সবাই স্বীকার করেন, সেদিন শব্দচয়ন এবং শব্দের দ্যোতনায় ‘তিনি’ প্রকম্পিত করেছিলেন জনমানবের ‘হৃদয় স্টেশন’।

সেদিনের সেই ভাষণে তিনি ‘কলকাতা-নদীয়া অঞ্চলের বাংলা কিংবা প্রমিত ঘরানার শব্দ এবং বাচনভঙ্গিকে’ ঝেড়ে ঝংকার তুলেছিলেন ‘মেহনতি’ মানুষের মুখ নিঃসৃত শব্দ যোগাযোগকে। যা তাদের সম্মোহিত করেছিল তাৎক্ষণিকই। দীর্ঘ যাতনার পর তারা খুঁজে পেয়েছিল এমন এক নেতাকে, যিনি “তাদের ভাষায় কথা বলেন, তাদের মতো করে তাদের কথা চিন্তা করেন”।

যদিও বঙ্গবন্ধুর সেদিনের সেই সফল প্রায় দশ লক্ষাধিক লোকের জমায়েতের গতিপথ প্রসঙ্গে সাংবাদিক অ্যান্থনি মাসকারেনহাস কিছু ভিন্নমত দিয়েছেন। বাংলা এবং বাঙালির মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা তার ‘দ্য রেইপ অব বাংলাদেশ’ গ্রন্থে তিনি মত প্রকাশ করেছেন, ৭ই মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে যে বিপুল জনসমুদ্র হয়েছিল তাতে তিনি চাইলেই তাঁর এক তর্জনির ইশারায় ক্যান্টনমেন্ট দখলে নিতে পারতেন। তাঁর এই উক্তির পক্ষে পোক্ত যুক্তিও ছিল। কারণ প্রকৃতই–

‘তখন সার্বিক অবস্থা যা ছিল তাতে দেশের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবন্ধু চাইলেই তাঁর এক ‘তর্জনি’ ইশারায় বুলেটের সামনে দাঁড়িয়েও বাঙালি হাসিমুখে যেকোনও দুর্গ ভাঙতে প্রস্তুত ছিলেন।’

‘অন্যদিকে পূর্ব-বাংলায় সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত পাকিস্তানি জেনারেল টিক্কা খানের ওই জনসমুদ্রকে সামাল দেওয়ার কোনও সক্ষমতাই ছিল না।’

অর্থাৎ অ্যান্থনি মাসকারেনহাস’র চিন্তার ফলাফল হলো, এতে একদিকে বাংলার স্বাধীনতা অর্জন হতো ত্বরিতগতিতে এবং অন্যদিকে বাঙালির বিসর্জনের পরিমাণও হতো স্বল্প। ‘বাংলা ও বাঙালির’ প্রতি ‘অ্যান্থনির’ আবেগকে প্রত্যেক বাঙালি সম্মান করেন। তবে প্রকৃত বাস্তবতা হলো, সেদিন বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাঙালি যদি ক্যান্টনমেন্ট আক্রমণ করে বসতেন, তখন পশ্চিম পাকিস্তান সরকার বিশ্বদরবারে বাঙালিকে ‘প্রচার এবং প্রতিষ্ঠিত’ করতো ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী’ হিসেবে। আর ‘বঙ্গবন্ধু’কে প্রতিষ্ঠিত করতেন সেই বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা’ হিসেবে।

আর এতে তাদের খুব বেশি বেগ পেতে হতো না। কারণ, রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকার সুবাদে মুহূর্তেই তারা বিশ্বব্যাপী প্রচার করতে পারতো পাকিস্তান রাষ্ট্র ‘পূর্ব বাংলার বাঙালি’ নামক ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী’ দ্বারা আক্রান্ত’ হয়েছে। অন্যদিকে নির্বিচারে চালাতেন নিধন অভিযান। আর তখন এই তল্লাটের অবস্থা হতো ব্যর্থ স্বাধীনতাকামী জাতির মতো।

বুদ্ধিজীবী কিংবা কলমসৈনিকরা কলমের দাপটে অনেক পথেরই সন্ধান করতে পারেন। কিন্তু প্রশিক্ষণ এবং মাঠযুদ্ধ শতভাগ একই হয় না। তখন সেই যুদ্ধে নেতৃত্বদানকারীকে নিতে হয় সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। শোষণ থেকে মুক্তির লড়াইয়ে স্বতঃস্ফূর্ত জনতাকে নিয়ে খুঁজতে হয় বিকল্প পথ এবং আক্রমণের যথার্থ সময়, যা তাত্ত্বিক ‘ফ্রাঞ্জ ফ্যানোও’ বলেছেন। তবে এই স্বতঃস্ফূর্ততায় কিছু চোরাফাঁদও রয়েছে, যাতে পতিত হয়ে হাজারো স্বাধীনতাকামী জাতির মুক্তির স্বপ্ন মুখ থুবড়ে পড়েছে। বাঙালি জাতি বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সেই চোরাফাঁদ ডিঙ্গিয়ে স্বাধীনতার স্পর্ধাকে ধারণ করেছিলেন।

বিংশ শতকে জন্মেও একবিংশ শতকের চিন্তাকে তিনি ধারণ করতে পেরেছিলেন। এর ফলে বিশ্বের অন্যান্য মুক্তিকামী রাষ্ট্রের মতো ‘বাঙালি’ আজ আর কোনও বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী হিসেবে নয়। বরং বুক চিতিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ হিসেবে, ভবিষ্যতের বিশ্বনেতৃত্বধর রাষ্ট্র হিসেবে।

লেখক: সাঈদ সজল, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

sajol98ru@gmail.com

Tags

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close