টপ নিউজমতামত

করোনা প্রতিরোধে সচেতনতার বিকল্প নাই

চীনের উহান প্রদেশ থেকে উদ্ভূত মরণঘাতক করোনা ভাইরাসে ইতোমধ্যে আক্রান্ত হয়েছে লক্ষাধিক লোক। মারা গেছে প্রায় ৪ হাজারেরও অধিক। বিস্তার লাভ করেছে শতাধিক দেশে। বিশ্লেষকদের মতে প্রতিনিয়ত যে হারে এর ব্যাপকতা বেড়েই চলছে সেই আনুপাতিক হার ক্রমবর্ধমানভাবে চলমান থাকলে তার ভয়াবহতা হবে অকল্পনীয়।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ করোনা ভাইরাসের ঝুকিতে রয়েছে উচ্চমাত্রায়। আর এই জনবহুল দেশটিতে যেখানে সামান্য ডেঙ্গু প্রতিরোধ করাটাই কঠিন সেখানে করোনার প্রবেশ হলে তার বিস্তার ঠেকানো দূরূহ ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে। যেহেতু, এখন পর্যন্ত করোনার কার্যকরী কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কার করা সম্ভব হয়নি সেহেতু বাইরের দেশ থেকে আসা দেশি-বিদেশি লোকজনের সরকারিভাবে নিবিড় তত্ত্বাবধানের পাশাপাশি আমাদের করণীয় কিছু সচেতনতামূলক পদক্ষেপই হতে পারে এ থেকে পরিত্রাণের একমাত্র উপায়।

গবেষকরা জানান, ভাইরাসটি বাতাসে নয় বরং বস্তুভেদে এটি অবস্থান করে। হাতের উপর ভাইরাসটি ১০ মিনিটের মতো জীবিত থাকতে পারে। তাই সাবান কিংবা জীবাণু নাশক দ্বারা ভালোভাবে হাত ধোয়া হলে এর কার্যকারীতা নষ্ট হয়ে যায়।

করোনা মূলত উষ্ণ আবহাওয়ায় সহনশীল নয়। তাই, কষ্ট হলেও গরম পানি পান করা উচিত। মানব শরীরে সকল প্রকার জীবাণু প্রবেশের সদর দরজা হলো নাক–মুখ ও চোখ। তাই অহেতুক নাকে কিংবা চোখে হাত দেয়া থেকে বিরত থাকা আর সম্ভব হলে মাস্ক ব্যবহার উচিৎ। যথাসম্ভব লেবুর সরবতের সাথে প্রচুর পানি পান করা, মাছ-মাংস- ডিম ভালোভাবে সেদ্ধ করে খাওয়া, আধাসেদ্ধ খাবার খাওয়ার অভ্যাস পরিহার করা, অন-লাইনে ফুড প্রোডাক্ট কিংবা বাইরে থেকে আনার জন্য প্রোডাক্ট অর্ডারে সাবধানতা অবলম্বন করা, পানির সাথে ডেটল, স্যাভলন জাতীয় তরল মিশ্রিত করে নিয়মিত গোসল করা। কুশলাদি বিনিময়ে সতর্ক থাকা, এমনকি একান্তজন না হলে হাঁচি–কাশি আর জ্বর-ঠাণ্ডায় আক্রান্ত রোগীর কাছ থেকে নিরাপদ দুরত্ব বজায় রাখাই শ্রেয়।

মোস্তাফিজুর রহমান মিন্টু
শিক্ষাথী, সমাজকর্ম বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

Tags

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close