দেশজুড়ে

নওগাঁয় করোনা আশঙ্কায় ‘হোম কোয়ারেন্টাইনে’ ৪৪ জন

নওগাঁ প্রতিনিধিঃ- করোনা ভাইরাসের জীবানু থাকতে পারে, এমন আশঙ্কায় নওগাঁয় বিদেশ থেকে আসা গতকাল সোমবার পর্যন্ত ৪৪ ব্যক্তিকে নিজ বাড়িতে বিশেষ ব্যবস্থায় (হোম কোয়ারেন্টাইন) রাখা হয়েছে। তাঁদের ও তাঁদের পরিবারের লোকজনকে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় স্থাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসন।

জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আজ দুপুর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ৪৫ ব্যক্তি বিভিন্ন দেশ থেকে ফিরেছেন। তাঁদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৪৪ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন। একজন ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইন শেষ করে তাঁর শরীরে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ দেখা না দেওয়ায় তিনি বর্তমানে স্বাভাবিকভাবে জীবন-যাপন করছেন।

যে ৪৪ জন এখন হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন তাঁদের মধ্যে সদর উপজেলায় ১ জন, রাণীনগরে ২ জন, আত্রাইয়ে ১২ জন, মহাদেবপুরে ২ জন, নিয়ামতপুরে ২ জন, বদলগাছীতে ৩ জন, ধামইরহাটে ১ জন এবং সাপাহার উপজেলায় ২১ জন ব্যক্তি আছেন। তাঁরা সম্প্রতি সিঙ্গপুর, মালয়েশিয়া, সৌদিআরব, ভারত, কুয়েতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে এসেছেন। বিদেশফেরত এসব ব্যক্তিদের নিজ নিজ বাড়িতে বিশেষ ব্যবস্থায় রাখা হয়েছে।
জেলার সাপাহার উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ২১ জন বিদেশফেরত ব্যক্তি হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন।

সাপাহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কল্যাণ চৌধুরী বলেন, বিদেশফেরত ব্যক্তি ও তাঁদের সংস্পর্শে আসা পরিবারের আপনজনদের কাউকে নিজ বাড়ি থেকে বের হতে দেওয়া হচ্ছে না। উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, স্বাস্থ্যকর্মী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তিদের ওপর নজরদারি রাখছেন। বিদেশফেরত ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যগত কোনো সমস্যা হলে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের নিকটবর্তী হাসপাতালে পাঠানো হবে। তাঁদের শরীরে করোনা ভাইরাসের জীবানু পাওয়া গেলে তৎক্ষণাৎ তাঁদেরকে হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে রেখে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হবে।

ডেপুটি সিভিল সার্জন মঞ্জুর-এ মোর্শেদ বলেন, বিদেশফেরত ব্যক্তিরা সবাই পুরোপুরি সুস্থ্য আছেন। তাঁদের শারিরীক কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। করোনাভাইরাস নিয়ে ভয়ের কিছু নেই। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কোনো রোগী পাওয়া গেলে তাঁদের চিকিৎসার জন্য সব ধরণের প্রস্তুনি নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য নওগাঁ সদরে পুরাতন হাসপাতাল এলাকার আবাসিক একটি ভবনকে আইসোলেশন ইউনিট করা হয়েছে। এখানে ৮০ জন রোগীকে রাখা যাবে।

এছাড়া নওগাঁ সরকারি কেডি স্কুল ক্যাম্পাস এলাকায় অবস্থিত সমাজসেবা অধিদপ্তরের একটি ভবনকেও আইসোলেশন ইউনিট করার জন্য প্রস্তুনি নেওয়া হয়েছে। এখানে ২০ জন রোগী থাকতে পারবেন। এছাড়া প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনটি করে বেড নিয়ে একটি করে আইসোলেশন ইউনিট করা হয়েছে। কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত ১৩০ জন রোগীকে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য সক্ষমতা রয়েছে নওগাঁয়।

Tags

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close