এক্সক্লুসিভ নিউজজাতীয়মুজিববর্ষ

অপেক্ষার পালা শেষ, এসেছে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ

অপেক্ষার প্রহর শেষ করে এসেছে ‘মুক্তির মহানায়ক’ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর সেই শুভক্ষণ। বেঁচে থাকলে বঙ্গবন্ধু আজ ১০০ বছরে পা দিতেন। তিনি বেঁচে নেই, তবে সময়ের ঘড়ি ঠিক ঠিক জানান দিচ্ছে কাল পরিক্রমায় এই দিনেই জন্ম হয়েছিল বাঙালি জাতির সহস্র বছরের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ মানব জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের। সেই শুভক্ষণ থেকেই শুরু হচ্ছে বঙ্গবন্ধু জন্মশতবার্ষিকী পালনের সব আয়োজন। \

বছরব্যাপী এই উৎসবের অনুষ্ঠান শেষ হবে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ। মঙ্গলবার রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণ শুরু হলেও রাষ্ট্রীয়ভাবে নেওয়া কর্মসূচি শুরু হবে ১৭ মার্চ মঙ্গলবার রাত ৮টায়। মঙ্গলবার ১৭ মার্চ রাত ৮ টায় ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে আতশবাজির মাধ্যমে শুরু হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় পিক্সেল শোর মাধ্যমে শেষ হবে বলে জানা গেছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভাষণ দেবেন। বঙ্গবন্ধুর ছোট কন্যা শেখ রেহানা তার অনুভূতি প্রকাশ করবেন। এরপর বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে শেখ রেহানার লেখা কবিতা প্রধানমন্ত্রীর আবৃত্তিতে প্রচার করা হবে। বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সংস্থার প্রধানদের বাণীও প্রচার করা হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। অন্যান্য অনুষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে থিম সং, যন্ত্র সঙ্গীত, শত শিশুর কণ্ঠে সঙ্গীত। অনুষ্ঠান শুরু করা হবে শিশুদের কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে। বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার কারণে এবং বাংলাদেশেও এ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়ায় আগে থেকে নির্ধারিত জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে পরিবর্তন এনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি সব গণমাধ্যমে সম্প্রচারের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে আমন্ত্রিত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সফরও বাতিল করা হয়েছে বলে ঘোষণা করা হয়।

উল্লেখ্য, ১৯২০ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া গ্রামের সেই অজপাড়াগায়ে জন্মেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেখান থেকে উঠে আসা শেখ মুজিব দীর্ঘ সংগ্রাম জেল জুলুমের মধ্য দিয়ে পর্যায়ক্রমে বাঙালি জাতির নেতা, স্বাধীনতার স্থপতি ও মহানায়ক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। কৃতজ্ঞ জাতির পক্ষ থেকে উপাধি পেয়েছিলেন ‘বঙ্গবন্ধু’। কৃতজ্ঞ জাতির পক্ষ থেকে সেই মহানায়কের জন্মশতবার্ষিকী পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে গঠিত হয়েছে ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন কমিটি’। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই কমিটির সভাপতি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালনের জন্য ক্ষণগণনা শুরু হয়েছিল চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি। ১৯৭২ সালের এইদিন বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে নিজের স্বাধীন বাংলাদেশে এসেছিলেন।

এ প্রসঙ্গ জানতে চাইলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব সাবেক সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী জানিয়েছেন, রাত আটটায় ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আতশবাজির মধ্য দিয়ে মুজিববর্ষের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এরপর দুই ঘণ্টাব্যাপী ধারণ করা একটি অনুষ্ঠান বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ সব বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে সম্প্রচারিত হবে। রাত ১০টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় পিক্সেল ম্যাপিং প্রদর্শনের মাধ্যমে মুজিববর্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষ হবে।

তিনি জানান, বঙ্গবন্ধু জন্মগ্রহণ করেছিলেন ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ রাত ৮ টায়। তাই সেই সময়ে আতশবাজিসহ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। আমরা আশা করি দেশের তৃণমূল পর্যায়ের মানুষ পর্যন্ত এই অনুষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারবেন এবং সরাসরি সম্প্রচারের কারণে সারা বিশ্বের মানুষ এটি উপভোগ করতে পারবেন।

সরকারিভাবে উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলেও দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন তৃণমূল পর্যায় থেকে সারাদেশে এবং দেশের বাইরে বছরব্যাপী এসব অনুষ্ঠান পালন করা হবে। দেশের বাইরে বিভিন্ন দূতাবাসেও এ অনুষ্ঠান পালিত হবে ছোট পরসরে। পরবর্তীতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভিন্ন সংস্থা ও বিভাগ থেকে নেওয়া কর্মসূচি বছরব্যাপী বাস্তবায়ন করবে।

মুজিববর্ষ উদযাপনে ২২ মার্চ বেলা ১১ টায় দুইদিনের বিশেষ অধিবেশন বসবে জাতীয় সংসদে। ২২ ও ২৩ মার্চ দুই দিনের এই অধিবেশনে বঙ্গবন্ধু জীবনমান, বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শন, বঙ্গবন্ধুর সারা জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কর্ম, জাতীয় সংসদের নেতা হিসেবে তার বলিষ্ঠ ভূমিকা, জনকল্যাণে বঙ্গবন্ধুর অবদানসহ তার জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করবেন সংসদ সদস্যরা। এই অধিবেশনই আমন্ত্রিত বিদেশি মেহমানদের বক্তব্য দেওয়ার কথা থাকলেও তা বাতিল করা হয়েছে। এর পরিবর্তেই বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ভাষণ দেবেন। সোমবারের (১৬ মার্চ) মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে রাষ্ট্রপতির দেওয়া সেই ভাষণের খসড়া অনুমোদন করা হয়েছে।

মুজিববর্ষ উদযাপনে মোট দু’টি জাতীয় পর্যায়ের কমিটি কাজ করছে। প্রথমটি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় উদযাপন কমিটি নামে গঠিত কমিটির প্রধান হলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই কমিটিতে আছেন স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, লেখক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, ক্রীড়াবিদ, সাংবাদিকসহ দেশের বিশিষ্টজনেরা। এর মোট সদস্য সংখ্যা ১২০ জন। এই কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ড. কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী।

দ্বিতীয়টি হলো- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি। এই কমিটির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। এর সদস্য সংখ্যা ৮০ জন। ড. কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী এই কমিটির প্রধান সমন্বয়ক। তিনি দুই কমিটিতেই প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব পদমর্যাদায় কাজ করছেন।

Tags

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close