ভুতুড়ে বিলে পিয়নের মাথায় হাত !

প্রকাশিত: ৪:৪০ অপরাহ্ণ, জুন ১০, ২০২১

ভুতুড়ে বিলে পিয়নের মাথায় হাত !

বিধান মজুমদার, মাদারীপুর:

বাড়ির বিদ্যুৎ বিল ২০ হাজার টাকা দেখে যেন মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়েছে এক স্কুল পিওনের । ২ ফ্যান,৩ বাতি, ১ ফ্রিজ ব্যবহারে বাড়ীর বিল ২০ হাজার টাকা কীভাবে আসলো! একটি স্কুলে মাসিক বেতন ১০হাজার টাকা, তা দিয়ে কোনোমতে খেয়ে না খেয়ে দিন পার করে দেন পরিবারের ৫ সদস্যকে নিয়ে। তারপরেও সবার খরচ চালিয়ে মাস শেষে কিছু না কিছু দেনা থাকতে হয় তার। গত মে মাসে বিদ্যুৎ বিল ২০ হাজার টাকা দেখে অসুস্থ্য হয়ে পড়েছে ছিলারচর এন্তাজউদ্দিন পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের পিওন আব্দুল হক মুন্সি। এ যেন মরার উপর খাড়ার ঘা, যেখানে নিজের পরিবারের খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হয় সেখানে ২০ হাজার টাকার বিল দিবে কীভাবে! তার বাড়ি মাদারীপুর সদর উপজেলার পশ্চিম রঘুরামপুর গ্রামে।

জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবৎ আব্দুল হক মুন্সি মাদারীপুুর পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের একজন নিয়মিত গ্রাহক, কখনো বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রাখে না। তাছাড়া তার সামন্য বেতনের চাকরির টাকা দিয়ে বিদ্যুৎ বিল দিয়ে সংসার চালাতে অনেক কস্ট হয়। তারপর কখনো বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রাখে না। দুটি ফ্যান, তিনটি বাতি ও একটি ফ্রিজ ব্যবহার করে পিছনের মাসে বিল এসেছে ২৪৪, ২০৩, ৩৬৬,৩৯৫, ৪৬২ টাকা সর্বচ্চো। কিন্তু মে মাসে একই বিদ্যুৎ ব্যবহার করলেও তার বিদ্যুৎ বিল ১০মে আসছে -১৮৮৫ ইউনিট যাহার মোট বিল হয়েছে প্রায় ২০হাজার টাকা। যাহা জুন মাসে পরিশোধ করতে হবে। যদি তারিখ মত পরিশোধ না করা হয়, তাহলে গুনতে হবে বাড়তি আরও ১হাজার টাকা জরিমানা। এমন বিদ্যুৎ বিল তৈরি করার আগেই গত ৩০মে বিদ্যুৎ বিল সংশোধন করে পুণরায় বিদ্যুৎ বিল করার আবেদন করা হলেও তার কোন ব্যবস্থা গ্রহন না করে। পুণরায় ১০জুন আবারও অফিস আবেদন করতে বলেন তদন্ত করার জন্য। এর আগে মিটার পরিবর্তন করে দিলেও বিল সংশোধন করা হয় নাই। এই বিদ্যুৎ বিলের কথা শুনে চিন্তায় চিন্তায় অসুস্থ্য হয়ে পড়ে এই বিদ্যুৎ গ্রাহক। যাদের কাছে যায় তারাই জানায় বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হবে।’

মোঃ আব্দুল হক মুন্সি বলেন, ২০ হাজার টাকার বিল দেখে আমি ২ দিন খাবার ও খাই নাই চিন্তায়। এতো টাকা কিভাবে পরিশোধ করমু, আমার বেতনের টাকার দুইগুন টাকা বিদ্যুৎ বিল আসছে। আমি এই নিয়ে দুই বার আবেদন করছি কোন সমাধান পাই নাই। প্রথম প্রথম অফিসে আসলে এইখানের বড় স্যার জানায় বিলতো আপনার মিটারে উঠছে আমরা কি করতে পারি। বিল পরিশোধ করতেই হবে। এই অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল সংশোধন করার অভিযোগ করলে একটি তদন্ত করা হয় যে, আমি অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ চালাই কিনা কিন্ত আমার বিদ্যুৎ বিল সংশোধন করে নাই তারা। আবার বৃহস্পতিবার আসলে আমাকে আবারও আবেদন করতে বলে। এই বিদ্যুৎ দিতে হলে আমাকে দেনা করে দিতে হবে, আর দেনা করলেই পরে দেনার টাকা কই পামু, আর এর একটা সমাধান চাই।

মাদারীপুর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির ম্যানেজার প্রকৌশলী সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেন জানান, বিষয়টি আমি নিজেই দেখতেছি এবং তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।’

মাদারীপুর জেলা প্রশাসক ড. রহিম খাতুন জানান, বিষয়টি অত্যান্ত দু:খজনক, আমি বিষয়টি পল্লী বিদ্যুৎতের ম্যানেজারকে জানাবো অতি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য।

ফেসবুকে আমরা

পুরাতন সব সংবাদ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

এই মাত্র পাওয়া